সাব-রেজিস্ট্রার বদলিতে চালু হচ্ছে লটারি পদ্ধতি
- আপডেট সময় ০৪:৪২:৩৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- / 44
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ঢাকায় সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে প্রথমবারের মতো লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে। সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে অনিয়মের অভিযোগ দূর করতেই এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক ও দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং সুশাসন নিশ্চিতকরণবিষয়ক সমন্বয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন আইনমন্ত্রী।
সাব-রেজিস্ট্রারদের বদলি প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, সাব-রেজিস্ট্রি বিভাগ নিয়ে মানুষের মধ্যে নানা প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ঢাকায় পোস্টিং পেতে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ শোনা যায়। এ কারণে ঢাকা শহরে সাব-রেজিস্ট্রার বদলির ক্ষেত্রে লটারি পদ্ধতি চালু করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ পদ্ধতি চালু হলে সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে যেসব অনিয়ম রয়েছে, সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বাক্স্বাধীনতা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, বাক্স্বাধীনতা, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও বিবেকের স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে ইয়েলো জার্নালিজম এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মানুষের চরিত্রহননের অপচেষ্টাও নিয়ন্ত্রণ করা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, সরকার ফ্রিডম অব এক্সপ্রেশন, ফ্রিডম অব স্পিচ ও ফ্রিডম অব কনসায়েন্স নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেভাবে মানুষের চরিত্রহননের চেষ্টা করা হয়, তা নিয়ন্ত্রণের দাবিও বিভিন্ন মহল থেকে আসছে।
সাইবার আইন-২০২৬ প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনটি যথেষ্ট নয়—এমন মতামতের পর তা সংশোধনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সংশোধনী প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় পাঠানো হলেও মানুষের বাক্স্বাধীনতার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আরও যাচাই-বাছাইয়ের জন্য তা একটি উপকমিটিতে পাঠানো হয়েছে।
তিনি জানান, সংশোধনী প্রস্তাব নিয়ে ইতোমধ্যে জনপরামর্শের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। প্রথম ধাপে জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পত্রিকা ও ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের সম্পাদকদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মতামতও নেওয়া হচ্ছে। সাংবাদিকদের কোনো পরামর্শ থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কমিটিতে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হবে।
রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজি প্রসঙ্গে মো. আসাদুজ্জামান বলেন, এসব কর্মকাণ্ড কঠোরভাবে দমন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে যেমন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তেমনি রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিএনপির কোনো নেতা এ পথে বাধা হয়ে দাঁড়ালে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী তাকেও বিবেচনায় নেওয়া হবে না।
নিজ এলাকার একটি ঘটনার উদাহরণ দিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, এক ইউনিয়ন বিএনপি নেতা এলাকায় অশান্তি তৈরি করছিলেন। তিনি প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। পরে প্রশাসনের পদক্ষেপে ওই নেতার এক বছরের কারাদণ্ড হয়েছে।
বিচার বিভাগের সংকট নিয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, অতীতে কয়েকজন বিচারপতি অর্থনৈতিকভাবে দুর্নীতিগ্রস্ত না হলেও বুদ্ধিবৃত্তিক দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের গণতন্ত্র ও আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এতে বিচারব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সরকার এখন সেটি মেরামতের কাজ করছে।
তিনি বলেন, বিচার বিভাগের সংস্কার ও মেরামতের কাজে কিছুটা সময় লাগবে। এ কাজে সাংবাদিকসহ সবার সহযোগিতা ও আস্থা প্রত্যাশা করেন তিনি।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, সরকারের এবং প্রধানমন্ত্রীর মূল লক্ষ্য সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। প্রতিশোধের রাজনীতিতে না গিয়ে দেশের মানুষের জন্য কাজ করতে হবে। সরকারি দলের নেতাকর্মীদেরও প্রধানমন্ত্রীর এই নীতি অনুসরণ করার আহ্বান জানান তিনি।
এর আগে সকাল ৯টায় সাতক্ষীরা জেলা জজ আদালতের সম্মেলনকক্ষে জেলা পর্যায়ের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন আইনমন্ত্রী। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে আয়োজিত সমন্বয় সভায় যোগ দেন তিনি।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মিজ কাউসার আজিজ। উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা-১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল খালেক, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রবিউল বাশার, সাতক্ষীরা-১, ২, ৩ ও ৪ আসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত মহিলা সংসদ সদস্য বিথীকা বিনতে হোসেন, খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি মো. মোস্তাফিজুর রহমান, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম হাবিব, পুলিশ সুপার আবু সালেহ মো. আশরাফুল আলম, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক রহমাতুল্লাহ পলাশ, বিজিবি ও র্যাবের অধিনায়ক, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের প্রধান, আইনজীবী সমিতির নেতৃবৃন্দ, প্রেসক্লাবের প্রতিনিধি, সুশীল সমাজ ও রাজনৈতিক দলের নেতারা।




















