মাইক্রোনেশিয়া: প্রশান্ত মহাসাগরের দ্বীপভিত্তিক এক অনন্য রাষ্ট্র
- আপডেট সময় ০৬:০৪:০৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 29
মাইক্রোনেশিয়া, যার পূর্ণ নাম Federated States of Micronesia, হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট কিন্তু ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ দেশ। এটি ওশেনিয়া মহাদেশের অংশ এবং চারটি প্রধান রাজ্য নিয়ে গঠিত: ইয়াপ, চুক, পোনপেই ও কোস্রাই। রাজধানী পালিকির, যা পোনপেই দ্বীপে অবস্থিত।
ইতিহাসের শুরুতে, এখানে প্রাচীন মাইক্রোনেশীয় জনগোষ্ঠী বসবাস করত। বিশেষ করে নান মাদল নামের প্রাচীন নগরীর ধ্বংসাবশেষ আজও ঐতিহাসিক নিদর্শন হিসেবে পরিচিত। ষোড়শ শতকে ইউরোপীয় নাবিকদের আগমন ঘটে। পরে এটি স্পেন, জার্মানি ও জাপানের শাসনের অধীনে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর অঞ্চলটি যুক্তরাষ্ট্রের তত্ত্বাবধানে ছিল। অবশেষে ১৯৮৬ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে এবং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে “কমপ্যাক্ট অব ফ্রি অ্যাসোসিয়েশন” চুক্তির মাধ্যমে বিশেষ সম্পর্ক বজায় রাখে।
রাজনৈতিকভাবে, মাইক্রোনেশিয়া একটি গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র। এখানে প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে কাজ করেন। জাতীয় কংগ্রেসের সদস্যদের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন । যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির কারণে দেশটি আর্থিক সহায়তা ও নিরাপত্তা সুবিধা পায়।
নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। তবে উন্নত চিকিৎসা ও উচ্চশিক্ষার জন্য অনেকেই বিদেশে যায়। কর্মসংস্থানের সুযোগ সীমিত এবং অর্থনীতি মূলত মৎস্য, কৃষি ও বিদেশি সহায়তার ওপর নির্ভরশীল। জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এখানকার জন্য বড় হুমকি।
ধর্মীয় দিক থেকে, অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই কম এবং উল্লেখযোগ্য কোনো ঐতিহাসিক মুসলিম অবদান নেই। তবে ধর্মীয় সহাবস্থান শান্তিপূর্ণ।
ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, মাইক্রোনেশিয়া তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, প্রবাল প্রাচীর ও ডাইভিং স্পটের জন্য পরিচিত। চুক লেগুন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের জাহাজডুবির জন্য ডাইভারদের কাছে আকর্ষণীয় স্থান। এখানকার সমুদ্রজীবন ও ঐতিহাসিক নিদর্শন পর্যটকদের টানে। তবে দূরত্ব ও সীমিত যোগাযোগ ব্যবস্থার কারণে পর্যটন এখনো সীমিত আকারে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, মাইক্রোনেশিয়া ছোট আকারের হলেও ইতিহাস, সংস্কৃতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের দিক থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় রাষ্ট্র।


























