ঢাকা ০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
অস্ট্রেলিয়া সিরিজে বাংলাদেশ দলে চমক দেশে এখনও অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্র চলছে: মির্জা ফখরুল মাজারের দিঘির কুমিরকে সরিয়ে নেওয়া হলো খুলনায় নেত্রকোনায় পাওনা দুই হাজার টাকার দ্বন্দ্বে ভাঙারি ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যা সান মারিনো—বিশ্বের প্রাচীনতম প্রজাতন্ত্রের এক অনন্য গল্প মুক্তিযুদ্ধকে অসম্মান করলে আরেকটি গণঅভ্যুত্থান হবে: ইশরাক হোসেন বিদ্যুতের মূল্যবৃদ্ধি; কার্যকর জুন থেকেই বাংলাদেশসহ ৬০ দেশের পণ্যে নতুন মার্কিন শুল্ক প্রত্যেকটি নাগরিককে মাথায় রেখে বাজেট দেওয়া হচ্ছে: অর্থমন্ত্রী শিশু রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে অপরাধ স্বীকার সোহেল রানার, যুক্তিতর্ক বৃহস্পতিবার

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 300

ছবি সংগৃহীত

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় ফের রক্তাক্ত প্রহর: ইসরায়েলি হামলায় শিশু ও নারীসহ ২৩ জনের প্রাণহানি 

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় ব্যর্থতার দায়ে পদত্যাগের প্রস্তুতিতে শিন বেত প্রধান রনেন বার

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।