ঢাকা ১২:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

রপ্তানির অপেক্ষায় মধুপুরের আনারস, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৩৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫
  • / 661

ছবি সংগৃহীত

 

আনারসের রাজধানীখ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুরে এবার চাষিদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। এই সংকট কাটাতে সরকারকে রপ্তানির উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মধুপুরের আনারস বিদেশে রপ্তানির জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অচিরেই ফল মিলবে বলেও আশা করছে তারা।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রায় ৮২ বছর ধরে আনারস চাষ হচ্ছে। এখানকার উঁচু-নিচু টিলাভূমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় আনারসের উৎপাদন ভালো হয়। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চাষের জমি, রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা আনারস ও মৌ মৌ গন্ধ জানান দেয় এর বিস্তার কতটা।

আরও পড়ুন  ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ৮.৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, উল্লেখযোগ্য পোশাক খাত

মধুপুরে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় হানিকুইন, জলডুগি, ঘোড়াশাল ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস। তবে সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ওপর, চলতি মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্তু বাজারে দাম কম। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগের মতো বাজারের চাহিদা নেই। মানুষ কম আনারস কিনছেন। ফলে বাজারে বিক্রি কমে গেছে, দামও মিলছে না খরচ অনুযায়ী। তাদের দাবি, সরকার যেন আনারস রপ্তানিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তাহলেই মিলবে সঠিক মূল্য, টিকবে চাষাবাদ।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চাষিদের শুধু কাঁচা আনারস বিক্রির ওপর নির্ভর না করে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের দিকেও নজর দিতে বলা হচ্ছে। আনারস থেকে জ্যাম, জেলি, জুস ও আচার তৈরি করে বাজারজাত করলে মূল্য সংযোজন সম্ভব। এতে চাষিরা লাভবান হবেন এবং দেশীয় পণ্য বিদেশেও পরিচিতি পাবে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশেক পারভেজ বলেন, “আমরা চাষিদের আনারস প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি আনারস রপ্তানির জন্য কাজও চলছে।”

জেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ওরপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে মধুপুরের আনারস ফের ঘুরে দাঁড়াবে, ফিরবে চাষিদের মুখে হাসি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

রপ্তানির অপেক্ষায় মধুপুরের আনারস, লোকসানের শঙ্কায় চাষিরা

আপডেট সময় ১১:৩৭:৪৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৮ জুলাই ২০২৫

 

আনারসের রাজধানীখ্যাত টাঙ্গাইলের মধুপুরে এবার চাষিদের মুখে হাসি নেই। উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়া ও বাজারে দাম কমে যাওয়ায় লোকসানের আশঙ্কায় দিন কাটছে তাদের। এই সংকট কাটাতে সরকারকে রপ্তানির উদ্যোগ নিতে আহ্বান জানিয়েছেন তারা। কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, মধুপুরের আনারস বিদেশে রপ্তানির জন্য কার্যক্রম শুরু হয়েছে, অচিরেই ফল মিলবে বলেও আশা করছে তারা।

টাঙ্গাইলের মধুপুরে প্রায় ৮২ বছর ধরে আনারস চাষ হচ্ছে। এখানকার উঁচু-নিচু টিলাভূমি ও অনুকূল আবহাওয়ায় আনারসের উৎপাদন ভালো হয়। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে থাকা চাষের জমি, রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখা আনারস ও মৌ মৌ গন্ধ জানান দেয় এর বিস্তার কতটা।

আরও পড়ুন  ২০২৪-২৫ অর্থবছরে রপ্তানি আয়ে ৮.৫৮ শতাংশ প্রবৃদ্ধি, উল্লেখযোগ্য পোশাক খাত

মধুপুরে সবচেয়ে বেশি চাষ হয় হানিকুইন, জলডুগি, ঘোড়াশাল ও ক্যালেন্ডার জাতের আনারস। তবে সংরক্ষণ সুবিধা না থাকায় দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। এর ওপর, চলতি মৌসুমে আগের বছরের তুলনায় উৎপাদন খরচ বেড়েছে কিন্তু বাজারে দাম কম। এতে লোকসানের মুখে পড়ছেন চাষিরা।

স্থানীয় চাষিরা বলছেন, আগের মতো বাজারের চাহিদা নেই। মানুষ কম আনারস কিনছেন। ফলে বাজারে বিক্রি কমে গেছে, দামও মিলছে না খরচ অনুযায়ী। তাদের দাবি, সরকার যেন আনারস রপ্তানিতে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করে। তাহলেই মিলবে সঠিক মূল্য, টিকবে চাষাবাদ।

এদিকে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চাষিদের শুধু কাঁচা আনারস বিক্রির ওপর নির্ভর না করে প্রক্রিয়াজাত পণ্যের দিকেও নজর দিতে বলা হচ্ছে। আনারস থেকে জ্যাম, জেলি, জুস ও আচার তৈরি করে বাজারজাত করলে মূল্য সংযোজন সম্ভব। এতে চাষিরা লাভবান হবেন এবং দেশীয় পণ্য বিদেশেও পরিচিতি পাবে।

টাঙ্গাইল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক মো. আশেক পারভেজ বলেন, “আমরা চাষিদের আনারস প্রক্রিয়াজাত করে বিভিন্ন খাদ্যপণ্য তৈরির পরামর্শ দিচ্ছি। পাশাপাশি আনারস রপ্তানির জন্য কাজও চলছে।”

জেলার কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, চলতি মৌসুমে প্রায় ৭ হাজার হেক্টর জমিতে আনারসের চাষ হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রায় পৌনে ৩ লাখ মেট্রিক টন আনারস উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।

চাষিরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ওরপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে মধুপুরের আনারস ফের ঘুরে দাঁড়াবে, ফিরবে চাষিদের মুখে হাসি।