১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা গৃহকর্মী নির্যাতন : বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের রিমান্ড স্বচ্ছতার নজির: সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াই, আফ্রিদির মতে ‘ক্রিকেটের জয়’ পঞ্চগড়ে সারজিসকে সমর্থন দিলো ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের দিন সহিংসতা হলে, ওই দিন বুঝবেন প্রশাসনের কী প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রোনালদো বিদায় নিলেই সৌদি লিগ দর্শকশূন্য হয়ে পড়বে-ক্রুস শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল–চাবি হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত সেক্রেটারীর পা ভেঙে দিলেন বিএনপি কর্মী

নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 79

ছবি সংগৃহীত

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এক আকস্মিক ঘোষণায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। দেশের শীর্ষ এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক প্রধানের এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. নিয়াজ আহমদ খান মূলত রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নতুন করে সাজাতে পারে।”তিনি মনে করেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নতুন নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করতেই এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও এখনই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন না অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। মূলত ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় যেন কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর এক ক্রান্তিকালে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরানো ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এখন নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সূচনার প্রত্যাশায় নিজের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনের ঠিক আগেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যের পদত্যাগের ঘোষণা

আপডেট সময় ০৭:১৯:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাত্র ৪৮ ঘণ্টা আগে এক আকস্মিক ঘোষণায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে উপাচার্য কার্যালয় সংলগ্ন অধ্যাপক আব্দুল মতিন চৌধুরী ভার্চুয়াল ক্লাসরুমে আয়োজিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই ঘোষণা দেন। দেশের শীর্ষ এই বিদ্যাপীঠের প্রশাসনিক প্রধানের এমন সিদ্ধান্ত নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে বিশেষ আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

পদত্যাগের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ড. নিয়াজ আহমদ খান মূলত রাজনৈতিক শিষ্টাচার ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের ওপর জোর দিয়েছেন। তিনি বলেন, “আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি, যেন আসন্ন নির্বাচনে বিজয়ী রাজনৈতিক সরকার তাদের নিজেদের কর্মপরিকল্পনা অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে নতুন করে সাজাতে পারে।”তিনি মনে করেন, নির্বাচিত সরকারের অধীনে প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে এবং নতুন নেতৃত্বের পথ প্রশস্ত করতেই এই সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত।

পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও এখনই ক্যাম্পাস ছাড়ছেন না অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খান। তিনি জানান, আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র এখনো জমা দেওয়া হয়নি। প্রশাসনিক ধারাবাহিকতা রক্ষা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত তিনি কাজ চালিয়ে যাবেন। মূলত ক্ষমতা হস্তান্তরের সময় যেন কোনো শূন্যতা তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যেই তিনি আরও কিছুদিন দায়িত্ব পালন করবেন এবং নতুন প্রশাসনকে পূর্ণ সহযোগিতা প্রদান করবেন।

উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১০ আগস্ট তৎকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল পদত্যাগ করেছিলেন। এরপর এক ক্রান্তিকালে ২৭ আগস্ট শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. নিয়াজ আহমদ খানকে সাময়িকভাবে উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেন রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলর।
দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ফেরানো ও শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। এখন নির্বাচন-পরবর্তী নতুন সূচনার প্রত্যাশায় নিজের পদ ছাড়ার ঘোষণা দিয়ে তিনি এক অনন্য নজির স্থাপন করলেন।