সংসদ ও রাষ্ট্রীয় স্থাপনায় উগ্রবাদী হামলার শঙ্কা: দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট
- আপডেট সময় ১০:৫১:১১ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬
- / 25
জাতীয় সংসদ ভবনসহ দেশের বেশ কিছু রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি উগ্রবাদী সংগঠনের সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় উচ্চসতর্কতা জারি করেছে পুলিশ সদর দপ্তর। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাহিনীর সকল ইউনিট প্রধানদের কাছে পাঠানো এক জরুরি বার্তায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা কঠোর করার পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পুলিশ সদর দপ্তরের ধারণা, উগ্রবাদী চক্রটি বোমা বিস্ফোরণ, আগ্নেয়াস্ত্র কিংবা দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহার করে বড় ধরনের নাশকতার পরিকল্পনা করছে।
পুলিশ সদর দপ্তর থেকে পাঠানো ওই সতর্কবার্তায় সুনির্দিষ্টভাবে সংগঠনের নাম উল্লেখ না করা হলেও সম্প্রতি গ্রেপ্তার হওয়া ইসতিয়াক আহম্মেদ সামী ওরফে আবু বক্কর নামে এক উগ্রবাদী সদস্যের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে এই অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তির সাথে চাকরিচ্যুত দুই সেনাসদস্যের নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। তারা সম্মিলিতভাবে জাতীয় সংসদ, পুলিশ ও সেনাবাহিনীর স্থাপনা, ধর্মীয় উপাসনালয় এবং শাহবাগ চত্বরের মতো জনবহুল স্থানে হামলার লক্ষ্যবস্তু স্থির করতে পারে বলে এজাহারে ইঙ্গিত রয়েছে।
বার্তায় আরও আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, উগ্রবাদী সদস্যরা বিভিন্ন বাহিনীর অস্ত্রাগারে হামলার পরিকল্পনাও করে থাকতে পারে, যা দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সন্দেহভাজনদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে এবং স্পর্শকাতর পয়েন্টগুলোতে তল্লাশি ও গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়াতে বলা হয়েছে। যদিও ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, এ ধরনের সতর্কতা নিয়মিত নিরাপত্তা ব্যবস্থারই অংশ এবং প্রাপ্ত গোয়েন্দা তথ্যের চুলচেরা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় বাড়তি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য যে, গত কয়েক মাসে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে জঙ্গি সন্দেহে বেশ কয়েকজনকে গ্রেপ্তার ও হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। গত ২ এপ্রিলও ‘নব্য জেএমবি’র সাথে সম্পৃক্ততার অভিযোগে এক কিশোরকে হেফাজতে নেওয়ার কথা জানিয়েছিল ডিএমপি। সেই ধারাবাহিকতায় বর্তমান এই সতর্কতা সংকেতকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বিশেষ করে ধর্মীয় উপাসনালয় ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতে অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হচ্ছে।























