হুথিদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে সামরিক অভিযানের প্রস্তুতিতে সৌদি আরব
- আপডেট সময় ০২:৫২:২৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
- / 26
ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে সমুদ্র ও স্থলপথে বড় ধরনের সামরিক অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি আরব। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ইয়েমেনি সূত্রের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে, লোহিত সাগর দিয়ে সৌদি আরবের তেল রপ্তানিতে সম্ভাব্য বাধা মোকাবিলা এবং গুরুত্বপূর্ণ নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই এ প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য স্থল অভিযানের অংশ হিসেবে ইয়েমেনের পূর্বাঞ্চল থেকে সৌদি বাহিনীর কিছু সেনা প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সময়ে লোহিত সাগর ও বাব আল-মান্দাব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিরাপদ রাখতে বহুজাতিক একটি সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের উদ্যোগও নিয়েছে রিয়াদ।
সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তুরস্ক, পাকিস্তান, মিসর, সুদান, জিবুতিসহ ১৪টি দেশ যৌথ সামুদ্রিক নিরাপত্তা জোট গঠনের পক্ষে সমর্থন জানিয়েছে।
বর্তমানে হুথি বিদ্রোহীরা ইয়েমেনের রাজধানী সানা এবং লোহিত সাগর উপকূলের বিস্তীর্ণ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। গত ২০ জুলাই তারা সৌদি জাহাজের ওপর অবরোধের ঘোষণা দেয়। তবে আন্তর্জাতিক নৌপথ ব্যবহারকারী সব জাহাজের কাছ থেকে টোল আদায়ের পরিকল্পনার কথা তারা অস্বীকার করেছে।
হুথিদের দাবি, সৌদি আরব ইয়েমেনের ওপর আরোপিত অবরোধ তুলে নিলে তারাও সৌদি জাহাজের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার করবে। তাদের ভাষ্য, এ বিরোধ ইরানকে ঘিরে নয়; বরং ইয়েমেনের ভবিষ্যৎ নিয়ে। ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের পক্ষে হুথিদের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযানে যোগ দেয় সৌদি আরব।
লোহিত সাগরের নিরাপত্তা জোটে যুক্তরাষ্ট্রের পাশাপাশি জার্মানি, ফ্রান্স, যুক্তরাজ্য ও ইতালিকেও যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে রিয়াদ। যদিও ইউরোপীয় ইউনিয়নের ‘অ্যাসপিডেস’ নামে একটি নৌ মিশন ইতোমধ্যে ওই অঞ্চলে টহল দিচ্ছে।
গত ২৫ জুলাই হুথিরা দাবি করে, তারা সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলের তেলক্ষেত্র থেকে লোহিত সাগরের রপ্তানি বন্দরে যাওয়ার তেল পরিবহন অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, লোহিত সাগরের পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিও যদি সৌদি তেলবাহী জাহাজের জন্য অচল হয়ে পড়ে, তাহলে দেশটির তেল রপ্তানি বড় ধরনের সংকটে পড়তে পারে। ইরান-সংকট শুরুর আগে সৌদি আরবের প্রায় ৮০ শতাংশ তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে রপ্তানি হতো। বর্তমানে ইয়ানবু বন্দর হয়ে লোহিত সাগরপথে তেল রপ্তানির গুরুত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
গত দুই সপ্তাহে হুথি বিদ্রোহী ও সৌদি আরবের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে। হুথিদের দাবি অনুযায়ী, তারা সৌদি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে সৌদি বাহিনী হুথি-নিয়ন্ত্রিত হোদেইদা বন্দরে বিমান হামলা চালায়। একই সময়ে লোহিত সাগরে একটি সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজও হামলার শিকার হয়। এক দশকের বেশি সময় ধরে চলা ইয়েমেন সংঘাত সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।














