হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলে টোল বসাতে চান ট্রাম্প: ওয়াশিংটনের নতুন দাবি
- আপডেট সময় ০৯:৫২:০৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
- / 35
বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক বা টোল আরোপের পরিকল্পনা ব্যক্ত করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি মনে করেন, কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথের ওপর নিয়ন্ত্রণ ও শুল্ক আদায়ের অধিকার ইরানের নয়, বরং যুক্তরাষ্ট্রের থাকা উচিত। বাংলাদেশ সময় সোমবার মধ্যরাতে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প এই বিতর্কিত প্রস্তাবটি সামনে আনেন।
সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প সরাসরি প্রশ্ন তোলেন, মার্কিন প্রশাসন কেন এই প্রণালি থেকে টোল আদায় করবে না? তিনি বলেন, “তাদের (ইরান) নিতে দেওয়ার চেয়ে আমি বরং নিজেই সেটা (টোল আদায়) করতে চাই।” মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবি অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের ওই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘকালীন সামরিক উপস্থিতি এবং এই জলপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটনের যে ভূমিকা রয়েছে, তার পরিপ্রেক্ষিতে এই ধরনের শুল্ক আরোপের নৈতিক ও কৌশলগত অধিকার একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রেরই প্রাপ্য।
সম্প্রতি ইরান এই প্রণালি অতিক্রমকারী জ্বালানি তেলবাহী ট্যাংকারগুলোর ওপর একটি নতুন টোল ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা অনুমোদন করেছে। তেহরান এই পদক্ষেপকে তাদের জাতীয় ‘সার্বভৌম অধিকার’ হিসেবে দাবি করছে। মূলত ইরানের এই ঘোষণার পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবেই ট্রাম্পের এমন কড়া অবস্থান সামনে এলো। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট জ্বালানি তেল সরবরাহের একটি বড় অংশ এই সরু জলপথের ওপর দিয়ে পরিবাহিত হয়।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়েছেন যে, হরমুজ প্রণালিতে নতুন কোনো শুল্ক বা টোল ব্যবস্থা কার্যকর হলে তা আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে ভয়াবহ অস্থিরতা তৈরি করতে পারে। এটি কেবল তেলের দাম বাড়াবে না, বরং বৈশ্বিক বাণিজ্যে নতুন এক সংকটের সূচনা করবে। যেহেতু প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ তেল ও গ্যাস এই পথ দিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যায়, তাই এই ধরনের কোনো পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থায় সরাসরি প্রভাব ফেলবে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই প্রস্তাব আন্তর্জাতিক সমুদ্র আইন এবং বিদ্যমান কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক বিতর্কের জন্ম দিতে পারে। সার্বভৌম কোনো জলপথ বা আন্তর্জাতিক জলসীমায় একক কোনো দেশের টোল আরোপের বিষয়টি বিশ্বমঞ্চে কতটা গ্রহণযোগ্য হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের এই পাল্টাপাল্টি অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে আরও জটিল ও অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।





















