প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সংগীত শিক্ষা চালু করছে সরকার: সংস্কৃতিমন্ত্রী
- আপডেট সময় ০৪:২৩:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ১ এপ্রিল ২০২৬
- / 44
দেশের প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত সাধারণ প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে সংগীত শিক্ষা চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে মার্কিন দূতাবাস আয়োজিত একটি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এই গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দেন।
সংস্কৃতিমন্ত্রী জানান, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে এই উদ্যোগটি ‘ক্লাস্টার’ বা গুচ্ছভিত্তিক পদ্ধতিতে বাস্তবায়ন করা হবে। এই অভিনব পদ্ধতিতে সংগীত প্রশিক্ষকেরা একটি নির্দিষ্ট উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে ঘুরে ঘুরে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করবেন। এর ফলে প্রতিটি স্কুলেই দক্ষ প্রশিক্ষকের মাধ্যমে সংগীত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
সরকার প্রতিটি জেলা ও উপজেলার স্কুলপর্যায়ে সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ছড়িয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, “প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি আমাদের মন্ত্রণালয় প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত সব প্রতিষ্ঠানে উপজেলাভিত্তিক পদ্ধতিতে সংগীত শিক্ষা নিশ্চিত করবে।” তিনি আরও জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় যেভাবে নিয়মিত ক্রীড়া প্রতিযোগিতার আয়োজন করে, শিক্ষার্থীদের মধ্যে সাংস্কৃতিক সচেতনতা বাড়াতে একইভাবে জাতীয় পর্যায়ে সংগীত প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হচ্ছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় জেলা ও উপজেলাপর্যায়ে সংগীত শিক্ষক নিয়োগ বাতিল সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, সেই সময়ে সব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত সংগীত শিক্ষক পাওয়া যেত না এবং নিয়োগপ্রাপ্তরা মূলত জেলাপর্যায়ের স্কুলগুলোতে কেন্দ্রীভূত ছিলেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচিত না হওয়ায় জনগণের কাছে তাদের সরাসরি দায়বদ্ধতা ছিল না।
মন্ত্রী আরও যোগ করেন, “ওই সময়ে কিছু ভালো সিদ্ধান্তের পাশাপাশি এমন কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল যা আমাদের মতে এড়িয়ে যাওয়া যেত। তবে আমি বলব না যে সেগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ছিল।” বর্তমান সরকার তৃণমূল পর্যায়ে সংস্কৃতিকে পৌঁছে দিতে দায়বদ্ধ বলে তিনি উল্লেখ করেন।
এই উদ্যোগের ফলে দেশের তৃণমূল পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা শুদ্ধ সংগীত ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। খুব শীঘ্রই নিয়োগ প্রক্রিয়া এবং প্রশিক্ষণ পদ্ধতি নিয়ে বিস্তারিত নীতিমালা প্রকাশ করবে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়।






















