ঢাকা ১১:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: দুই দিন পর মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ২ জন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫
  • / 401

ছবি সংগৃহীত

 

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দুই দিন পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে নিহত রোকসানা আক্তার রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে কড়ইবাড়ি গ্রামের দুই বাসিন্দা মো. সবির আহমেদ (৪৮) ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  কুমিল্লার বুড়িচংয়ে ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ কিশোরের মৃত্যু

পুলিশের তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেল ৫টার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহত তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় কড়ইবাড়ি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তবে দাফনের সময় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া স্থানীয়দের বা স্বজনদের কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়ইবাড়ি গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয়রা একটি মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একই পরিবারের চারজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (৩২)। হামলায় গুরুতর আহত হন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৫), যিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, ডিবিসহ যৌথবাহিনী কাজ করছে। নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, অনেকেই ঘটনার নৃশংসতায় এখনও হতবিহ্বল।

এদিকে মামলার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

কুমিল্লার মুরাদনগরে ট্রিপল মার্ডার: দুই দিন পর মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার ২ জন

আপডেট সময় ০১:১০:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ৫ জুলাই ২০২৫

 

কুমিল্লার মুরাদনগরের কড়ইবাড়ি গ্রামে মা, ছেলে ও মেয়েসহ তিনজনকে প্রকাশ্যে পিটিয়ে হত্যার ঘটনার দুই দিন পর থানায় হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে। শুক্রবার (৪ জুলাই) দিবাগত রাতে নিহত রোকসানা আক্তার রুবির মেয়ে রিক্তা আক্তার বাদী হয়ে বাঙ্গরা বাজার থানায় এ মামলা করেন। মামলায় ৩৮ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।

বাঙ্গরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহফুজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঘটনার পর শুক্রবার রাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালিয়ে কড়ইবাড়ি গ্রামের দুই বাসিন্দা মো. সবির আহমেদ (৪৮) ও মো. নাজিমউদ্দীন বাবুল (৫৬) কে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ ঘটনায় বাকি আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

আরও পড়ুন  কুমিল্লায় উত্তেজনা: শেখ মুজিবের ম্যুরাল ভাঙচুর করল ছাত্র-জনতা

পুলিশের তথ্যমতে, শুক্রবার বিকেল ৫টার পর কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গ থেকে নিহত তিনজনের লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে রাত সাড়ে ৮টার দিকে পুলিশি পাহারায় কড়ইবাড়ি কবরস্থানে তাদের দাফন সম্পন্ন হয়। তবে দাফনের সময় হাতে গোনা কয়েকজন ছাড়া স্থানীয়দের বা স্বজনদের কাউকে উপস্থিত থাকতে দেখা যায়নি।

প্রসঙ্গত, গত বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কড়ইবাড়ি গ্রামে ঘটে এ মর্মান্তিক ঘটনা। স্থানীয়রা একটি মোবাইল ফোন চুরি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগ তুলে একই পরিবারের চারজনকে গণপিটুনি দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান রোকসানা আক্তার রুবি (৫৮), তার ছেলে রাসেল মিয়া (৩৫) এবং মেয়ে জোনাকি আক্তার (৩২)। হামলায় গুরুতর আহত হন রুবির আরেক মেয়ে রুমা আক্তার (২৫), যিনি বর্তমানে রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

ওসি মাহফুজুর রহমান জানান, ঘটনার তদন্ত এবং বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের পাশাপাশি র‍্যাব, ডিবিসহ যৌথবাহিনী কাজ করছে। নিহতদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। এলাকায় চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে, অনেকেই ঘটনার নৃশংসতায় এখনও হতবিহ্বল।

এদিকে মামলার পর এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। নিরাপত্তার স্বার্থে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও তথ্য যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।