ঢাকা ০৫:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 1996

ছবি: সংগৃহীত

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

গৃহযুদ্ধ ও বর্জনের মধ্যেই মিয়ানমারে জান্তা সমর্থিত নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ

আপডেট সময় ০২:২৭:০৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১১ জানুয়ারী ২০২৬

 

 

২০২১ সালের সামরিক অভ্যুত্থানের পর মিয়ানমারে প্রথমবার সাধারণ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। চরম গৃহযুদ্ধ এবং আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র সমালোচনার মধ্যেই আজ রোববার দেশটিতে তিন ধাপের নির্বাচনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটগ্রহণ চলছে।

আরও পড়ুন  নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ করতে রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা

ভোটের চিত্র ও জনবল:
রয়টার্সের তথ্য অনুযায়ী, আজ স্থানীয় সময় সকাল থেকেই ইয়াঙ্গুনসহ বিভিন্ন কেন্দ্রে ভোটারদের লাইন দেখা গেছে। তবে গত ২৮ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত প্রথম পর্বের ভোটে উপস্থিতির হার ছিল মাত্র ৫২ শতাংশ, যা ২০১৫ বা ২০২০ সালের তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কম। বিশ্লেষকদের মতে, জান্তা সরকারের প্রতি জনগণের আস্থার অভাব এবং গৃহযুদ্ধের আশঙ্কাই এই নিম্ন উপস্থিতির কারণ।

জান্তার নিরঙ্কুশ আধিপত্য:
ধারণা করা হচ্ছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে সামরিক বাহিনী সমর্থিত ‘ইউনিয়ন সলিডারিটি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি’ (USDP) আবারও ক্ষমতায় ফিরবে। প্রথম পর্বে পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষের ১০২টি আসনের মধ্যে ৯০টি আসনেই জয় পেয়েছে তারা। ২৫ জানুয়ারি চূড়ান্ত পর্বের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।

নির্বাচন থেকে বাদ পড়ছে বিশাল এলাকা:
মিয়ানমারের বর্তমান অস্থিতিশীল পরিস্থিতির কারণে ৩৩০টি প্রশাসনিক অঞ্চলের (টাউনশিপ) মধ্যে ৫৬টিতে কোনো ভোটগ্রহণ হচ্ছে না। এছাড়া প্রায় ৩ হাজার গ্রাম ও ওয়ার্ড এলাকা নির্বাচনের আওতার বাইরে রাখা হয়েছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দেশটির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকা এই নির্বাচন প্রক্রিয়ার বাইরে থাকছে।

আন্তর্জাতিক সমালোচনা ও বিরোধী দলের অনুপস্থিতি:
জাতিসংঘ, পশ্চিমা দেশগুলো এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা এই নির্বাচনকে ‘প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছে। তাদের মতে:
অং সান সু চির দল ‘ন্যাশনাল লিগ ফর ডেমোক্রেসি’ (NLD)-সহ প্রায় ৪০টি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সু চি এবং তার দলের শীর্ষ নেতারা বর্তমানে কারাবন্দি বা নির্বাসিত।
ভোটের বিরোধিতা করলে মৃত্যুদণ্ডসহ কঠোর শাস্তির বিধান রেখে নতুন আইন করা হয়েছে, যার আওতায় ইতোমধ্যে ২০০ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের অভিমত:
রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই নির্বাচনের মূল উদ্দেশ্য হলো সামরিক জান্তাকে আইনি বৈধতা দেওয়া এবং তাদের ক্ষমতাকে আরও দীর্ঘস্থায়ী করা। চীন সমর্থিত এই জান্তা সরকার নির্বাচনের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে নিজেদের শাসনব্যবস্থাকে গ্রহণযোগ্য করে তোলার চেষ্টা করছে।