ঢাকা ০৭:০৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎হোয়াটসঅ্যাপে আসছে ‘লিকুইড গ্লাস’ ডিজাইন, বদলাচ্ছে ব্যবহার অভিজ্ঞতা ২০৩০ সালের মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি অর্ধেকে নামানোর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত বাংলাদেশের এক বছরে বিচারাধীন মামলা ২০ লাখে নামানো সম্ভব: আইনমন্ত্রী জামিন পেলেন কনটেন্ট ক্রিয়েটর তৌহিদ আফ্রিদি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান উত্তেজনায় তেলের দাম ঊর্ধ্বমুখী দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষ, ১১৮ পুলিশ সদস্য আহত; ৭০ ককরোচ গ্রেপ্তার সাইবার বুলিং দমনে আইনজীবী ও বিশেষজ্ঞ প্যানেল গঠন করবে সরকার ‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান

জাপানের দ্বীপপুঞ্জে ১৬০০ বার ভূমিকম্পের আঘাত, আতঙ্কিত দ্বীপবাসী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৪:৫৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫
  • / 929

ছবি সংগৃহীত

 

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আকুসেকি দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় এ সময়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র জেনিচিরো কুবো।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আকুসেকি দ্বীপে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, টানা কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। রবিবার মধ্যরাতে ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন  জাপান সফর শেষে দেশে ফিরেছেন প্রধান উপদেষ্টা

আকুসেকি দ্বীপের ৮৯ জন বাসিন্দার মধ্যে ইতোমধ্যেই ৪৪ জন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কাগোশিমা শহরে সরে গিয়েছেন। পাশের আরেকটি দ্বীপ থেকেও ১৫ জন মানুষ এলাকা ছেড়েছেন। মেয়র কুবোর তথ্য অনুযায়ী, এই পৌরসভার অধীনে সাতটি বসতিপূর্ণ এবং পাঁচটি অনাবাসিক দ্বীপ রয়েছে, যেখানে কাগোশিমা থেকে ফেরিতে যাতায়াত করতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা।

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি জানায়, গত ২১ জুন থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১ হাজার ৫৮২টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘সিসমিক স্বর্ম’ বা দলবদ্ধ ভূকম্পনের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রের তলদেশে আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম কিংবা ম্যাগমা প্রবাহ এর পেছনে দায়ী হতে পারে। তবে এই কম্পনের স্থায়িত্ব ঠিক কতদিন চলবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা।
মেয়র কুবো বলেন, “সামনে কী ঘটতে পারে তা বলা কঠিন। কবে এই কম্পন শেষ হবে, সেটিও অনিশ্চিত।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একই এলাকায় ৩৪৬টি ভূমিকম্প হয়েছিল বলে আগের রেকর্ডে জানা যায়।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে জাপান শীর্ষে। চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এ দেশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় প্রায়ই ভয়াবহ কম্পনের মুখে পড়ে। এখানে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টির বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে, যা বৈশ্বিক ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু বিদেশি পর্যটক জাপান সফর বাতিল করছেন। ২০২১ সালে পুনঃপ্রকাশিত একটি মাঙ্গা কমিকে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই ভয়াবহ ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী দেখানো হয়েছিল, যা ঘটেনি। তবুও সেই পুরনো কল্পনা ঘিরেই আতঙ্ক নতুন করে জেগে উঠেছে।

সূত্র: আরব নিউজ

নিউজটি শেয়ার করুন

জাপানের দ্বীপপুঞ্জে ১৬০০ বার ভূমিকম্পের আঘাত, আতঙ্কিত দ্বীপবাসী

আপডেট সময় ০৪:৫৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ জুলাই ২০২৫

 

জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের প্রত্যন্ত দ্বীপাঞ্চলে গত কয়েক সপ্তাহে একের পর এক কম্পনে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। আকুসেকি দ্বীপসহ আশপাশের এলাকায় এ সময়ে প্রায় ১ হাজার ৬০০টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে বলে সোমবার জানিয়েছেন স্থানীয় মেয়র জেনিচিরো কুবো।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত আকুসেকি দ্বীপে এখন পর্যন্ত বড় ধরনের শারীরিক ক্ষয়ক্ষতি না হলেও, টানা কম্পনে স্থানীয় বাসিন্দারা চরম মানসিক চাপের মধ্যে রয়েছেন। রবিবার মধ্যরাতে ৫.১ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর মানুষের ঘুম হারাম হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

আরও পড়ুন  মার্কিন চাপে নতি স্বীকার : জাতিসংঘে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেবে না জাপান

আকুসেকি দ্বীপের ৮৯ জন বাসিন্দার মধ্যে ইতোমধ্যেই ৪৪ জন নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য কাগোশিমা শহরে সরে গিয়েছেন। পাশের আরেকটি দ্বীপ থেকেও ১৫ জন মানুষ এলাকা ছেড়েছেন। মেয়র কুবোর তথ্য অনুযায়ী, এই পৌরসভার অধীনে সাতটি বসতিপূর্ণ এবং পাঁচটি অনাবাসিক দ্বীপ রয়েছে, যেখানে কাগোশিমা থেকে ফেরিতে যাতায়াত করতে সময় লাগে প্রায় ১১ ঘণ্টা।

জাপান মেটিওরোলজিক্যাল এজেন্সি জানায়, গত ২১ জুন থেকে সোমবার সকাল পর্যন্ত এই অঞ্চলে ১ হাজার ৫৮২টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে, যা ‘সিসমিক স্বর্ম’ বা দলবদ্ধ ভূকম্পনের উদাহরণ হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সমুদ্রের তলদেশে আগ্নেয়গিরির কার্যক্রম কিংবা ম্যাগমা প্রবাহ এর পেছনে দায়ী হতে পারে। তবে এই কম্পনের স্থায়িত্ব ঠিক কতদিন চলবে, তা নিশ্চিত করে বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন ভূতাত্ত্বিকরা।
মেয়র কুবো বলেন, “সামনে কী ঘটতে পারে তা বলা কঠিন। কবে এই কম্পন শেষ হবে, সেটিও অনিশ্চিত।”

উল্লেখ্য, ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে একই এলাকায় ৩৪৬টি ভূমিকম্প হয়েছিল বলে আগের রেকর্ডে জানা যায়।

ভূমিকম্পপ্রবণ দেশগুলোর মধ্যে জাপান শীর্ষে। চারটি প্রধান টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত এ দেশ প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অব ফায়ার’-এর অংশ হওয়ায় প্রায়ই ভয়াবহ কম্পনের মুখে পড়ে। এখানে প্রতিবছর গড়ে ১ হাজার ৫০০টির বেশি ভূমিকম্প হয়ে থাকে, যা বৈশ্বিক ভূমিকম্পের প্রায় ১৮ শতাংশ।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যমে ভিত্তিহীন গুজব ছড়িয়ে পড়ায় কিছু বিদেশি পর্যটক জাপান সফর বাতিল করছেন। ২০২১ সালে পুনঃপ্রকাশিত একটি মাঙ্গা কমিকে ২০২৫ সালের ৫ জুলাই ভয়াবহ ভূমিকম্পের ভবিষ্যদ্বাণী দেখানো হয়েছিল, যা ঘটেনি। তবুও সেই পুরনো কল্পনা ঘিরেই আতঙ্ক নতুন করে জেগে উঠেছে।

সূত্র: আরব নিউজ