ঢাকা ০২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 685

ছবি সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের মাঝেই প্রাণ হারালেন ফিলিস্তিনির ফুটবলার

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  মোহাম্মদপুরে লেগুনা দুর্ঘটনায় কিশোরের মৃত্যু

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।