যৌথ উদ্যোগে অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন সম্ভব: প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৮:৪৯:১০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ অগাস্ট ২০২৬
- / 26
সরকার ও ব্যবসায়ীরা সমন্বিতভাবে কাজ করলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শনিবার, ১ আগস্ট তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) উদ্যোগে বেসরকারি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব হাসান শিপলু জানান, বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের কল্যাণে কাজ করাই সরকারের মূল লক্ষ্য। বিভিন্ন ক্ষেত্রে কিছু সমস্যা থাকলেও সরকার ও ব্যবসায়ীরা একসঙ্গে কাজ করলে সেসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা সম্ভব।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনীতির বিদ্যমান সমস্যাগুলো সম্পর্কে সরকার যেমন সচেতন, তেমনি ব্যবসায়ীরাও বাস্তব পরিস্থিতি উপলব্ধি করছেন। এসব সমস্যা সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করছে এবং এ বিষয়ে ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসও পূর্ণ হয়নি। এর মধ্যেই একাধিক বৈঠকের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের মতামত নেওয়া হয়েছে। প্রথমে সরাসরি উদ্যোক্তাদের সঙ্গে এবং পরে সংশ্লিষ্ট ফোরামের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। বিভিন্ন খাতভিত্তিক সমস্যার সমাধানেও সরকার কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
আগের বৈঠকে ব্যবসায়ীরা যেসব সমস্যা তুলে ধরেছিলেন, সেগুলোর উল্লেখযোগ্য অংশের সমাধান হয়েছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, এবারের বৈঠকেও নতুন কিছু বিষয় সামনে এসেছে এবং সেগুলো নিয়েও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আগামী দুই থেকে তিন মাসের মধ্যে আবারও ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সম্পর্কে আরও ভালোভাবে জানা এবং কার্যকর সমাধান বের করা সম্ভব হবে।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে খোলামেলা সংলাপের মাধ্যমে কার্যকর সমাধানের পথ তৈরি হয়। সরকার ও বেসরকারি খাতের এই সহযোগিতা অব্যাহত থাকলে আগামী চার থেকে পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব হবে।
বৈঠকে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নতুন শিল্পায়নের পরিবেশ তৈরির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়। উদ্যোক্তারা সহজ শর্তে ঋণ, নীতিগত সহায়তা এবং আরও ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করে চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতিতেও সন্তোষ প্রকাশ করেন তারা।
সভায় জানানো হয়, আগের বৈঠকে আলোচিত ২৮টি সমস্যার মধ্যে ২১টির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং বাকি সাতটি বিষয় প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
এ সময় ২০৩০ সালের মধ্যে দেশের রপ্তানি আয় ১০০ বিলিয়ন ডলারে উন্নীত করার একটি রূপরেখা ব্যবসায়ীরা উপস্থাপন করেন। রপ্তানি বৃদ্ধি করতে কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেওয়ার আশ্বাস দেয় সরকার।
মতবিনিময় সভায় অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, সড়ক, সেতু, রেলপথ ও নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, প্রধানমন্ত্রীর অর্থ ও পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন শিল্পগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।


























