ঢাকা ০৫:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
সামোয়া: পলিনেশিয়ার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন সমৃদ্ধ খাদ্য ভান্ডার গড়ার প্রত্যয়: ‘কৃষক’ পরিচয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশীদ ইয়াছিন ডাকসুতে অন্তর্কোন্দল: সাদিক কায়েমদের বিরুদ্ধে ফাতেমা জুমার ক্ষোভ ঘুমের ট্যাবলেট খেয়ে ঢাবি ছাত্র ইউনিয়ন সভাপতি মেঘমল্লার বসুর আত্মহত্যার চেষ্টা কুষ্টিয়ায় ট্রাকের ধাক্কায় অটোরিকশার ৫ যাত্রী নিহত অর্থনীতি সংস্কারে বড় পরিকল্পনা: শেয়ারবাজার ও বিনিয়োগ নিয়ে অর্থমন্ত্রীর ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে বিক্ষোভে উত্তাল ইউরোপের আরেক দেশ মোটরসাইকেলে এসে গ্রামবাসীকে ব্রাশফায়ার, নিহত ৫০ ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের সূচনা : প্রতিমন্ত্রী ইশরাক ভোক্তা অধিকারের অভিযানে বাঁধা: পুলিশ মামলা না নেওয়ায় মিলনের বিস্ময়

সামোয়া: পলিনেশিয়ার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৫:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 8

ছবি: সংগৃহীত

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত সামোয়া, ওশেনিয়া মহাদেশের পলিনেশিয়া অঞ্চলের একটি স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি প্রধানত দুটি বড় দ্বীপ, উপোলু ও সাভাইই এবং কয়েকটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানীর নাম আপিয়া।

ইতিহাসের শুরুতে, সামোয়া ছিল পলিনেশীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাজার বছর আগে এখানকার মানুষ সমুদ্রপথে ভ্রমণ করে বিভিন্ন দ্বীপে বসতি গড়ে তোলে। ১৯শ শতকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ে এবং একসময় জার্মানির নিয়ন্ত্রণে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নিউজিল্যান্ড প্রশাসনিক দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের পর ১৯৬২ সালে সামোয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর একটি।

রাজনৈতিকভাবে, সামোয়া একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক দ্বীপ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী মিলে দেশ পরিচালনা করেন। ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, যাকে “মাতাই” ব্যবস্থা বলা হয়, এখনো রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ঐতিহ্যের একটি ভারসাম্য এখানে দেখা যায়।

আরও পড়ুন  ব্রাজিলে ইতিহাস গড়া বিচার

নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার তুলনামূলক ভালো। কৃষি, মৎস্য ও প্রবাসী আয়ের ওপর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই ক্ষতি করে। এছাড়া সীমিত শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ধর্মীয়ভাবে, সামোয়ার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, সামোয়া তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রতট, জলপ্রপাত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। পর্যটকরা এখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, নৃত্য ও উৎসব উপভোগ করতে পারেন। ডাইভিং, স্নরকেলিং এবং দ্বীপভ্রমণ জনপ্রিয় কার্যক্রম। যদিও পর্যটন দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস, তবে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পর্যটক সংখ্যা তুলনামূলক সীমিত।

সব মিলিয়ে, সামোয়া এমন একটি দেশ যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা একসঙ্গে এগিয়ে চলছে। ছোট হলেও এটি পলিনেশিয়ার পরিচয় ও ইতিহাসকে শক্তভাবে ধারণ করে আছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

সামোয়া: পলিনেশিয়ার ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মিলন

আপডেট সময় ০৫:১০:২৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত সামোয়া, ওশেনিয়া মহাদেশের পলিনেশিয়া অঞ্চলের একটি স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্র। দেশটি প্রধানত দুটি বড় দ্বীপ, উপোলু ও সাভাইই এবং কয়েকটি ছোট দ্বীপ নিয়ে গঠিত। রাজধানীর নাম আপিয়া।

ইতিহাসের শুরুতে, সামোয়া ছিল পলিনেশীয় সভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। হাজার বছর আগে এখানকার মানুষ সমুদ্রপথে ভ্রমণ করে বিভিন্ন দ্বীপে বসতি গড়ে তোলে। ১৯শ শতকে ইউরোপীয় শক্তিগুলোর আগ্রহ বাড়ে এবং একসময় জার্মানির নিয়ন্ত্রণে যায়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর নিউজিল্যান্ড প্রশাসনিক দায়িত্ব পায়। দীর্ঘ রাজনৈতিক আন্দোলনের পর ১৯৬২ সালে সামোয়া স্বাধীনতা লাভ করে। এটি প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের প্রথম স্বাধীন দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর একটি।

রাজনৈতিকভাবে, সামোয়া একটি সংসদীয় গণতান্ত্রিক দ্বীপ রাষ্ট্র। রাষ্ট্রপ্রধান ও প্রধানমন্ত্রী মিলে দেশ পরিচালনা করেন। ঐতিহ্যবাহী সামাজিক কাঠামো, যাকে “মাতাই” ব্যবস্থা বলা হয়, এখনো রাজনীতি ও সমাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা ও ঐতিহ্যের একটি ভারসাম্য এখানে দেখা যায়।

আরও পড়ুন  ইতিহাস গড়লো বিটকয়েন, প্রথমবারের মতো মূল্য ১ লাখ ২০ হাজার ডলার ছাড়াল

নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে এবং সাক্ষরতার হার তুলনামূলক ভালো। কৃষি, মৎস্য ও প্রবাসী আয়ের ওপর অর্থনীতি অনেকটাই নির্ভরশীল। তবে ঘূর্ণিঝড় ও প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই ক্ষতি করে। এছাড়া সীমিত শিল্প ও কর্মসংস্থানের সুযোগ একটি বড় চ্যালেঞ্জ।

ধর্মীয়ভাবে, সামোয়ার অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান এবং ধর্মীয় মূল্যবোধ সামাজিক জীবনে গভীর প্রভাব ফেলে।

ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, সামোয়া তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রতট, জলপ্রপাত ও ঐতিহ্যবাহী সংস্কৃতির জন্য পরিচিত। পর্যটকরা এখানে স্থানীয় সংস্কৃতি, নৃত্য ও উৎসব উপভোগ করতে পারেন। ডাইভিং, স্নরকেলিং এবং দ্বীপভ্রমণ জনপ্রিয় কার্যক্রম। যদিও পর্যটন দেশটির জন্য গুরুত্বপূর্ণ আয়ের উৎস, তবে ভৌগোলিক দূরত্বের কারণে পর্যটক সংখ্যা তুলনামূলক সীমিত।

সব মিলিয়ে, সামোয়া এমন একটি দেশ যেখানে ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও আধুনিক রাষ্ট্রব্যবস্থা একসঙ্গে এগিয়ে চলছে। ছোট হলেও এটি পলিনেশিয়ার পরিচয় ও ইতিহাসকে শক্তভাবে ধারণ করে আছে।