সিন্ধু নদীর পানি ইস্যুতে উত্তেজনা, ভারতকে হুঁশিয়ারি পাকিস্তানের
- আপডেট সময় ০২:৪৩:১৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
- / 9
সিন্ধু পানি চুক্তি ঘিরে ভারতকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছে পাকিস্তান। দেশটির জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মুসাদিক মালিক বলেছেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির প্রবাহে কেউ হস্তক্ষেপের চেষ্টা করলে তার কঠোর জবাব দেওয়া হবে। মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, কয়েক দশকের পুরোনো সিন্ধু পানি চুক্তি (আইডব্লিউটি) নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই পাকিস্তানের এ বক্তব্য এসেছে। ২০২৫ সালে পহেলগামে সন্ত্রাসী হামলার পর ভারত চুক্তিটি স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়। ওই হামলায় ২৫ জন পর্যটক ও একজন স্থানীয় বাসিন্দা নিহত হন।
এক সংবাদ সম্মেলনে মুসাদিক মালিক অভিযোগ করেন, ভারত পাকিস্তানের পানিপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করছে। তিনি বলেন, চুক্তি অনুযায়ী পাকিস্তানের প্রাপ্য পানির অংশ থেকে দেশটিকে বঞ্চিত করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডনের প্রতিবেদনের বরাতে তিনি দাবি করেন, একটি প্রতিবেশী দেশের প্রধানমন্ত্রী এমন মন্তব্য করেছেন, যাতে পাকিস্তানে এক ফোঁটা পানিও প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছে।
মুসাদিক মালিক বলেন, পাকিস্তানের ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। তার দাবি, পানিপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি হলে দেশের খাদ্যনিরাপত্তা, প্রায় অর্ধেক কর্মসংস্থান এবং অর্থনীতির প্রায় ২৫ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তান আগেও স্পষ্ট করেছে যে, প্রাপ্য পানি কেড়ে নেওয়ার যেকোনো চেষ্টা কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে। একই সঙ্গে তিনি আন্তর্জাতিক রীতিনীতির প্রসঙ্গ তুলে বলেন, বিশ্বের বহু নদীতেই আনুষ্ঠানিক চুক্তি না থাকলেও উজানের দেশ ভাটির দিকে পানিপ্রবাহ বন্ধ করে না। সেখানে দুই দেশের মধ্যে চুক্তি কার্যকর থাকা সত্ত্বেও পানি আটকে দেওয়ার যৌক্তিকতা নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে এনডিটিভি জানিয়েছে, পাকিস্তানের কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে মুসাদিক মালিকের বক্তব্য প্রকাশিত হলেও সংবাদমাধ্যমটি স্বাধীনভাবে এসব বক্তব্যের সত্যতা যাচাই করতে পারেনি।
একই সংবাদ সম্মেলনে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার বলেন, সিন্ধু পানি চুক্তি এখনো আইনগতভাবে কার্যকর রয়েছে। তার ভাষ্য, এই চুক্তি একতরফাভাবে স্থগিত, বাতিল বা সংশোধন করা সম্ভব নয় এবং এর আওতায় সিন্ধু নদব্যবস্থার পানির ওপর পাকিস্তানের জনগণের অধিকার বহাল রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ীও পাকিস্তানের অবস্থান সমর্থনযোগ্য। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ ও সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির একাধিকবার পানি ইস্যুকে দেশের ‘লাইফলাইন’ এবং ‘রেডলাইন’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন বলেও জানান তিনি।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ভারতের কেন্দ্রীয় পানিসম্পদমন্ত্রী সি আর পাটিল কয়েক সপ্তাহ আগে এক সাক্ষাৎকারে জানিয়েছিলেন, আগামী দেড় থেকে দুই বছরের মধ্যে সিন্ধু নদব্যবস্থার পানিতে ভারতের প্রাপ্য অংশ পুরোপুরি ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। তার দাবি ছিল, ভারতের জন্য নির্ধারিত এক ফোঁটা পানিও পাকিস্তানে যেতে দেওয়া হবে না।
বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ১৯৬০ সালে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানি চুক্তির আওতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু নদী এবং এর উপনদীগুলোর পানি বণ্টন ও ব্যবহার দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত হয়ে আসছে।















