১২:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা গৃহকর্মী নির্যাতন : বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের রিমান্ড স্বচ্ছতার নজির: সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াই, আফ্রিদির মতে ‘ক্রিকেটের জয়’ পঞ্চগড়ে সারজিসকে সমর্থন দিলো ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের দিন সহিংসতা হলে, ওই দিন বুঝবেন প্রশাসনের কী প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রোনালদো বিদায় নিলেই সৌদি লিগ দর্শকশূন্য হয়ে পড়বে-ক্রুস শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল–চাবি হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত সেক্রেটারীর পা ভেঙে দিলেন বিএনপি কর্মী

খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় ভোটকেন্দ্র সংকট, দূরত্বে ভোটে অনীহা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 29

ছবি সংগৃহীত

 

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব ভোটারদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হওয়ায় ভোট দিতে অনীহা দেখা দিচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

খাগড়াছড়ির দুর্গম জনপদে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব ভোটারদের জন্য এক বড় বাধা। পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয় অনেককে। যাতায়াত কষ্টসাধ্য হওয়ায় ভোট দিতে অনীহা দেখা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর বিশাল পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে আছে খাগড়াছড়ির জনবসতি। তবে এই ভৌগোলিক গঠন নির্বাচনের সময় হয়ে দাঁড়ায় বড় ভোগান্তি। খাগড়াছড়ির অতি দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৬৫। সড়ক অবকাঠামো না থাকা এবং দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে হাঁপিয়ে ওঠেন প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারেরা।

৩৮টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ির একমাত্র সংসদীয় আসনটি প্রায় ২ হাজার ৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি ভোটারের জন্য কেন্দ্র মাত্র ২০৩টি। পাহাড়ের গভীর থেকে কেন্দ্রে পৌঁছাতে অনেককে পাড়ি দিতে হয় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ, সময় লেগে যায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

সাধারণ এক ভোটার বলেন, ‘অনেক গ্রাম আছে যেখানে ভোটকেন্দ্রে যেতে অনেক সময় লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। অনেক কষ্ট হয়, হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। দূরের গ্রাম থেকে তাঁরা কেন্দ্রে আসতে চায় না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কম। ভোট কেন্দ্র বাড়াতে পারলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যেত।’

ভোট উৎসবে শামিল হতে চাইলেও দূরত্বের কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ভোটারদের এই দুর্ভোগ লাঘব ও কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখানে দূরত্বের কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভোটকেন্দ্র বাড়ালে ভোটারদের দুর্ভোগ কমতো।’

এদিকে এবারের নির্বাচনে ছয়টি ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে বলে জানান খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, আয়তনে বড় হলেও জনসংখ্যা কম এবং ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কম বলে জানান এই কর্মকর্তা।

নিউজটি শেয়ার করুন

খাগড়াছড়ির দুর্গম এলাকায় ভোটকেন্দ্র সংকট, দূরত্বে ভোটে অনীহা

আপডেট সময় ১২:৫৯:১৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

খাগড়াছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব ভোটারদের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা হেঁটে কেন্দ্রে যেতে হওয়ায় ভোট দিতে অনীহা দেখা দিচ্ছে। ভোটার উপস্থিতি বাড়াতে কেন্দ্র সংখ্যা বাড়ানোর দাবি স্থানীয়দের।

খাগড়াছড়ির দুর্গম জনপদে ভোটকেন্দ্রের দূরত্ব ভোটারদের জন্য এক বড় বাধা। পাহাড়ের চড়াই-উৎরাই পেরিয়ে দুই থেকে তিন ঘণ্টা হেঁটে কেন্দ্রে পৌঁছাতে হয় অনেককে। যাতায়াত কষ্টসাধ্য হওয়ায় ভোট দিতে অনীহা দেখা দিচ্ছে সাধারণ মানুষের মাঝে। কেন্দ্রে উপস্থিতি বাড়াতে ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য আর বিশাল পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে ছড়িয়ে আছে খাগড়াছড়ির জনবসতি। তবে এই ভৌগোলিক গঠন নির্বাচনের সময় হয়ে দাঁড়ায় বড় ভোগান্তি। খাগড়াছড়ির অতি দুর্গম ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা প্রায় ৬৫। সড়ক অবকাঠামো না থাকা এবং দুর্গম যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে ভোটকেন্দ্রে যেতে হাঁপিয়ে ওঠেন প্রত্যন্ত এলাকার ভোটারেরা।

৩৮টি ইউনিয়ন ও তিনটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত খাগড়াছড়ির একমাত্র সংসদীয় আসনটি প্রায় ২ হাজার ৭ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত। ৫ লাখ ৫৪ হাজারের বেশি ভোটারের জন্য কেন্দ্র মাত্র ২০৩টি। পাহাড়ের গভীর থেকে কেন্দ্রে পৌঁছাতে অনেককে পাড়ি দিতে হয় ৫ থেকে ৭ কিলোমিটার পথ, সময় লেগে যায় দুই থেকে তিন ঘণ্টা।

সাধারণ এক ভোটার বলেন, ‘অনেক গ্রাম আছে যেখানে ভোটকেন্দ্রে যেতে অনেক সময় লাগে। যোগাযোগ ব্যবস্থার জটিলতার কারণে অনেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে চায় না। অনেক কষ্ট হয়, হেঁটে যাওয়া সম্ভব নয়। দূরের গ্রাম থেকে তাঁরা কেন্দ্রে আসতে চায় না। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্র কম। ভোট কেন্দ্র বাড়াতে পারলে ভোটাধিকার প্রয়োগ করা যেত।’

ভোট উৎসবে শামিল হতে চাইলেও দূরত্বের কারণে অনেক ভোটার কেন্দ্রে যাওয়ার আগ্রহ হারিয়ে ফেলেন। ভোটারদের এই দুর্ভোগ লাঘব ও কেন্দ্রে উপস্থিতি নিশ্চিত করতে কেন্দ্র বাড়ানোর দাবি জানিয়েছে স্থানীয় নাগরিক সমাজ।

খাগড়াছড়ি প্রেস ক্লাবের সভাপতি তরুণ কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘এখানে দূরত্বের কারণে ভোটারদের কেন্দ্রে যেতে দুর্ভোগ পোহাতে হয়। ভোটকেন্দ্র বাড়ালে ভোটারদের দুর্ভোগ কমতো।’

এদিকে এবারের নির্বাচনে ছয়টি ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়েছে বলে জানান খাগড়াছড়ি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা এসএম শাহাদাত হোসেন। তিনি জানান, আয়তনে বড় হলেও জনসংখ্যা কম এবং ভোটকেন্দ্রের সংখ্যাও কম বলে জানান এই কর্মকর্তা।