কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে যুবককে গুলি, পরে চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা
- আপডেট সময় ১১:০৭:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 21
ঢাকার কেরানীগঞ্জের আরশিনগরে সেলুনে ঢুকে ফরহাদ হোসেন (৩০) নামে এক যুবককে গুলি ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বজনদের দাবি, চাঁদা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে স্থানীয় একটি কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) বেলা ৩টার দিকে আরশিনগর এলাকার রাজ সেলুনে এ ঘটনা ঘটে। নিহত ফরহাদ আরশিনগরের মেম্বার গলিতে পরিবার নিয়ে থাকতেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি ভোলার দৌলতখান উপজেলার নুরাবাদ গ্রামে।
ফরহাদের বন্ধু আরিফ ও চাচাতো ভাই আখতার হোসেনের দাবি, মোহাম্মদপুরের মহিরগোলা এলাকায় ফুটপাতে মাছের ব্যবসা করতেন ফরহাদ। সেখানে আরমান, সোহেল, কাল্লু, সাব্বিরসহ সাত-আটজন তার কাছে চাঁদা দাবি করেছিল।
তাদের দাবি ছিল, ব্যবসা করতে হলে এককালীন ৫০ হাজার টাকা এবং প্রতিদিন আলাদা চাঁদা দিতে হবে। ফরহাদ এতে রাজি না হওয়ায় তাদের মধ্যে বিরোধ তৈরি হয়। স্বজনদের ভাষ্য, ওই বিরোধের জেরেই মঙ্গলবার দুপুরে ফরহাদকে সেলুনে হামলা চালিয়ে হত্যা করা হয়।
সেলুনের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে দেখা যায়, বেলা ৩টা ৭ মিনিটের দিকে তিনজন সেখানে প্রবেশ করে। তাদের মধ্যে দুজনের মাথায় ক্যাপ ছিল। সেলুনে ঢোকার আগেই একজন প্যান্টের পকেট থেকে পিস্তল বের করে ভেতরে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়েন।
গুলির শব্দে সেলুনে থাকা অন্য ব্যক্তিরা দৌড়ে বাইরে বের হয়ে যান। এরপর অপর দুজন কোমর থেকে ধারালো চাপাতি বের করে সেলুনের ভেতরে ঢোকেন।
ফরহাদ লুঙ্গি পরা অবস্থায় খালি গায়ে সেলুন থেকে বের হয়ে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় পেছন থেকে একজন তাঁর লুঙ্গি টেনে ধরলে তিনি আর পালাতে পারেননি। পরে আরেকজন তাকে এলোপাতাড়ি কোপাতে থাকেন। গুরুতর আহত অবস্থায় ফরহাদকে ফেলে রেখে হামলাকারীরা পালিয়ে যান।
পরে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা ফরহাদকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মোহাম্মদপুর থানা-পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ফরহাদ নিজেও কিশোর গ্যাং ‘পাটালি গ্রুপের’ সদস্য ছিলেন বলে পুলিশের দাবি। মোহাম্মদপুরের বোটঘাট ও ময়ূরভিলা এলাকায় বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার তথ্য রয়েছে। তার বিরুদ্ধে ছিনতাই ও চাঁদাবাজিসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলেও পুলিশ জানিয়েছে।
কেরানীগঞ্জ মডেল থানার ওসি রুহুল কুদ্দুস বলেন, প্রাথমিকভাবে তারা জানতে পেরেছেন, ঘটনায় জড়িত দুই পক্ষই মোহাম্মদপুরের রায়েরবাজার এলাকার। পূর্ববিরোধের জেরে তারা আরশিনগরে এসে এ ঘটনা ঘটিয়েছে। জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান বলেন, ফরহাদের মরদেহ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।




















