ঢাকা ০১:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬
শিরোনাম :
‎সৌদিকে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণে সবুজ সংকেত ট্রাম্প প্রশাসনের ‎ মিত্র দলগুলোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর কৃতজ্ঞতা, ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানালেন তারেক রহমান মেসিকে ছাড়াই দেশে টিম আর্জেন্টিনা, লাল গালিচায় উষ্ণ অভ্যর্থনা সাতক্ষীরায় শিশুর মরদেহ আলমারি থেকে উদ্ধার, গণপিটুনিতে নিহত অভিযুক্ত নারী ইরানে টানা মার্কিন হামলার দশম দিন, পাল্টা হামলা কুয়েতে দাবি ইরানের ১৯ জেলায় ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির শঙ্কা, নদীবন্দরে ১ নম্বর সংকেত ‎নরেন্দ্র মোদি বিক্ষোভের মুখে সংসদ ছাড়লেন, রণক্ষেত্র দিল্লিতে ‎মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলার দাবি ‎আজ রাতেও বজ্রবৃষ্টির পূর্বাভাস, ১৬ অঞ্চলে দমকা হাওয়ার সতর্কতা

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫
  • / 399

ছবি সংগৃহীত

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় ৪৮ ঘণ্টায় ১৪ হাজার শিশুর মৃত্যু হতে পারে, আশঙ্কায় জাতিসংঘ

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।

নিউজটি শেয়ার করুন

গা/জা/র এক-তৃতীয়াংশ দখলে নিয়েছে ই*সরা*ইল, মানচিত্র বদলে দিচ্ছে যুদ্ধের আড়ালে

আপডেট সময় ০৯:৫২:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৫

গাজায় চলমান হামলার আড়ালে এক ভয়াবহ পরিবর্তন ঘটছে মানচিত্র বদলে দিচ্ছে দখলদার ইসরাইল। যুদ্ধের নামে চলছে পরিকল্পিত জমি দখল, যেখানে গাজার বড় একটি অংশ এখন সরাসরি ইসরাইলি সেনাবাহিনীর নিয়ন্ত্রণে।

ইসরাইল এখন পর্যন্ত গাজার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এলাকায় সামরিকভাবে ঢুকে পড়েছে এবং এসব অঞ্চলে ‘নিরাপত্তা অঞ্চল’ ঘোষণার নামে সাধারণ মানুষকে জোর করে ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে বাধ্য করছে। ঘর হারানো মানুষের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। শুধুমাত্র গত তিন সপ্তাহেই নতুন করে গৃহহীন হয়েছে প্রায় চার লাখ মানুষ।

সবচেয়ে বিপজ্জনক দিক হলো, গাজার ভেতরে ইতোমধ্যেই চারটি সামরিক করিডর স্থাপন করেছে ইসরাইল। এসব করিডরের কারণে গাজা ভৌগোলিকভাবে ভাগ হয়ে পড়ছে একাধিক খণ্ডে। এই করিডরগুলোর মধ্যে ‘মোরাগ করিডর’ সবচেয়ে বেশি আলোচিত, যা রাফাহ শহরকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন করে ফেলেছে আশপাশের অঞ্চল থেকে। এতে করে দক্ষিণ গাজার বিপুল সংখ্যক মানুষ আবার বাস্তুচ্যুত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি হয়েছে।

আরও পড়ুন  গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আরও কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত যুক্তরাজ্যের

অন্যদিকে, ‘নেতসারিম’ ও ‘কিসুফিম’ করিডরের মাধ্যমে গাজার উত্তরাংশকে কেটে আলাদা করে দেওয়া হয়েছে। ফলে এখন গাজা আর একটি একক ভূখণ্ড নেই বরং বিচ্ছিন্ন, বিভক্ত এক ভাঙা ভূখণ্ডে পরিণত হচ্ছে এই উপত্যকা।

ইসরাইলি মন্ত্রী ইসরাইল কাটজ প্রকাশ্যে ঘোষণা দিয়েছে যে, “এই অঞ্চলগুলোর বড় একটি অংশ এখন আমাদের নিরাপত্তা অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাচ্ছে।”

এখন গাজার দুই-তৃতীয়াংশ এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশ নিষিদ্ধ। বসবাস নিষেধ। এর অর্থ, ধাপে ধাপে গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের চিরতরে সরিয়ে ফেলার একটি পরিকল্পিত প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল।

এই অবস্থাকে শুধুমাত্র যুদ্ধ নয়, বরং জাতিগত নির্মূল ও দখলদারির এক নতুন রূপ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকেরা। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নীরবতা এবং কার্যকর প্রতিরোধের অভাবে গাজা হয়ে উঠছে একটি মানচিত্রহীন, অধিকারহীন, নিঃস্ব জনগোষ্ঠীর নাম।