জাতীয় গ্রিডে ১২০০ ইউনিট সৌরবিদ্যুৎ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী
- আপডেট সময় ১০:৫০:০২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩ অক্টোবর ২০২৬
- / 26
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান রাজধানীর গুলশানে নিজের বাসভবনের ছাদে সৌর প্যানেল বসিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করছেন। গত তিন দিনে উৎপাদিত বিদ্যুতের মধ্যে এক হাজার ইউনিট নিজে ব্যবহার করেছেন এবং এক হাজার ২০০ ইউনিট জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করেছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
শনিবার (৩ অক্টোবর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে সমবায় ভবনে দেশের সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালকদের (ডিডি-এলজি) অংশগ্রহণে আয়োজিত ‘সৌরবিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন’ কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শুধু ঘোষণাই দেননি, নিজের বাসভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে উদাহরণ তৈরি করেছেন। সমবায় ভবনসহ জাতীয় পর্যায়ের বিভিন্ন সরকারি ভবনের ছাদ কাজে লাগিয়ে নিজস্ব বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনকে ব্যবসা হিসেবেও বিবেচনা করার কথা বলেন তিনি।
সভায় স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান এবং জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী উপস্থিত ছিলেন।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার আশঙ্কা মোকাবিলায় মাঠপর্যায়ে সতর্ক থাকার জন্য ইউএনওদের নির্দেশ দেন মীর শাহে আলম। তিনি বলেন, কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা হতে দেওয়া যাবে না।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে ইউএনওদের সর্বশক্তি প্রয়োগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে সরকার তাঁদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।
দরিদ্র মানুষের জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনওদের একটি ঐচ্ছিক তহবিল থাকা প্রয়োজন বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তাঁর মতে, এ তহবিল থেকে অসচ্ছল মানুষকে তাৎক্ষণিকভাবে দুই থেকে পাঁচ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া সম্ভব হবে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় অর্থের জোগান দিতে না পারলে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় রাজস্ব আয় থেকে বরাদ্দ দেওয়ার ব্যবস্থা করবে।
উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করে বিদ্যুতের নেট মিটারিং পদ্ধতি নিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর কথাও বলেন প্রতিমন্ত্রী।
সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ইউএনওদের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন কার্ড ও খাল খননসহ গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্পগুলো মাঠপর্যায়ে তাঁদের তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়িত হচ্ছে। প্রতিবছর জেলা প্রশাসক সম্মেলনের মতো ইউএনওদের বার্ষিক সম্মেলন আয়োজন করা হলে উপজেলা পর্যায়ের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড ও সমস্যা সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর কাছে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হবে।
বিএনপি সরকারকে জনগণের সরকার হিসেবে উল্লেখ করে মীর শাহে আলম বলেন, তাঁর দল নারীর ক্ষমতায়নে বিশ্বাসী। অতীতের স্বৈরাচারী শাসনামলে সরকারের নির্দেশনা পালন করতে গিয়ে অনেক কর্মকর্তাকে চাকরি হারাতে হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। বিএনপি সরকার কর্মকর্তাদের দিয়ে রাতে ভোট নেওয়া বা ডামি নির্বাচন করাবে না বলে দাবি করেন প্রতিমন্ত্রী।
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, মিরপুরের ঘটনার পর বিএনপির উত্তরাঞ্চলীয় কমিটি বাতিল করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কোনো সংসদ সদস্যের ব্যক্তিগত দায় সরকার নেবে না বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া নদী ও পুকুরের পানি পরিশোধনের মাধ্যমে নিরাপদ পানির সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন মীর শাহে আলম। এতে ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।





















