ঢাকা ১২:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
নেপালে আন্তর্জাতিক জুডো চ্যাম্পিয়নশিপে বিকেএসপি’র অভাবনীয় সাফল্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রীর অভিনন্দন। কুমিল্লায় বাস-ট্রেন সংঘর্ষে শিশু-নারীসহ নিহত ১২ ফেনীতে ত্রিমুখী সংঘর্ষ: বাস-অ্যাম্বুলেন্স-মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৩ ঈদের দিনে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা: জামালপুরে ভেঙে পড়ল ড্রাম ব্রিজ, নিহত ৫ ইরান যুদ্ধের পরিবেশগত মূল্য: দুই সপ্তাহেই ৫০ লাখ টন কার্বন নিঃসরণ জামালপুরে সেতু ভেঙে ব্রহ্মপুত্র নদে ডুবে ৪ শিশুর মৃত্যু, নিখোঁজ ১ ঈদের খাবার: মোগল দরবার থেকে বাঙালির ঘরে ইরানের আত্মরক্ষার অধিকার আছে: জাতিসংঘ মনে হয় নির্বাচনের পর দেশের মালিকানা অনেকাংশেই মানুষ ফিরে পেয়েছে: অর্থমন্ত্রী ঐক্যবদ্ধ প্রচেষ্টায় গড়তে চাই প্রত্যাশিত বাংলাদেশ: প্রধানমন্ত্রী

২০০৬ বিশ্বকাপ দুর্নীতি: জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০১:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫
  • / 170

ছবি সংগৃহীত

 

২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে কর ফাঁকি ও আর্থিক জালিয়াতির মামলায় জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)-কে জরিমানা করেছে জার্মানির একটি আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী, ডিএফবিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা গুনতে হবে। তবে মামলার দীর্ঘ মেয়াদ বিবেচনায় ২০ হাজার ইউরো মওকুফ করা হয়েছে।

এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনে ডিএফবির ৬৭ লাখ ইউরো পরিশোধ সংক্রান্ত বিতর্ক। ডিএফবি দাবি করেছিল, অর্থটি বিশ্বকাপের গালা অনুষ্ঠানের ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো অনুষ্ঠানই অনুষ্ঠিত হয়নি।

আরও পড়ুন  ডিএমপির প্রসিকিউশন বিভাগে দুর্নীতির অভিযোগ: তদন্তে আদালতের নির্দেশ

তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে ১৭ কোটি ইউরো পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্জনের লক্ষ্যে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। আয়োজক কমিটির মাধ্যমে এই অর্থ আদান-প্রদানের পরিকল্পনা করেন ডিএফবির তৎকালীন কর্মকর্তারা। উল্লেখযোগ্যভাবে, অর্থটি পরোক্ষভাবে ফিফার মাধ্যমে জার্মানির ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা অ্যাডিডাসের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী রবার্ট লুই-ড্রেফাসকে প্রদান করা হয়।

মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ডিএফবির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও ডিএফবি বারবার এই অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে সাফাই দিয়েছে, আদালত সেটি গ্রহণ করেনি। ফলে তাদের জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই ঘটনায় জার্মান ফুটবলের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে এমন দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ডিএফবির ওপর নয়, বরং গোটা ফুটবল ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ডিএফবি যদিও আপাতত এই রায় মেনে নিয়েছে, তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরগুলো নিয়েই জনমনে সন্দেহ থেকে যাবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

২০০৬ বিশ্বকাপ দুর্নীতি: জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা

আপডেট সময় ০১:৩৪:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন ২০২৫

 

২০০৬ সালের ফিফা বিশ্বকাপে কর ফাঁকি ও আর্থিক জালিয়াতির মামলায় জার্মান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (ডিএফবি)-কে জরিমানা করেছে জার্মানির একটি আদালত। আদালতের রায় অনুযায়ী, ডিএফবিকে ১ লাখ ৩০ হাজার ইউরো জরিমানা গুনতে হবে। তবে মামলার দীর্ঘ মেয়াদ বিবেচনায় ২০ হাজার ইউরো মওকুফ করা হয়েছে।

এই মামলার পটভূমিতে রয়েছে ২০০৬ সালের বিশ্বকাপ আয়োজনে ডিএফবির ৬৭ লাখ ইউরো পরিশোধ সংক্রান্ত বিতর্ক। ডিএফবি দাবি করেছিল, অর্থটি বিশ্বকাপের গালা অনুষ্ঠানের ব্যয়ের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবে এমন কোনো অনুষ্ঠানই অনুষ্ঠিত হয়নি।

আরও পড়ুন  ভ্যাট ব্যবস্থায় বিপর্যয়: দুর্নীতির জালে রাজস্ব ঘাটতি ৫৮ হাজার কোটি টাকা

তদন্তে উঠে এসেছে, বিশ্ব ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা থেকে ১৭ কোটি ইউরো পাওয়ার নিশ্চয়তা অর্জনের লক্ষ্যে এই অর্থ প্রদান করা হয়েছিল। আয়োজক কমিটির মাধ্যমে এই অর্থ আদান-প্রদানের পরিকল্পনা করেন ডিএফবির তৎকালীন কর্মকর্তারা। উল্লেখযোগ্যভাবে, অর্থটি পরোক্ষভাবে ফিফার মাধ্যমে জার্মানির ক্রীড়া সরঞ্জাম নির্মাতা অ্যাডিডাসের তৎকালীন প্রধান নির্বাহী রবার্ট লুই-ড্রেফাসকে প্রদান করা হয়।

মামলার দীর্ঘ তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ায় ডিএফবির বিরুদ্ধে কর ফাঁকির স্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়। যদিও ডিএফবি বারবার এই অর্থের স্বচ্ছতা নিয়ে সাফাই দিয়েছে, আদালত সেটি গ্রহণ করেনি। ফলে তাদের জরিমানার মুখোমুখি হতে হয়েছে।

এই ঘটনায় জার্মান ফুটবলের ভাবমূর্তি যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, তেমনি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও সৃষ্টি হয়েছে প্রশ্ন। বিশ্বকাপের মতো বৃহৎ আয়োজনকে ঘিরে এমন দুর্নীতির অভিযোগ শুধু ডিএফবির ওপর নয়, বরং গোটা ফুটবল ব্যবস্থাপনাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ডিএফবি যদিও আপাতত এই রায় মেনে নিয়েছে, তবে ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে আরও কঠোর ও স্বচ্ছ নীতি গ্রহণ করা জরুরি। অন্যথায় ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরগুলো নিয়েই জনমনে সন্দেহ থেকে যাবে।