দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলা: নিরাপত্তা বাহিনীর ১৩ সদস্য নিহত
- আপডেট সময় ১১:১৮:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
- / 26
দক্ষিণ লেবাননের নাবাতিয়েহ শহরে ইসরায়েলি বিমান হামলায় দেশটির নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ১৩ জন সদস্য নিহত হয়েছেন। লেবাননের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানিয়েছে, শুক্রবার শত্রু পক্ষের যুদ্ধবিমানগুলো নাবাতিয়েহ শহরের সরকারি কমপ্লেক্সের কাছে অবস্থিত রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা কার্যালয় লক্ষ্য করে একের পর এক ভারী হামলা চালায়। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, হামলার পর সংশ্লিষ্ট এলাকায় ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ দেখা গেছে এবং কয়েক ঘণ্টা পরও সেখানে আগুন জ্বলতে দেখা যায়।
এই হামলা এমন এক সময়ে পরিচালিত হলো যখন লেবানন সরকার আগামী সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি প্রাথমিক আলোচনায় বসার প্রস্তুতি নিচ্ছে। লেবাননের প্রেসিডেন্সি জানিয়েছে, আগামী মঙ্গলবার দুই দেশের রাষ্ট্রদূতদের উপস্থিতিতে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকারের এই কূটনৈতিক উদ্যোগের মধ্যেও সংঘাতের তীব্রতা কমেনি। ২০২৪ সালের মার্চের শুরু থেকে চলা এই ধারাবাহিক সংঘাতে লেবাননে এখন পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৯০০ জন নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে দেশটির সরকারি সূত্র।
এদিকে লেবানন সরকার হিজবুল্লাহর সামরিক কর্মকাণ্ড সীমিত করার পরিকল্পনা ঘোষণা করলেও সংগঠনটি এই আলোচনার তীব্র বিরোধিতা করছে। হিজবুল্লাহর উপপ্রধান নাইম কাসেম দাবি করেছেন, ইসরায়েলের স্থল অভিযান ব্যর্থ হয়েছে এবং তারা শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত প্রতিরোধ চালিয়ে যাবেন। অন্যদিকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত হিজবুল্লাহর ৪ হাজার ৩০০টিরও বেশি স্থাপনা ধ্বংস করেছে এবং প্রায় ১ হাজার ৪০০ যোদ্ধাকে হত্যা করেছে। গত ২ মার্চ থেকে চলা লড়াইয়ে ইসরায়েলের ১২ জন সেনাও প্রাণ হারিয়েছেন।
সীমান্ত অঞ্চলে চলমান এই অস্থিরতার মধ্যে হিজবুল্লাহও পাল্টা হামলা অব্যাহত রেখেছে। শুক্রবার উত্তর ইসরায়েলে সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রায় ৩০টি রকেট নিক্ষেপ করা হলে বিমান হামলার সতর্ক সংকেত বাজানো হয়। হিজবুল্লাহর দাবি, তারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর আশদোদ-এর একটি নৌঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে। ক্রমাগত এই যুদ্ধাবস্থায় লেবাননের খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)। সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত হওয়া এবং নিত্যপণ্যের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় লেবাননে দ্রুত একটি বড় ধরনের খাদ্য সংকট ঘনীভূত হচ্ছে।























