ঢাকা ১১:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৩ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

বিশ্বে প্রথমবার তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলো রাশিয়া

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫
  • / 414

ছবি সংগৃহীত

 

 

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেনে সেনা পাঠানোর ইঙ্গিত ট্রুডোর, রাশিয়ার তির্যক প্রতিক্রিয়া

মস্কোতে নিযুক্ত তালেবানের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।”

তবে তালেবান সরকারকে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি জাতিসংঘসহ বিশ্বের কোনো বড় সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো তালেবান নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে। ফলে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থা কার্যত আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় থেকেই রাশিয়া তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। মস্কো বরাবরই আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে দেখে এসেছে।

এর ধারাবাহিকতায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেন। ২০২৩ সালে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের সময় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
|
চলতি বছরের জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে “সন্ত্রাসবিরোধী মিত্র” হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল রাশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান এখন পর্যন্ত আইএসআইএসের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আফগানিস্তানকে অর্থনৈতিক অংশীদার ও গ্যাস পরিবহনের ট্রানজিট হাব হিসেবে দেখতে আগ্রহী মস্কো। ইতোমধ্যে কাবুলে রাশিয়া একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ও খুলেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিশ্বে প্রথমবার তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিলো রাশিয়া

আপডেট সময় ১১:৪০:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫

 

 

বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আফগানিস্তানের তালেবান নেতৃত্বাধীন সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া। শুক্রবার (৪ জুলাই) কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধ থামাতে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞার পথে যুক্তরাষ্ট্র

মস্কোতে নিযুক্ত তালেবানের নতুন রাষ্ট্রদূতের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে রাশিয়া। বিশ্লেষকদের মতে, এটিই তালেবান সরকারকে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার প্রথম বড় পদক্ষেপ।

রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এক বিবৃতিতে বলা হয়, “ইসলামিক আমিরাত অব আফগানিস্তান সরকারের আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি আমাদের দুই দেশের মধ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে গঠনমূলক দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদার করবে।”

তবে তালেবান সরকারকে এখনো আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃতি দেয়নি জাতিসংঘসহ বিশ্বের কোনো বড় সংস্থা। যুক্তরাষ্ট্র এখনো তালেবান নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা বহাল রেখেছে এবং আফগান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কয়েক বিলিয়ন ডলারের সম্পদ জব্দ করে রেখেছে। ফলে দেশটির আর্থিক ব্যবস্থা কার্যত আন্তর্জাতিক লেনদেন থেকে বিচ্ছিন্ন রয়েছে।

২০২১ সালে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা প্রত্যাহারের পর তালেবান আফগানিস্তানের নিয়ন্ত্রণ নেয়। সেই সময় থেকেই রাশিয়া তালেবান প্রশাসনের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার উদ্যোগ নেয়। মস্কো বরাবরই আফগানিস্তানের পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থতা হিসেবে দেখে এসেছে।

এর ধারাবাহিকতায়, ২০২২ ও ২০২৪ সালে তালেবান প্রতিনিধিরা রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক ফোরামে অংশ নেন। ২০২৩ সালে তালেবান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মস্কো সফরের সময় রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
|
চলতি বছরের জুলাইয়ে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন তালেবানকে “সন্ত্রাসবিরোধী মিত্র” হিসেবে অভিহিত করেন। এর আগে, ২০২৪ সালের এপ্রিল মাসে রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে “সন্ত্রাসী সংগঠন” হিসেবে তালিকাভুক্তির নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়। উল্লেখ্য, ২০০৩ সালে তালেবানকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল রাশিয়া।

বিশ্লেষকদের মতে, তালেবান এখন পর্যন্ত আইএসআইএসের (ইসলামিক স্টেট) বিরুদ্ধে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তার স্বার্থে গুরুত্বপূর্ণ। একইসঙ্গে আফগানিস্তানকে অর্থনৈতিক অংশীদার ও গ্যাস পরিবহনের ট্রানজিট হাব হিসেবে দেখতে আগ্রহী মস্কো। ইতোমধ্যে কাবুলে রাশিয়া একটি ব্যবসায়িক কার্যালয়ও খুলেছে।