ঢাকা ০৭:৫৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
শিরোনাম :
সম্পত্তি রক্ষায় কঠোর পদক্ষেপের ঘোষণা ভূমিমন্ত্রীর পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান জাতিসংঘ অধিবেশনে যোগ দিতে ২১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী আসিফের বিরুদ্ধে ১১ হাজার কোটি টাকা পাচারের অভিযোগ ১৪৯ বছর পর টেস্টে নতুন ইতিহাস গড়লেন জো রুট শিশু ধর্ষণ মামলায় চট্টগ্রামে প্রতিবেশীর আমৃত্যু কারাদণ্ড ভারতের সঙ্গে নতুন ও কার্যকর সম্পর্ক চায় সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী দেশে মেধার অভাব নেই, প্রয়োজন গবেষণার সুযোগ: মাহদী আমিন গ্যাস সংকটের মূল কারণ অনুসন্ধান ও উত্তোলনে ঘাটতি: একান্ত সাক্ষাৎকারে ড. বদরুল ইমাম গালিগালাজ আর গঠনমূলক সমালোচনা এক বিষয় নয়: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • / 28

ছবি সংগৃহীত

 

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  বাংলাদেশের সামনে দারুণ সুযোগ: বিশ্বকাপ নিশ্চিত করার লড়াই

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের তৈরি পোশাকের জনপ্রিয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান ইমরান হায়দার।

ঢাকা ও করাচির মধ্যে চলতি বছর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান হাইকমিশনার।

এর জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এবং ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি তাকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

পাকিস্তানের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াতে রাষ্ট্রপতির আহ্বান

আপডেট সময় ০৭:০২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 

পাকিস্তানের সঙ্গে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ, বিমান যোগাযোগ, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণসহ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা আরও জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। দুই দেশের ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়িয়ে নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার ইমরান হায়দার রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির প্রেস উইং এ তথ্য জানিয়েছে।

আরও পড়ুন  আজ থেকে নতুন দামে বিক্রি হবে স্বর্ণ, ভরি কত?

সাক্ষাৎকালে পাকিস্তানের হাইকমিশনার দেশটির রাষ্ট্রপতি আসিফ আলি জারদারির পক্ষ থেকে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে পাকিস্তান সফরের আমন্ত্রণের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রাষ্ট্রপতি এ আমন্ত্রণের জন্য ধন্যবাদ জানান এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতিকেও সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

রাষ্ট্রপতি বলেন, পাকিস্তান বিভিন্ন ক্ষেত্রে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার। দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারণ করা গেলে উভয় দেশের জনগণ উপকৃত হবে। এ জন্য ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি নতুন বাণিজ্যিক সম্ভাবনা কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

বাংলাদেশে পাকিস্তানের তৈরি পোশাকের জনপ্রিয়তার বিষয়টি উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিশেষ করে নারীদের পোশাক বাংলাদেশে বেশ জনপ্রিয়। পাকিস্তানি তৈরি পোশাক, কটন ইয়ার্নসহ বিভিন্ন পণ্য বাংলাদেশে রপ্তানির সম্ভাবনা কাজে লাগানোর পাশাপাশি দুই দেশের বাণিজ্যকে আরও ভারসাম্যপূর্ণ করার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

হাইকমিশনার জানান, পাকিস্তানের তৈরি পণ্য নিয়ে অক্টোবরে ঢাকায় একটি বাণিজ্য মেলার আয়োজন করা হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের তৈরি পণ্য নিয়ে পাকিস্তানেও অনুরূপ বাণিজ্য মেলা আয়োজনের আহ্বান জানান তিনি। ফুটবলসহ ক্রীড়া সরঞ্জাম তৈরিতে দুই দেশের উদ্যোক্তাদের যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার আগ্রহের কথাও জানান ইমরান হায়দার।

ঢাকা ও করাচির মধ্যে চলতি বছর সরাসরি বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালুর বিষয়টি উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, এ যোগাযোগ দুই দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য, চিকিৎসা পর্যটন এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধিতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখছে। তিনি দুই দেশের মধ্যে বিমানের ফ্লাইট সংখ্যা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

বাংলাদেশের চায়ের গুণগত মানের প্রশংসা করে পাকিস্তানের বাজারে বিদ্যমান শুল্কমুক্ত সুবিধা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশ থেকে আরও বেশি চা রপ্তানির আহ্বান জানান হাইকমিশনার।

এর জবাবে রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশের সিরামিক পণ্য, পান ও অন্যান্য কৃষিপণ্য এবং ওষুধসহ বিভিন্ন মানসম্মত পণ্য পাকিস্তানে রপ্তানি বাড়ানোর যথেষ্ট সুযোগ রয়েছে। এসব সম্ভাবনা কাজে লাগাতে দুই দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মধ্যে আরও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ প্রয়োজন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

হাইকমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ককে পাকিস্তান অত্যন্ত গুরুত্ব দেয়। দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় ব্যবসা-বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারে তার দেশ কাজ করে যাচ্ছে।

সাক্ষাৎকালে দুই দেশের সামরিক বাহিনী ও বেসামরিক প্রশাসনের সদস্যদের মধ্যে প্রশিক্ষণ বিনিময়ের বিষয়েও গুরুত্ব দেন রাষ্ট্রপতি। একই সঙ্গে বিজ্ঞান, প্রকৌশল, প্রযুক্তি ও চিকিৎসাক্ষেত্রে উচ্চশিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণ ও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

বাংলাদেশে দায়িত্ব পালনে রাষ্ট্রপতির সহযোগিতা কামনা করেন পাকিস্তানের হাইকমিশনার। রাষ্ট্রপতি তাকে দায়িত্ব পালনে পূর্ণ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

রাষ্ট্রপতি আশা প্রকাশ করেন, ভবিষ্যতে বাণিজ্য, শিক্ষা, সংস্কৃতি, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের সঙ্গে জনগণের যোগাযোগ বাড়ানোর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সম্পর্ক আরও ফলপ্রসূ ও বহুমাত্রিক হবে।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।