ঢাকা ১০:৪৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ ২০২৬, ১৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
ঢাকাসহ ৪ বিভাগে হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা: বাড়তে পারে দিনের তাপমাত্রা দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে আর জড়াবে না যুক্তরাষ্ট্র: ফক্স নিউজকে জেডি ভ্যান্স ইরানকে চিরতরে দমানোর ছক করছে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল ঃ হাকান ফিদান শেয়ারবাজার কারসাজি: সাকিবসহ ১৫ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন পেছাল ইরান সমঝোতার জন্য প্রস্তুত থাকা সত্ত্বেও তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। নওগাঁ আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে বিএনপির একচেটিয়া জয়, শূন্য হাতে জামায়াত শাহজালাল বিমানবন্দরে চারদিনে ১৪৭ ফ্লাইট বাতিল দুদকে পরিবর্তন, চেয়ারম্যান-কমিশনারদের পদত্যাগ পলিটেকনিকে সংঘর্ষ: রক্তের ‘বদলা’ নেওয়ার হুঁশিয়ারি ছাত্রদল সভাপতির বিলবোর্ড ও ব্যানার থেকে নিজের ছবি সরানোর নির্দেশ: প্রধানমন্ত্রী

৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশে উত্তাল কুয়েট, ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫
  • / 185

ছবি সংগৃহীত

 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুয়েট প্রশাসন ভিত্তিহীন অভিযোগে গত সোমবার ৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এতে বলা হয়, তাদেরকে ১৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার যে অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা সত্যনির্ভর নয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়াটি প্রহসনমূলক। এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন  কুয়েটে আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা, ক্যাম্পাস ছাড়ছেন শিক্ষার্থীরা

এদিকে, একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ক্লাসে ফেরেননি কুয়েটের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে। তিনি বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকবো।”

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন শোকজ প্রত্যাহারের দাবিতে, অন্যদিকে শিক্ষকরা অবস্থান নিচ্ছেন শাস্তির দাবিতে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।

নিউজটি শেয়ার করুন

৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশে উত্তাল কুয়েট, ক্লাসে ফেরেননি শিক্ষকরা

আপডেট সময় ০৩:৪৩:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ মে ২০২৫

 

খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট) ৩৭ শিক্ষার্থীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়ার প্রতিবাদে উত্তাল হয়ে উঠেছে ক্যাম্পাস। মঙ্গলবার (১৩ মে) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টুডেন্ট ওয়েলফেয়ার সেন্টারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল শুরু করে পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করেন। পরে তারা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নেন এবং উপাচার্যের সঙ্গে দেখা করে দাবি তুলে ধরেন।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, কুয়েট প্রশাসন ভিত্তিহীন অভিযোগে গত সোমবার ৩৭ শিক্ষার্থীকে শোকজ নোটিশ দিয়েছে। এতে বলা হয়, তাদেরকে ১৫ মে বিকেল ৫টার মধ্যে লিখিতভাবে কারণ দর্শাতে হবে। শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, শিক্ষকদের লাঞ্ছনার যে অভিযোগে নোটিশ দেওয়া হয়েছে, তা সত্যনির্ভর নয় এবং তদন্ত প্রক্রিয়াটি প্রহসনমূলক। এ বিষয়ে দ্রুত সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করেন তারা।

আরও পড়ুন  শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনায় কুয়েট ক্যাম্পাসে শিক্ষা উপদেষ্টা

এদিকে, একাডেমিক কার্যক্রম চালু হওয়ার সাতদিন পেরিয়ে গেলেও এখনও ক্লাসে ফেরেননি কুয়েটের শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মো. সাহিদুল ইসলাম জানান, লাঞ্ছনার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়া পর্যন্ত ক্লাস ও পরীক্ষা বর্জন চলবে। তিনি বলেন, “আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে যদি প্রশাসন ব্যবস্থা না নেয়, তাহলে আমরা প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকেও বিরত থাকবো।”

এই অবস্থায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। একদিকে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ করছেন শোকজ প্রত্যাহারের দাবিতে, অন্যদিকে শিক্ষকরা অবস্থান নিচ্ছেন শাস্তির দাবিতে। ফলে দুই পক্ষের অবস্থান সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র কল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ ইলিয়াছ আক্তার বলেন, “শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে জবাব পাওয়ার পর পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।”

শিক্ষার্থী ও শিক্ষক উভয় পক্ষের অনড় অবস্থানে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল। দ্রুত সমঝোতায় না পৌঁছালে শিক্ষার পরিবেশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।