ঢাকা ০২:১০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
নবম-দশম ওয়েজ বোর্ড একসঙ্গে বাস্তবায়ন: তথ্য উপদেষ্টা রাজশাহীতে ঢালারচর এক্সপ্রেস লাইনচ্যুত, বন্ধ রেল যোগাযোগ ‘অন্তহীন যুদ্ধ’ থেকে সরে আসার আহ্বান, পুতিনকে মোদির বার্তা জার্মানিতে দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম, অতিরিক্ত গরমে প্রাণ গেল প্রায় ১৬ হাজার মানুষের সপ্তাহখানেকের মধ্যে গ্যাস স্বাভাবিক: রিজভী হরমুজ সংকটে নভেম্বর পর্যন্ত এলএনজি সরবরাহ বাতিল রাখছে কাতার এনার্জি রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতি মামলায় সোহেল রানাসহ ৮ জনের রায় আজ রাজধানীতে ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৪৪২, উদ্ধার অস্ত্র ও মাদক ইন্দোনেশিয়ার দাবানলের ধোঁয়ায় মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ বায়ুদূষণ কোচসহ ৭ ক্রিকেটারকে ছাঁটাই করল পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড

জার্মানিতে দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম, অতিরিক্ত গরমে প্রাণ গেল প্রায় ১৬ হাজার মানুষের

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 13

ছবি সংগৃহীত

 

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানলে বিপর্যস্ত জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্ম রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম হিসেবে। অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গ্রীষ্মের শেষ দিন সোমবার (৩১ আগস্ট) জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর ডিডব্লিউডি জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন  ২০ জেলায় তাপপ্রবাহ, আছে ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস

এর আগে ২০০৩ সালে জার্মানিতে গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখনো দেশটির সর্বোচ্চ রেকর্ড। ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা নিয়ে এবারের গ্রীষ্ম দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ছিল ২২ দিন

ডিডব্লিউডির তথ্য অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে জার্মানিজুড়ে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন পারদ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়। এই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

অতিরিক্ত গরমে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু

জার্মানির রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে জুনের শেষ দিকে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহেই আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিডব্লিউডি জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে তীব্র। এই পরিস্থিতির পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

খরার প্রভাবে ব্যাহত নৌ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম

তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী খরাও জার্মানির জনজীবন ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফেরি চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে।

অস্ট্রিয়ায় ২৬০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম গ্রীষ্ম

তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে জার্মানির প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়াতেও। দেশটির প্রায় ২৬০ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এবারের গ্রীষ্মকে সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবারই প্রথম অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করেছে।

রেকর্ড তাপমাত্রা, ব্যাপক প্রাণহানি, দীর্ঘ খরা ও দাবানলের ঘটনায় ইউরোপের এই দুই দেশের এবারের গ্রীষ্ম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

জার্মানিতে দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম, অতিরিক্ত গরমে প্রাণ গেল প্রায় ১৬ হাজার মানুষের

আপডেট সময় ০১:১৩:৩৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

তীব্র তাপপ্রবাহ, দীর্ঘস্থায়ী খরা ও দাবানলে বিপর্যস্ত জার্মানিতে এবারের গ্রীষ্ম রেকর্ড বইয়ে জায়গা করে নিয়েছে দেশটির ইতিহাসের দ্বিতীয় উষ্ণতম গ্রীষ্ম হিসেবে। অতিরিক্ত তাপমাত্রাজনিত কারণে চলতি বছর এখন পর্যন্ত প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

গ্রীষ্মের শেষ দিন সোমবার (৩১ আগস্ট) জার্মানির আবহাওয়া অধিদপ্তর ডিডব্লিউডি জানায়, জুন থেকে আগস্ট পর্যন্ত তিন মাসে দেশটির গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

আরও পড়ুন  তীব্র গরম থেকে বাঁচতে কাজে দেবে যে উপায়গুলো

এর আগে ২০০৩ সালে জার্মানিতে গ্রীষ্মকালীন গড় তাপমাত্রা ছিল ১৯ দশমিক ৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, যা এখনো দেশটির সর্বোচ্চ রেকর্ড। ফলে মাত্র শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি কম তাপমাত্রা নিয়ে এবারের গ্রীষ্ম দ্বিতীয় উষ্ণতম হিসেবে রেকর্ড হয়েছে।

৩০ ডিগ্রির বেশি তাপমাত্রা ছিল ২২ দিন

ডিডব্লিউডির তথ্য অনুযায়ী, এবারের গ্রীষ্মে জার্মানিজুড়ে গড়ে ২২ দিন তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের ওপরে ছিল। এর মধ্যে প্রায় পাঁচ দিন পারদ ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যায়।

জুনের শেষ দিকে দেশটির কয়েকটি অঞ্চলে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি সেলসিয়াসেরও বেশি রেকর্ড করা হয়। এই তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী তাপপ্রবাহ মানুষের স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।

অতিরিক্ত গরমে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু

জার্মানির রবার্ট কখ ইনস্টিটিউটের (আরকেআই) হিসাব অনুযায়ী, চলতি বছরের ১৬ আগস্ট পর্যন্ত অতিরিক্ত তাপের কারণে প্রায় ১৫ হাজার ৮০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

এর মধ্যে জুনের শেষ দিকে আঘাত হানা ভয়াবহ তাপপ্রবাহেই আনুমানিক ৯ হাজার ৬০০ মানুষের প্রাণহানি ঘটে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিডব্লিউডি জানিয়েছে, জুনের শেষের তাপপ্রবাহ ছিল বিশেষভাবে তীব্র। এই পরিস্থিতির পেছনে মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব রয়েছে বলেও মনে করছে সংস্থাটি।

খরার প্রভাবে ব্যাহত নৌ ও অর্থনৈতিক কার্যক্রম

তীব্র গরমের পাশাপাশি দীর্ঘস্থায়ী খরাও জার্মানির জনজীবন ও অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলেছে। পানির স্তর কমে যাওয়ায় দেশটির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ রাইন নদীতে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচলে সমস্যা দেখা দিয়েছে।

কিছু এলাকায় পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর হয়ে ওঠে যে ফেরি চলাচলও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয়েছে। একই সময়ে পশ্চিম জার্মানির কয়েকটি অঞ্চলে বড় ধরনের দাবানলের ঘটনাও ঘটেছে।

অস্ট্রিয়ায় ২৬০ বছরের মধ্যে উষ্ণতম গ্রীষ্ম

তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব পড়েছে জার্মানির প্রতিবেশী দেশ অস্ট্রিয়াতেও। দেশটির প্রায় ২৬০ বছরের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের ইতিহাসে এবারের গ্রীষ্মকে সবচেয়ে উষ্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

এবারই প্রথম অস্ট্রিয়ায় তাপমাত্রা ৪১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের সীমা অতিক্রম করেছে।

রেকর্ড তাপমাত্রা, ব্যাপক প্রাণহানি, দীর্ঘ খরা ও দাবানলের ঘটনায় ইউরোপের এই দুই দেশের এবারের গ্রীষ্ম জলবায়ু পরিবর্তনের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।