ঢাকা ০৮:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ, নতুন বার্তা দিলেন ভারতের হাইকমিশনার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • / 31

ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করতে এসে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বিমানে সরাসরি ঢাকায় না এসে তিনি কলকাতা থেকে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সীমান্তে তাকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং দুপুরের দিকে রাজধানীতে পৌঁছান।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে তার এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, যখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে। বৈধ নথিপত্র দেখিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের মাধ্যমে নতুন হাইকমিশনার আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বের প্রতীকী বার্তা দিয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

আবার অনেকের মতে, সড়কপথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জনজীবন ও বাস্তব পরিস্থিতিকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে প্রতিবেশী দেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

এর আগে ভারতের আরেক হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীও সড়কপথে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে সে সময় করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমান ভ্রমণে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীর এমন সিদ্ধান্তকে তাই অনেকেই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও পরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।

নিউজটি শেয়ার করুন

সড়কপথে বাংলাদেশে প্রবেশ, নতুন বার্তা দিলেন ভারতের হাইকমিশনার

আপডেট সময় ০৩:১৫:৫০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬

বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণ করতে এসে ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ নিয়েছেন ভারতের নবনিযুক্ত হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। বিমানে সরাসরি ঢাকায় না এসে তিনি কলকাতা থেকে সড়কপথে পেট্রাপোল-বেনাপোল সীমান্ত হয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন, যা কূটনৈতিক অঙ্গনে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) সকালে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের পেট্রাপোল সীমান্তে পৌঁছে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন দীনেশ ত্রিবেদী। এরপর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে পাসপোর্ট ও ভিসা প্রদর্শনের মাধ্যমে বাংলাদেশে প্রবেশ করেন তিনি। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী মিনাল ত্রিবেদী। ঢাকাস্থ ভারতীয় হাইকমিশনের কর্মকর্তারা সীমান্তে তাকে স্বাগত জানান।

বাংলাদেশে প্রবেশের পর তিনি সড়কপথে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন এবং দুপুরের দিকে রাজধানীতে পৌঁছান।

কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এমন সময়ে তার এই সফর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে, যখন সীমান্ত ব্যবস্থাপনা ও অবৈধ অনুপ্রবেশ ইস্যুতে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে আলোচনা ও উদ্বেগ রয়েছে। বৈধ নথিপত্র দেখিয়ে সীমান্ত অতিক্রমের মাধ্যমে নতুন হাইকমিশনার আইনি প্রক্রিয়ার গুরুত্বের প্রতীকী বার্তা দিয়েছেন বলেও মনে করছেন অনেকে।

আবার অনেকের মতে, সড়কপথ বেছে নেওয়ার মাধ্যমে তিনি বাংলাদেশের ভূপ্রকৃতি, জনজীবন ও বাস্তব পরিস্থিতিকে কাছ থেকে দেখার আগ্রহের ইঙ্গিত দিয়েছেন। এতে প্রতিবেশী দেশের প্রতি তার আন্তরিকতা ও সম্পর্ক জোরদারের আগ্রহের প্রতিফলন ঘটেছে।

এর আগে ভারতের আরেক হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামীও সড়কপথে বাংলাদেশে এসেছিলেন। তবে সে সময় করোনা পরিস্থিতির কারণে বিমান ভ্রমণে নানা সীমাবদ্ধতা ছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে দীনেশ ত্রিবেদীর এমন সিদ্ধান্তকে তাই অনেকেই কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।

উল্লেখ্য, গত ২৭ এপ্রিল ভারত সরকার দীনেশ ত্রিবেদীকে বাংলাদেশে নতুন হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেয়। তিনি ঢাকায় ভারতের সাবেক হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মার স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন। প্রণয় ভার্মা বর্তমানে বেলজিয়ামে ভারতের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ভারতের রাজনীতিতে দীর্ঘদিন সক্রিয় থাকা ৭৫ বছর বয়সী দীনেশ ত্রিবেদী দেশটির সাবেক রেলমন্ত্রী। এছাড়া তিনি কেন্দ্রীয় সরকারের স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বও পালন করেছেন। রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন সময়ে তিনি তৃণমূল কংগ্রেস ও পরে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

বাংলাদেশে দায়িত্ব গ্রহণের মধ্য দিয়ে দুই দেশের বিদ্যমান সম্পর্ক আরও জোরদার করতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন বলে কূটনৈতিক মহলের প্রত্যাশা।