ঢাকা ০৬:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ইঞ্জিন সংকট, ট্রেন চলাচলে বিশৃঙ্খলা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫
  • / 212

ছবি সংগৃহীত

 

 

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মারাত্মক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকট। যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রতিদিন যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৭২টি ইঞ্জিন, সেখানে কার্যত পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৩টি। এতে করে একদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইঞ্জিনগুলো, অন্যদিকে প্রতিটি ট্রেন ছাড়ছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে।

আরও পড়ুন  শক্তিশালী ষড়যন্ত্রের ছায়ায় বেলুচিস্তানে ট্রেন ছিনতাই, রাষ্ট্রীয় শক্তির জড়িত থাকা নিয়ে সন্দেহ

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-জামালপুর রুটে প্রায় সময়ই ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।’

শুধু যাত্রীবাহী নয়, পণ্যবাহী কন্টেইনার ও তেলবাহী ট্রেন চলাচলেও দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। যেখানে প্রতিদিন ১৩টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, সেখানে চলছে মাত্র ৫টি দিয়ে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা কমলাপুর আইসিডিতে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য দরকার ৪টি ইঞ্জিন, কিন্তু মিলছে কেবল একটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আবারও আইসিডিতে কন্টেইনার জট তৈরি হবে। আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ইঞ্জিন সংখ্যা ও ডেইলি রেলপাস বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছি।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ২৭-২৮টি ইঞ্জিনের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহ না হওয়া এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি না আসায় সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।’

নিয়ম অনুযায়ী একটি ইঞ্জিন চালনার পর ৪৫ মিনিট ফুয়েল ও মেইনটেন্যান্স চেক এবং আরও ৪৫ মিনিট এলএম চেকিংয়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর ৬ ঘণ্টার পূর্ণ শাটডাউন দিয়ে পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা আর মানা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ইঞ্জিনগুলোর আয়ুষ্কাল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

রেলস্টেশন ও শেডে প্রতিদিন ১৩টি শান্টিং ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৪টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণআন্দোলনের মুখে পতিত সরকারের আমলে রেল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও জরুরি যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ইঞ্জিন সংগ্রহে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন চালু থাকা আড়াইশ’র বেশি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন এখন ইঞ্জিন সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার।

নিউজটি শেয়ার করুন

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে ভয়াবহ ইঞ্জিন সংকট, ট্রেন চলাচলে বিশৃঙ্খলা

আপডেট সময় ১১:৪৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১২ জুলাই ২০২৫

 

 

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলে দেখা দিয়েছে মারাত্মক লোকোমোটিভ (ইঞ্জিন) সংকট। যাত্রীবাহী ট্রেন পরিচালনার জন্য প্রতিদিন যেখানে প্রয়োজন অন্তত ৭২টি ইঞ্জিন, সেখানে কার্যত পাওয়া যাচ্ছে মাত্র ৫৩টি। এতে করে একদিকে রক্ষণাবেক্ষণ ও বিশ্রামের সুযোগ না পেয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে ইঞ্জিনগুলো, অন্যদিকে প্রতিটি ট্রেন ছাড়ছে এক থেকে দেড় ঘণ্টা বিলম্বে।

আরও পড়ুন  ঈদযাত্রার স্বস্তির ছোঁয়া: নির্ধারিত সময়েই ট্রেন, যাত্রীদের মুখে হাসি

চট্টগ্রাম রেলস্টেশনের ব্যবস্থাপক আবু বকর সিদ্দিক জানান, ‘ইঞ্জিন সংকটের কারণে চট্টগ্রাম-সিলেট এবং চট্টগ্রাম-জামালপুর রুটে প্রায় সময়ই ট্রেন ছাড়তে দেরি হয়। এতে যাত্রীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন।’

শুধু যাত্রীবাহী নয়, পণ্যবাহী কন্টেইনার ও তেলবাহী ট্রেন চলাচলেও দেখা দিয়েছে চরম বিপর্যয়। যেখানে প্রতিদিন ১৩টি ইঞ্জিন প্রয়োজন, সেখানে চলছে মাত্র ৫টি দিয়ে। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর থেকে ঢাকা কমলাপুর আইসিডিতে কন্টেইনার পরিবহনের জন্য দরকার ৪টি ইঞ্জিন, কিন্তু মিলছে কেবল একটি।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে আবারও আইসিডিতে কন্টেইনার জট তৈরি হবে। আমরা রেল কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে ইঞ্জিন সংখ্যা ও ডেইলি রেলপাস বাড়ানোর অনুরোধ জানিয়েছি।’

রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের চীফ অপারেটিং সুপারিনটেনডেন্ট মো. শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘প্রতিদিন ২৭-২৮টি ইঞ্জিনের ঘাটতি রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নতুন ইঞ্জিন সংগ্রহ না হওয়া এবং সময়মতো রক্ষণাবেক্ষণের যন্ত্রপাতি না আসায় সংকট আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।’

নিয়ম অনুযায়ী একটি ইঞ্জিন চালনার পর ৪৫ মিনিট ফুয়েল ও মেইনটেন্যান্স চেক এবং আরও ৪৫ মিনিট এলএম চেকিংয়ের প্রয়োজন হয়। এছাড়া প্রতি ৭২ ঘণ্টা পর ৬ ঘণ্টার পূর্ণ শাটডাউন দিয়ে পরীক্ষার নিয়ম থাকলেও বর্তমানে তা আর মানা সম্ভব হচ্ছে না। এতে ইঞ্জিনগুলোর আয়ুষ্কাল দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

রেলস্টেশন ও শেডে প্রতিদিন ১৩টি শান্টিং ইঞ্জিন প্রয়োজন হলেও ব্যবহার হচ্ছে মাত্র ২ থেকে ৪টি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গণআন্দোলনের মুখে পতিত সরকারের আমলে রেল খাতে হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হলেও জরুরি যন্ত্রপাতি, বিশেষ করে ইঞ্জিন সংগ্রহে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে পূর্বাঞ্চলে প্রতিদিন চালু থাকা আড়াইশ’র বেশি যাত্রী ও পণ্যবাহী ট্রেন এখন ইঞ্জিন সংকটে চরম ভোগান্তির শিকার।