ঢাকা ০৪:১৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬, ২৭ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় : কাতার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬
  • / 23

ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়; বরং আঞ্চলিক শান্তির জন্য মধ্যস্থতামূলক সমাধান প্রয়োজন।

আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আল‑খুলাইফি বলেন, ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এতে কারও কোনো উপকার হচ্ছে না।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি-নির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা, জরুরি পদক্ষেপ নিচ্ছে চীন-জাপান

আল-খুলাইফি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার বিস্তৃত পরিসর নিয়ে কাতার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে আছি, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো আবার আলোচনায় ফিরে যাওয়া।

কাতারের ওপর হামলার ঘটনায় দেশটি কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব হামলা সরাসরি কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। এ কারণে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোহা প্রয়োজনীয় ও আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

আল-খুলাইফি বলেন, চলমান সংঘাতের একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন, যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এমন দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—যেমন কাতার ও ওমান—যারা অতীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে এসব বিষয় তুলে ধরেন বলেও জানান তিনি। সেই আলোচনায় ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বলে জানান আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, কাতার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কেও সামরিক সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে আবার আলোচনার পথে ফিরে আসবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয় : কাতার

আপডেট সময় ০২:১২:৫৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত কমাতে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রকে আবার আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানিয়েছে কাতার। দেশটির পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেছেন, উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের শত্রু নয়; বরং আঞ্চলিক শান্তির জন্য মধ্যস্থতামূলক সমাধান প্রয়োজন।

আল জাজিরা-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কাতারের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুলআজিজ আল‑খুলাইফি বলেন, ইরান তার আঞ্চলিক প্রতিবেশীদের ওপর হামলা চালিয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলছে। এতে কারও কোনো উপকার হচ্ছে না।

প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-এর হামলার জবাবে ইরান উপসাগরীয় অঞ্চলসহ আশপাশের এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে জ্বালানি-নির্ভর আঞ্চলিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের প্রভাব পড়েছে।

আরও পড়ুন  মধ্যপ্রাচ্যে বিমানবাহী রণতরি পাঠাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র

আল-খুলাইফি বলেন, বেসামরিক অবকাঠামোসহ বিভিন্ন স্থানে হামলার বিস্তৃত পরিসর নিয়ে কাতার গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। তার ভাষায়, “এই মুহূর্তে আমরা যে পরিস্থিতির মধ্যে আছি, তা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক।”

তিনি আরও বলেন, দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধানের একমাত্র পথ হলো আবার আলোচনায় ফিরে যাওয়া।

কাতারের ওপর হামলার ঘটনায় দেশটি কঠোর ভাষায় নিন্দা জানিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এসব হামলা সরাসরি কাতারের সার্বভৌমত্বের ওপর আঘাত হেনেছে। এ কারণে দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দোহা প্রয়োজনীয় ও আইনগত সব ব্যবস্থা গ্রহণ অব্যাহত রাখবে।

আল-খুলাইফি বলেন, চলমান সংঘাতের একটি বৈশ্বিক সমাধান প্রয়োজন, যাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল থাকে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সংঘাতের কারণে এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইরান এমন দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে—যেমন কাতার ও ওমান—যারা অতীতে আঞ্চলিক মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে এবং ইরান ও পশ্চিমাদের মধ্যে যোগাযোগের সেতুবন্ধ তৈরি করার চেষ্টা করেছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন আব্দুল রহমান আল থানি কয়েক দিন আগে তেহরানের সঙ্গে ফোনালাপে এসব বিষয় তুলে ধরেন বলেও জানান তিনি। সেই আলোচনায় ইরানকে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর হামলা বন্ধ করার আহ্বান জানানো হয়।

এদিকে কাতার যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ রাখছে বলে জানান আল-খুলাইফি। তিনি বলেন, কাতার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-কেও সামরিক সংঘাত বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে।

সবশেষে তিনি আশা প্রকাশ করেন, সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলো দ্রুত সামরিক অভিযান বন্ধ করে আবার আলোচনার পথে ফিরে আসবে এবং শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে পাবে।