১০:২২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৭ জানুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
আচরণবিধি লঙ্ঘন: অপসাংবাদিকতার শিকার বললেন মামুনুল হক পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনছে ইসি গুম ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের পাশে তারেক রহমান জাতিসংঘের এলডিসি উত্তরণবিষয়ক প্রতিনিধিদলের বাংলাদেশ সফর স্থগিত ব্রিটিশ নৌবাহিনীর প্রথম স্বয়ংক্রিয় হেলিকপ্টারের সফল প্রথম উড্ডয়ন ৬ কোটি টন ধ্বংসস্তূপের নিচে গা*জা, অপসারণে লাগবে কমপক্ষে সাত বছর ইরানকে ধন্যবাদ জানালেন ট্রাম্প গ্রিনল্যান্ড ইস্যুতে কঠোর ট্রাম্প: বিরোধী দেশে শুল্ক আরোপের হুমকি মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সামরিক ঘাঁটিতে অপ্রয়োজনীয় বিমান সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে গাজা প্রশাসনের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে নতুন বেসামরিক কমিটি গঠন

মিসরে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশিরভাগই কিশোরী

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫
  • / 127

ছবি: সংগৃহীত

মিসরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানী কায়রোর উত্তরে মেনুফিয়ার আশমাউন শহরের একটি আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিক বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই কিশোরী শ্রমিক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা ভোরে কাজে যাচ্ছিলেন। সরকারি সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়ুম জানায়, মিনিবাসটি কাফর আল-সানাবসা গ্রাম থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক আল-আহরামে প্রকাশিত নিহতদের নাম-তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, যাদের মধ্যে দুজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মিসরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, এবং গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই মিনিবাসে তারা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের শিকার হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শুক্রবারের এ দুর্ঘটনায় মাত্র তিনজন শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেছেন, যাদের জেনারেল আশমাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মিসরের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ডলার) এবং আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ জেবরান।

মেনুফিয়া প্রাদেশিক গভর্নর ইব্রাহিম আবু লেইমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ। তিনি দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আঞ্চলিক সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেই একই রাস্তায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একটি পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

মিসরে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত বছর অক্টোবরেও কায়রো-আলেকজান্দ্রিয়া মরুভূমি সড়কে একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হন, যাদের ১৮ জনই আগুনে পুড়ে মারা যান।

সূত্র: রয়টার্স

নিউজটি শেয়ার করুন

মিসরে মিনিবাস-ট্রাক সংঘর্ষে ১৯ শ্রমিকের মৃত্যু, বেশিরভাগই কিশোরী

আপডেট সময় ১২:৫০:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৮ জুন ২০২৫

মিসরে ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত হয়েছেন। শুক্রবার রাজধানী কায়রোর উত্তরে মেনুফিয়ার আশমাউন শহরের একটি আঞ্চলিক সড়কে শ্রমিক বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে ট্রাকের মুখোমুখি সংঘর্ষে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই কিশোরী শ্রমিক বলে স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

দুর্ঘটনার সময় শ্রমিকরা ভোরে কাজে যাচ্ছিলেন। সরকারি সংবাদপত্র আখবার আল-ইয়ুম জানায়, মিনিবাসটি কাফর আল-সানাবসা গ্রাম থেকে শ্রমিকদের কর্মস্থলে নিয়ে যাচ্ছিল, তখনই ট্রাকের সঙ্গে ভয়াবহ সংঘর্ষ ঘটে। রাষ্ট্রীয় দৈনিক আল-আহরামে প্রকাশিত নিহতদের নাম-তালিকা অনুযায়ী, বেশিরভাগই অপ্রাপ্তবয়স্ক কিশোরী, যাদের মধ্যে দুজনের বয়স মাত্র ১৪ বছর।

সরকারি পরিসংখ্যান অনুসারে, মিসরে প্রায় ১৩ লাখ শিশু শ্রমিক হিসেবে কাজ করছে, এবং গ্রামাঞ্চলে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই মিনিবাসে তারা প্রায়ই ঝুঁকিপূর্ণ যাতায়াতের শিকার হয়। ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি মারাত্মকভাবে বাড়ছে। শুক্রবারের এ দুর্ঘটনায় মাত্র তিনজন শ্রমিক প্রাণে বেঁচে গেছেন, যাদের জেনারেল আশমাউন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে মিসরের শ্রম মন্ত্রণালয় জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দুর্ঘটনায় নিহতদের পরিবারকে ২ লাখ মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪ হাজার ডলার) এবং আহতদের প্রত্যেককে ২০ হাজার মিসরীয় পাউন্ড (প্রায় ৪০০ ডলার) করে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন মিসরের শ্রমমন্ত্রী মোহাম্মদ জেবরান।

মেনুফিয়া প্রাদেশিক গভর্নর ইব্রাহিম আবু লেইমন জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত শুরু হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, অতিরিক্ত গতিই এই দুর্ঘটনার পেছনে মূল কারণ। তিনি দেশের পরিবহন মন্ত্রণালয়কে আঞ্চলিক সড়কগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পুনর্মূল্যায়নের আহ্বান জানিয়েছেন।

প্রসঙ্গত, এপ্রিল মাসেই একই রাস্তায় দুটি গাড়ির সংঘর্ষে একটি পরিবারের পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছিল।

মিসরে প্রতি বছর সড়ক দুর্ঘটনায় হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটে। গত বছর অক্টোবরেও কায়রো-আলেকজান্দ্রিয়া মরুভূমি সড়কে একটি বাসসহ বেশ কয়েকটি গাড়ির সংঘর্ষে অন্তত ৩৫ জন নিহত হন, যাদের ১৮ জনই আগুনে পুড়ে মারা যান।

সূত্র: রয়টার্স