ঢাকা ১২:৫৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬
শিরোনাম :
ইশরাকের পদত্যাগের খবর ভিত্তিহীন, দাবি প্রতিমন্ত্রীর দপ্তরের বক্স অফিসে ‘জেলার ২’-এর ঝড় আগারগাঁওয়ে সচিবালয় স্থানান্তরের প্রস্তাব মন্ত্রিসভায় অনুমোদন ফিলিস্তিনিদের জলপাই চুরির পক্ষে ইসরাইলি রাব্বির ফতোয়া ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের সুদিন ফেরাতে আর্থিক সহায়তার জোরালো দাবি স্যামির আইয়ুব বাচ্চুর প্রয়াণ দিবসে তাঁকে উৎসর্গ করে কন্সট্যান্টের ‘শেষ বিকেল’ সাজেক ফেরার পথে চাঁদের গাড়ি উল্টে দুর্ঘটনা, আহত ৭ ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে মুম্বাইয়ে তলব করলেন রুবিও, চরম বিতর্কে মোদি সরকার ইরানের নতুন প্রতিরক্ষামন্ত্রী আখলাকিকে নিয়োগ দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড, সৌদি রাষ্ট্রদূতকে তলব

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
  • / 160

ছবি: সংগৃহীত

 

গাজা উপত্যকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আল জাজিরা মুবাশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এই সংবাদদাতার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার মোহাম্মদ উইশাহ একটি গাড়িতে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। উপকূলীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে গাড়িটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ উইশাহ মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন  ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সন্ত্রাসী হামলা, আহত একাধিক সাংবাদিক

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চলমান ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় সংবাদকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তাদের সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এই হামলাকে সরাসরি টার্গেট কিলিং হিসেবে অভিহিত করেছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় সাংবাদিকদের এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এটি একটি বড় আঘাত এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহর হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজার আল-আহলি হাসপাতাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ত্রাণবাহী যানবাহনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতেই গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বৈশ্বিক সংগঠনগুলো বারংবার আবেদন জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ উইশাহর মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময়ই গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। তার এই অকাল বিয়োগ গাজার সাংবাদিকতা এবং আল জাজিরা পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সূত্র অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ নিহত

আপডেট সময় ০১:৪৮:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬

 

গাজা উপত্যকায় সংবাদ সংগ্রহের সময় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) ড্রোন হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন আল জাজিরা মুবাশারের সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহ। বুধবার (৮ এপ্রিল ২০২৬) গাজা সিটির পশ্চিমাঞ্চলীয় আল-রশিদ উপকূলীয় সড়কে এই নৃশংস হামলার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা তাদের এই সংবাদদাতার মৃত্যুর খবরটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে।

ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রগুলো জানিয়েছে, বুধবার মোহাম্মদ উইশাহ একটি গাড়িতে করে পেশাগত দায়িত্ব পালনের উদ্দেশ্যে যাচ্ছিলেন। উপকূলীয় সড়ক দিয়ে যাতায়াতের সময় ইসরায়েলি ড্রোন থেকে ছোঁড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি তার গাড়িটি লক্ষ্য করে আঘাত হানে। এতে গাড়িটিতে তাৎক্ষণিক আগুন ধরে যায় এবং ঘটনাস্থলেই মোহাম্মদ উইশাহ মৃত্যুবরণ করেন।

আরও পড়ুন  কঙ্গোর ইতুরিতে নারকীয় হামলা: ৪৯ জনের প্রাণহানি

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে গণমাধ্যমকর্মীদের ওপর চলমান ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া যুদ্ধের পর থেকে গাজায় সংবাদকর্মীদের জন্য পরিস্থিতি ক্রমশ বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। আল জাজিরা কর্তৃপক্ষ তাদের সহকর্মীর এই অকাল মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে এবং এই হামলাকে সরাসরি টার্গেট কিলিং হিসেবে অভিহিত করেছে।

গাজা সরকারের মিডিয়া অফিসের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলি হামলায় এ পর্যন্ত অন্তত ২৬২ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো গাজায় সাংবাদিকদের এই ক্রমবর্ধমান মৃত্যুতে উদ্বেগ প্রকাশ করে জানিয়েছে, সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর এটি একটি বড় আঘাত এবং যুদ্ধাপরাধের শামিল।

সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহর হত্যাকাণ্ডটি এমন এক সময়ে ঘটল যখন গাজার আল-আহলি হাসপাতাল এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ত্রাণবাহী যানবাহনেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। বেসামরিক নাগরিক ও সংবাদকর্মীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক আইনের তোয়াক্কা না করেই ইসরায়েলি সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে অভিযোগ করছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, যুদ্ধের সঠিক চিত্র বিশ্ববাসীর সামনে তুলে ধরার পথে অন্তরায় সৃষ্টি করতেই গণমাধ্যমকর্মীদের পরিকল্পিতভাবে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। সাংবাদিকদের নিরাপত্তার বিষয়ে বৈশ্বিক সংগঠনগুলো বারংবার আবেদন জানালেও পরিস্থিতির কোনো উন্নতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।

মোহাম্মদ উইশাহর মৃত্যুর পর তার সহকর্মীরা জানান, তিনি সবসময়ই গাজার মানবিক বিপর্যয়ের চিত্র তুলে ধরতে সচেষ্ট ছিলেন। তার এই অকাল বিয়োগ গাজার সাংবাদিকতা এবং আল জাজিরা পরিবারের জন্য এক অপূরণীয় ক্ষতি। সূত্র অনুযায়ী, নিহত সাংবাদিকের জানাজা ও দাফন প্রক্রিয়ার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পরে জানানো হবে।