ঢাকা ০৫:৪০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী বলিভিয়া: আন্দেসের হৃদয়ে লুকানো বৈচিত্র্যময় দেশ মধ্যপ্রাচ্যের ১৫ দেশ ছাড়ার জরুরি নির্দেশ দিল যুক্তরাষ্ট্র

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 293

ছবি সংগৃহীত

 

মিয়ানমারে কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তর মিয়ানমারের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ অন্যতম ছিল এই মিং পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকশ অনলাইন জালিয়াতি কেন্দ্র, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামক একটি কেন্দ্র থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্যমতে, এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করত, যাদের অনেককেই পাচার করে এনে দাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

আরও পড়ুন  শুল্ক নীতিতে এশিয়ার দেশগুলোর চীনের প্রতি ঝোঁক বাড়ার শঙ্কা

২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চীন এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। চক্রের মূল হোতা মিং শুয়েচাং একসময় মিয়ানমারের সংসদ সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশি হেফাজতে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালত গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। তবে চীনের সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম পিপলস কোর্ট’ মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্বের রায় বহাল রাখে। সিনহুয়া জানিয়েছে, এই অপরাধী গোষ্ঠীটি অন্য এক চক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে মিলে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করেছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে শেষবার সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় এই ধরনের জালিয়াতি চক্রগুলো বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পর চীন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।

নিউজটি শেয়ার করুন

একই পরিবারের ১১ জনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল চীন

আপডেট সময় ০৩:৩৪:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

 

মিয়ানমারে কুখ্যাত অনলাইন প্রতারণা ও অপরাধচক্র পরিচালনার দায়ে একই পরিবারের ১১ সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে চীন। বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ও সিএনএন-এর প্রতিবেদনে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।

উত্তর মিয়ানমারের অপরাধ জগতের নিয়ন্ত্রক তথাকথিত ‘চার পরিবারের’ অন্যতম ছিল এই মিং পরিবার। তাদের বিরুদ্ধে কয়েকশ অনলাইন জালিয়াতি কেন্দ্র, পতিতাবৃত্তি ও মাদক উৎপাদনের মতো গুরুতর অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। চক্রটি মিয়ানমার-চীন সীমান্তবর্তী কোকাং অঞ্চলের ‘ক্রাউচিং টাইগার ভিলা’ নামক একটি কেন্দ্র থেকে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করত। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভির তথ্যমতে, এই চক্রে প্রায় ১০ হাজার কর্মী কাজ করত, যাদের অনেককেই পাচার করে এনে দাসের মতো কাজ করতে বাধ্য করা হতো।

আরও পড়ুন  বাণিজ্য ঘাটতি বাড়ছেই, চীনে রফতানি বাড়াতে প্রয়োজন বৈচিত্র্য ও বিনিয়োগ

২০২৩ সালে আন্তর্জাতিক চাপের মুখে চীন এই অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে সাঁড়াশি অভিযান শুরু করে। চক্রের মূল হোতা মিং শুয়েচাং একসময় মিয়ানমারের সংসদ সদস্য ছিলেন। গ্রেপ্তারের পর তিনি পুলিশি হেফাজতে আত্মহত্যা করেন। পরবর্তীতে তার ছেলে মিং গুওপিং এবং নাতনি মিং ঝেনঝেনসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের গ্রেপ্তার করা হয়। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে হত্যা, অবৈধ আটক ও জালিয়াতির অকাট্য প্রমাণ পাওয়ায় আদালত গত বছরের সেপ্টেম্বরে তাদের মৃত্যুদণ্ড প্রদান করেন।

দণ্ডপ্রাপ্তদের মধ্যে দুজন রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করেছিলেন। তবে চীনের সর্বোচ্চ আদালত ‘সুপ্রিম পিপলস কোর্ট’ মামলার গুরুত্ব বিবেচনা করে পূর্বের রায় বহাল রাখে। সিনহুয়া জানিয়েছে, এই অপরাধী গোষ্ঠীটি অন্য এক চক্রের নেতা উ হংমিংয়ের সঙ্গে মিলে অন্তত ১৪ জন চীনা নাগরিককে হত্যা ও অসংখ্য মানুষকে পঙ্গু করেছিল। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে দণ্ডপ্রাপ্তদের নিকটাত্মীয়দের সঙ্গে শেষবার সাক্ষাতের সুযোগ দেওয়া হয়।

ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অফ পিস-এর তথ্য অনুযায়ী, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সক্রিয় এই ধরনের জালিয়াতি চক্রগুলো বছরে ৪৩ বিলিয়ন ডলারেরও বেশি অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে পাচার হওয়া শ্রমিকদের স্বজনদের অভিযোগ এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারের পর চীন এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করল।