ঢাকা ১১:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬

অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৩২ ঘণ্টার বিরতি ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১০:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬
  • / 154

ছবি সংগৃহীত

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্থোডক্স ইস্টার উৎসব উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩২ ঘণ্টার এই বিরতি ঘোষণা করেন, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উৎসবের এই সময়ে শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিরল সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং তা রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়সীমা দুই দেশেই পালিত অর্থোডক্স ইস্টার উৎসবের প্রধান সময়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আশা করছি ইউক্রেনও রাশিয়ার মতো একই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।” রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুউসভ ইতিমধ্যে সামরিক বাহিনীকে অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে কোনো পক্ষ বিরতি লঙ্ঘন করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  যুদ্ধবিরতি ছাড়া ইরানের জব্দ সম্পদ ছাড় নয়: ট্রাম্প

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, ইউক্রেন আগে থেকেই এমন একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল। জেলেনস্কি লেখেন, “মানুষের উচিত হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার কাটানো। এটি শান্তির দিকে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হওয়া উচিত।” তবে তিনি সতর্ক করে আরও বলেন যে, রাশিয়ার সামনে সুযোগ আছে ইস্টারের পর আর নতুন করে হামলায় না ফেরার।

যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওই অঞ্চলের গভর্নরের দাবি, রাশিয়ার গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ প্রায় ৩০ বার তিনটি জেলায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত বছরও এমন স্বল্প সময়ের বিরতি দেওয়া হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাওয়ায় ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা তৎপরতা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই ইস্টার যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা হয়নি এবং আপাতত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবনের কোনো লক্ষণ নেই।

তবে এই সীমিত বিরতির মধ্যেও মানবিক ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই দেশ বড় পরিসরে নিহত সেনাদের লাশ বিনিময় করেছে। রাশিয়া কিয়েভের কাছে প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার লাশ হস্তান্তর করেছে। এর বিনিময়ে ৪১ রুশ সেনার মরদেহ ফেরত পেয়েছে মস্কো।

চলতি বছর নিয়মিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় এবং ৫০০-র বেশি রুশ সেনার মরদেহ স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির থাকলেও মরদেহ বিনিময়ের মতো মানবিক যোগাযোগগুলো দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই সাময়িক বিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ হিসেবে দেখার সুযোগ কম বলে মনে করলেও, উৎসবের সময় এটি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা

নিউজটি শেয়ার করুন

অর্থোডক্স ইস্টার উপলক্ষে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ৩২ ঘণ্টার বিরতি ঘোষণা

আপডেট সময় ১০:২১:১৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

 

রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অর্থোডক্স ইস্টার উৎসব উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতির ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ৩২ ঘণ্টার এই বিরতি ঘোষণা করেন, যা ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিও মেনে চলার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। উৎসবের এই সময়ে শান্তি বজায় রাখতে দুই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব এই বিরল সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন।

ক্রেমলিনের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার মস্কো সময় বিকেল ৪টা থেকে এই যুদ্ধবিরতি কার্যকর হবে এবং তা রবিবার মধ্যরাত পর্যন্ত বহাল থাকবে। এই সময়সীমা দুই দেশেই পালিত অর্থোডক্স ইস্টার উৎসবের প্রধান সময়কে অন্তর্ভুক্ত করবে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, “আমরা আশা করছি ইউক্রেনও রাশিয়ার মতো একই পদক্ষেপ অনুসরণ করবে।” রুশ প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলুউসভ ইতিমধ্যে সামরিক বাহিনীকে অভিযান বন্ধের নির্দেশ দিয়েছেন, তবে কোনো পক্ষ বিরতি লঙ্ঘন করলে পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাতে রুশ বাহিনী প্রস্তুত থাকবে বলে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  শান্তি আলোচনায় প্রস্তুত ইউক্রেন, শর্ত একটাই - পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি: জেলেনস্কি

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি রাশিয়ার এই পদক্ষেপকে ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করেছেন। তিনি টেলিগ্রামে এক বার্তায় জানান, ইউক্রেন আগে থেকেই এমন একটি প্রস্তাব দিয়ে রেখেছিল। জেলেনস্কি লেখেন, “মানুষের উচিত হুমকিমুক্ত একটি ইস্টার কাটানো। এটি শান্তির দিকে একটি বাস্তব পদক্ষেপ হওয়া উচিত।” তবে তিনি সতর্ক করে আরও বলেন যে, রাশিয়ার সামনে সুযোগ আছে ইস্টারের পর আর নতুন করে হামলায় না ফেরার।

যুদ্ধবিরতির এই ঘোষণা আসার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ডনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে হামলার খবর পাওয়া গেছে। ওই অঞ্চলের গভর্নরের দাবি, রাশিয়ার গোলাবর্ষণ ও ড্রোন হামলায় অন্তত দুই জন নিহত হয়েছেন। তিনি অভিযোগ করেন, শত্রুপক্ষ প্রায় ৩০ বার তিনটি জেলায় হামলা চালিয়েছে। এর আগে গত বছরও এমন স্বল্প সময়ের বিরতি দেওয়া হলেও উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে তা লঙ্ঘনের অভিযোগ তুলেছিল।

বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ধরনের কূটনৈতিক আলোচনা স্থবির হয়ে আছে। বিশেষ করে ওয়াশিংটনের মনোযোগ মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার দিকে সরে যাওয়ায় ইউক্রেন সংকটে পশ্চিমা তৎপরতা কিছুটা স্তিমিত হয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ জানিয়েছেন, এই ইস্টার যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো পূর্ব আলোচনা হয়নি এবং আপাতত ত্রিপক্ষীয় শান্তি আলোচনা পুনরুজ্জীবনের কোনো লক্ষণ নেই।

তবে এই সীমিত বিরতির মধ্যেও মানবিক ক্ষেত্রে কিছু অগ্রগতি লক্ষ্য করা গেছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, সম্প্রতি দুই দেশ বড় পরিসরে নিহত সেনাদের লাশ বিনিময় করেছে। রাশিয়া কিয়েভের কাছে প্রায় এক হাজার ইউক্রেনীয় সেনার লাশ হস্তান্তর করেছে। এর বিনিময়ে ৪১ রুশ সেনার মরদেহ ফেরত পেয়েছে মস্কো।

চলতি বছর নিয়মিত এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৯ হাজারের বেশি ইউক্রেনীয় এবং ৫০০-র বেশি রুশ সেনার মরদেহ স্বদেশে ফেরত পাঠানো হয়েছে। কূটনৈতিক প্রচেষ্টা স্থবির থাকলেও মরদেহ বিনিময়ের মতো মানবিক যোগাযোগগুলো দুই দেশের মধ্যে অব্যাহত রয়েছে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা এই সাময়িক বিরতিকে দীর্ঘস্থায়ী শান্তির পথ হিসেবে দেখার সুযোগ কম বলে মনে করলেও, উৎসবের সময় এটি সাধারণ মানুষের জন্য কিছুটা স্বস্তি বয়ে আনবে বলে আশা করছেন।

সূত্র: আল-জাজিরা