ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা ‎বিশ্বকাপ ফাইনাল দেখতে গিয়ে নিখোঁজ যুবক, সকালে মিলল মরদেহ ‎আর্জেন্টিনার হার মেনে নিতে না পেরে দুই জনের মৃত্যু সীমান্তে ১০৯ কিমি কাঁটাতারের বেড়ার পরিকল্পনা সরকারের: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কৌশলের ভুলে শিরোপা হারাল আর্জেন্টিনা; বিবিসির বিশ্লেষণ দিল্লিতে বিক্ষোভ ঘিরে সংঘর্ষ, ইন্টারনেট সংযোগ বন্ধ রিজেন্টের সেই সাহেদ ফের গ্রেপ্তার সচিব পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী রাশেদ খাঁন

কঙ্গোর কঙ্গো নদীতে ভয়াবহ নৌকাবিপর্যয়ে ১৪৩ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫
  • / 477

ছবি সংগৃহীত

 

 

আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলের দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ভয়াবহ এক নৌকাবিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন। দেশটির ইকুয়েটুর প্রদেশের রাজধানী এমবানডাকার অদূরে রুকি ও কঙ্গো নদীর মিলনস্থলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, উদ্ধারের অপেক্ষায় স্বজনেরা।

আরও পড়ুন  রাফায় ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলের গুলি, নিহত অন্তত ৩, নিখোঁজ ৭

স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে রান্নার আগুনকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা।

ইকুয়েটুর জাতীয় সহকারীদের প্রতিনিধি দলের প্রধান জোসেফিন-প্যাসিফিক লোকুমু বলেন, কাঠের তৈরি নৌকাটিতে কয়েক শ যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ পুড়ে প্রাণ হারান, কেউবা পানিতে ডুবে মারা যান। আগুন লাগার পরপরই নৌকাটি উল্টে যায়।

লোকুমু জানান, বুধবার প্রথম ধাপে ১৩১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে আরও ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা নাগরিক সমাজের নেতা জোসেফ লোকোন্দো জানান, তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কাজে অংশ নিয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৪৫ বলেই ধারণা করছেন।

নৌকাটিতে থাকা এক নারী রান্নার জন্য আগুন জ্বালিয়েছিলেন, আর সেখানেই পাশে ছিল বিপজ্জনকভাবে রাখা জ্বালানি। মুহূর্তেই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো নৌকায়, মুহূর্তেই নেমে আসে বিভীষিকা।

তবে দুর্ঘটনায় কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অনেকে আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এখনও বহু পরিবার তাঁদের প্রিয়জনের খোঁজে নদীপাড়ে অপেক্ষা করছেন।

কঙ্গোর মতো দুর্বল সড়ক অবকাঠামোর দেশে নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত সাধারণ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। অধিকাংশ সময় নৌকাগুলোতে যাত্রীদের নির্ভরযোগ্য তালিকা না থাকায় উদ্ধার অভিযানও জটিল হয়ে পড়ে।

এর আগেও দেশটিতে একাধিক নৌকাবিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে একই প্রদেশে ডুবে যায় আরেকটি নৌকা, প্রাণ হারান অন্তত ৪৭ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবরেও কিভু হ্রদে নৌকা ডুবে মারা যান ২০ জনের বেশি। ২০১৯ সালে একই হ্রদে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০।

এ ধরনের দুর্ঘটনা কঙ্গোর নৌপরিবহন খাতের নাজুক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন এই বিপজ্জনক পথ।

নিউজটি শেয়ার করুন

কঙ্গোর কঙ্গো নদীতে ভয়াবহ নৌকাবিপর্যয়ে ১৪৩ মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ বহু

আপডেট সময় ১২:০০:৫৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৫

 

 

আফ্রিকার মধ্যাঞ্চলের দেশ গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র কঙ্গোতে ভয়াবহ এক নৌকাবিপর্যয়ে প্রাণ হারিয়েছেন অন্তত ১৪৩ জন। দেশটির ইকুয়েটুর প্রদেশের রাজধানী এমবানডাকার অদূরে রুকি ও কঙ্গো নদীর মিলনস্থলে এ মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গত মঙ্গলবার। এখনো বহু মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন, উদ্ধারের অপেক্ষায় স্বজনেরা।

আরও পড়ুন  টেক্সাসে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় ১০ জনের প্রাণহানি, নিখোঁজ একাধিক

স্থানীয় সময় অনুযায়ী শুক্রবার পর্যন্ত তিন দিনব্যাপী উদ্ধার অভিযানে প্রাণহানির সংখ্যা বাড়ছে বলে জানাচ্ছেন সরকারি কর্মকর্তারা। দুর্ঘটনার জন্য প্রাথমিকভাবে রান্নার আগুনকেই দায়ী করছেন তদন্তকারীরা।

ইকুয়েটুর জাতীয় সহকারীদের প্রতিনিধি দলের প্রধান জোসেফিন-প্যাসিফিক লোকুমু বলেন, কাঠের তৈরি নৌকাটিতে কয়েক শ যাত্রী ছিলেন। আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে আতঙ্কে অনেকে নদীতে ঝাঁপ দেন, কেউ পুড়ে প্রাণ হারান, কেউবা পানিতে ডুবে মারা যান। আগুন লাগার পরপরই নৌকাটি উল্টে যায়।

লোকুমু জানান, বুধবার প্রথম ধাপে ১৩১টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তী দুই দিন বৃহস্পতিবার ও শুক্রবারে আরও ১২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ঘটনাস্থলে থাকা নাগরিক সমাজের নেতা জোসেফ লোকোন্দো জানান, তিনি অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার কাজে অংশ নিয়েছেন এবং প্রাথমিকভাবে নিহতের সংখ্যা ১৪৫ বলেই ধারণা করছেন।

নৌকাটিতে থাকা এক নারী রান্নার জন্য আগুন জ্বালিয়েছিলেন, আর সেখানেই পাশে ছিল বিপজ্জনকভাবে রাখা জ্বালানি। মুহূর্তেই ঘটে যায় বিস্ফোরণ। আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো নৌকায়, মুহূর্তেই নেমে আসে বিভীষিকা।

তবে দুর্ঘটনায় কতজন যাত্রী ছিলেন তা এখনও নিশ্চিতভাবে জানা যায়নি। অনেকে আহত অবস্থায় স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। এখনও বহু পরিবার তাঁদের প্রিয়জনের খোঁজে নদীপাড়ে অপেক্ষা করছেন।

কঙ্গোর মতো দুর্বল সড়ক অবকাঠামোর দেশে নৌপথে যাতায়াত অত্যন্ত সাধারণ হলেও নিরাপত্তা ব্যবস্থার চরম ঘাটতি প্রায়ই প্রাণঘাতী হয়ে ওঠে। অধিকাংশ সময় নৌকাগুলোতে যাত্রীদের নির্ভরযোগ্য তালিকা না থাকায় উদ্ধার অভিযানও জটিল হয়ে পড়ে।

এর আগেও দেশটিতে একাধিক নৌকাবিপর্যয়ের ঘটনা ঘটেছে। ২০২৩ সালে একই প্রদেশে ডুবে যায় আরেকটি নৌকা, প্রাণ হারান অন্তত ৪৭ জন। ২০২৩ সালের অক্টোবরেও কিভু হ্রদে নৌকা ডুবে মারা যান ২০ জনের বেশি। ২০১৯ সালে একই হ্রদে প্রাণহানির সংখ্যা ছিল প্রায় ১০০।

এ ধরনের দুর্ঘটনা কঙ্গোর নৌপরিবহন খাতের নাজুক পরিস্থিতির প্রতিচ্ছবি। জীবনের ঝুঁকি নিয়েই প্রতিদিন হাজারো মানুষ পাড়ি জমাচ্ছেন এই বিপজ্জনক পথ।