শাওয়ালের ছয় রোজার ফজিলত, এক বছরে রোজার সওয়াব লাভের সুযোগ
- আপডেট সময় ১২:০৯:১০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
- / 20
মহিমান্বিত মাস রমজানের পরই আসে শাওয়াল। পবিত্র রমজানজুড়ে যারা সিয়াম সাধনা করেছেন, তারা শাওয়াল মাসে ছয়টি নফল রোজা রাখলে সারাবছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করেন। এ ছয়টি রোজা রাখা মোস্তাহাব।
শাওয়াল মাসের ছয় রোজা রাখার নিয়ম নিয়ে অনেকের মধ্যে প্রশ্ন থাকে, এগুলো কি একটানা ছয় দিন রাখতে হবে, নাকি মাঝে বিরতি দিয়ে রাখা যাবে।
রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যে ব্যক্তি রমজানের ফরজ রোজাগুলো রাখার পর শাওয়াল মাসে আরও ছয়টি রোজা রাখে, সে যেন পুরো এক বছর রোজা রাখল। (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১৬৪)
ফজিলতপূর্ণ এই রোজাগুলো প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এক মাস রোজা রাখার পর ছয়টি রোজা রাখা তুলনামূলক সহজ হলেও এর সওয়াব অত্যন্ত বেশি।
ফিকহবিদদের মতে, শাওয়ালের ছয় রোজা ধারাবাহিকভাবে একটানা রাখা যেতে পারে, আবার বিরতি দিয়ে আলাদাভাবেও রাখা যায়। যেভাবেই রাখা হোক, রোজা আদায় হয়ে যাবে এবং নির্ধারিত ফজিলতও পাওয়া যাবে।
হযরত আবু আইয়ুব আনসারি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যে ব্যক্তি রমজান মাসের রোজা রাখল এবং এরপর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখল, সে যেন সারা বছর রোজা রাখল।
আরেক বর্ণনায় এসেছে, একজন সাহাবি রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তিনি কি সারা বছর রোজা রাখতে পারবেন। উত্তরে তিনি বলেন, তোমার ওপর তোমার পরিবারের হক রয়েছে। তাই সারা বছর রোজা না রেখে রমজানের রোজা রাখো এবং শাওয়ালের ছয়টি রোজা রাখো, তাহলেই সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব পাবে। (তিরমিজি)
অতএব, শাওয়ালের ছয় রোজা একটানা বা বিরতি দিয়ে—যেভাবেই রাখা হোক, তা গ্রহণযোগ্য। তবে সুযোগ থাকলে ঈদের পর দ্রুত এই রোজাগুলো আদায় করা উত্তম বলে মনে করেন আলেমরা।


























