ঢাকা ১০:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫
  • / 500

ছবি সংগৃহীত

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

কক্সবাজারে পৃথক স্থানে পুকুরে ডুবে ৩ শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

আপডেট সময় ০৩:০৪:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ জুন ২০২৫

 

 

কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলায় মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে পুকুরে ডুবে তিন শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। শুক্রবার (১৩ জুন) বিকেলে উপজেলার পৃথক তিনটি স্থানে এই হৃদয়বিদারক ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন  কক্সবাজার আদালত প্রাঙ্গণে গোলাগুলি, গুলিবিদ্ধ ২

নিহত শিশুরা হলো উপজেলার বড়ঘোপ অমজাখালী গ্রামের রোকনুজ্জামানের দুই বছরের কন্যা রাফা, একই গ্রামের জসীম উদ্দিনের দুই বছরের ছেলে তাসিব এবং উত্তর বড়ঘোপ এলাকার মো. দেলোয়ারের পাঁচ বছরের ছেলে তুহিন।

স্থানীয়দের ভাষ্য মতে, শিশু তিনজনই বাড়ির আশপাশে খেলার সময় অসাবধানতাবশত পুকুরে পড়ে যায়। পরিবারের সদস্যরা খোঁজাখুঁজি করে তাদের অচেতন অবস্থায় পুকুর থেকে উদ্ধার করে দ্রুত কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

তবে কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. মাহমুদ জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই শিশু তিনজনই মারা যায়।

কুতুবদিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রেজাউল হাসান বিষয়টির সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “শিশুগুলো হাসপাতালে আনার আগেই মারা যায়। তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি।”

এদিকে, কুতুবদিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান হোসেন জানান, “এ উপজেলায় পুকুরে ডুবে শিশু মৃত্যুর ঘটনা প্রায়ই ঘটে। এর পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে অভিভাবকদের অসচেতনতা ও নজরদারির অভাব। সাংসারিক ব্যস্ততায় শিশুরা একা একা পুকুরপাড়ে চলে যায় এবং এ ধরণের দুর্ঘটনার শিকার হয়।”

ওসি আরও বলেন, “শিশুদের প্রতি বাড়তি নজরদারি এবং সচেতনতা জরুরি। প্রতিটি পরিবারের উচিত ঘরের আশপাশের পুকুর ও জলাধার নিরাপদ রাখা এবং শিশুদের একা বাইরে খেলতে না দেওয়া।”

এই ঘটনার পর পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্থানীয়রা জানান, একইদিনে তিন শিশুর মৃত্যুতে গ্রামে শোকাবহ পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবকদের দাবি, যেন এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে পুকুরগুলোর পাশে সুরক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের ডুবে যাওয়ার ঝুঁকি কমাতে পরিবার ও সমাজের সমন্বিত সচেতনতামূলক উদ্যোগ অত্যন্ত জরুরি। না হলে এমন মর্মান্তিক ঘটনা বারবারই ঘটতে থাকবে।