৭ থেকে ১০ এপ্রিল দেশজুড়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা; কেমন থাকবে আপনার এলাকার আবহাওয়া
- আপডেট সময় ১০:০৯:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 30
দেশের আকাশে ‘গর্জন’ নামক একটি নতুন বৃষ্টিবলয় প্রবেশের পূর্বাভাস দিয়েছে বেসরকারি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা ‘বিডব্লিউওটি’। সংস্থাটির সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি এপ্রিল মাসের ৭ তারিখ থেকে ১০ তারিখ পর্যন্ত এই বৃষ্টিবলয়টি সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকতে পারে। এর প্রভাবে দেশের অধিকাংশ এলাকায় বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা থাকলেও, এতে কোনো দীর্ঘস্থায়ী ভারী বর্ষণ বা বন্যার আশঙ্কা নেই বলে জানানো হয়েছে।
সংস্থাটি তাদের পূর্বাভাসে জানিয়েছে, ‘গর্জন’ চলাকালীন ভারী বৃষ্টির চেয়েও বেশি সতর্ক থাকতে হবে তীব্র বজ্রপাত ও কালবৈশাখী ঝড়ের বিষয়ে। এ সময় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ওপর দিয়ে ঘণ্টায় ৬০ থেকে ৮০ কিলোমিটার বেগে শক্তিশালী কালবৈশাখী বয়ে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে মাঝারি থেকে তীব্র মাত্রার বজ্রপাত ও কিছু কিছু জায়গায় বিক্ষিপ্তভাবে শিলাবৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃষ্টিবলয়টি চলাকালীন ৪ দিনে দেশের বিভিন্ন বিভাগে বৃষ্টির তীব্রতা ও পরিমাণে ভিন্নতা দেখা যেতে পারে:
সিলেট বিভাগ: সবচেয়ে বেশি সক্রিয় থাকবে এই অঞ্চলে। এখানে ৩ দিনে প্রায় ৪০ থেকে ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
খুলনা ও বরিশাল: এই দুই বিভাগে ৩ দিনে গড়ে ২৫ থেকে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হতে পারে।
ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রাম: মাঝারি সক্রিয় এই বিভাগগুলোতে ২ দিনে প্রায় ২০ থেকে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হতে পারে।
ময়মনসিংহ: এখানে ২ থেকে ৩ দিনে ২৫ থেকে ৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
রাজশাহী: তুলনামূলক কম সক্রিয় থাকবে এই বিভাগে; এখানে ১ থেকে ২ দিনে গড়ে মাত্র ১০ থেকে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই সময়ে উত্তর বঙ্গোপসাগর সামান্য উত্তাল থাকতে পারে। বৃষ্টিবলয়টি কার্যকর থাকাকালীন অধিকাংশ এলাকার আকাশ আংশিক থেকে সম্পূর্ণ মেঘলা থাকবে। বৃষ্টির বিরতিকালে কোথাও কোথাও ভ্যাপসা গরম অনুভূত হতে পারে, তবে সার্বিকভাবে তাপমাত্রা আরামদায়ক থাকার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
কৃষিখাতের জন্য এই বৃষ্টিবলয় ইতিবাচক বার্তা নিয়ে আসছে। ধারণা করা হচ্ছে, এই বৃষ্টির ফলে দেশের প্রায় ৩০-৩৫ শতাংশ এলাকার ফসলি জমিতে সেচের চাহিদা প্রাকৃতিকভাবেই পূরণ হবে, যা কৃষকদের জন্য সহায়ক হতে পারে।
আবহাওয়ার এই বিশেষ পরিস্থিতি সম্পর্কে সংস্থাটি জানিয়েছে, প্রাকৃতিক নিয়ম ও বায়ুমণ্ডলের পরিবর্তনের কারণে এই সময়সূচি বা বৃষ্টির তীব্রতা কিছুটা হ্রাস-বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।























