ঢাকা ০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

নির্বাচনে সামান্য বিচ্যুতিও চলবে না: সশস্ত্র বাহিনীকে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 526

ছবি: সংগৃহীত

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

আরও পড়ুন  নতুন পথের সন্ধানে ভারত-বাংলাদেশ ব্যাংককে মোদি-ইউনূস বৈঠকে সম্পর্কের উষ্ণতা

সভায় শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন নির্বাচন তার বাস্তব প্রতিফলন। গণভোটে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ সময় এই সক্ষমতা অবহেলিত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই এর উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। এসব উদ্যোগ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর প্রধানরা স্বাগত জানান।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে সামান্য বিচ্যুতিও চলবে না: সশস্ত্র বাহিনীকে ড. ইউনূসের সতর্কবার্তা

আপডেট সময় ০৬:২৫:৫৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৬ জানুয়ারী ২০২৬

 

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য গণভোট ও জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময় অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও উৎসবমুখর নির্বাচনী পরিবেশ নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

সোমবার (২৬ জানুয়ারি) সেনাসদরে সশস্ত্র বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় দেওয়া বক্তব্যে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জনগণের আস্থার প্রতীক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনী অতীতের মতো এবারও পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবে বলে সরকার প্রত্যাশা করে।

আরও পড়ুন  গণভোট নিয়ে দলগুলো ‘ঐকমত্যে’ পৌঁছাতে না পারলে সিদ্ধান্ত দেবে সরকার

সভায় শুরুতেই তিনি মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করেন।

ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত জনগণ জুলাই অভ্যুত্থানের মাধ্যমে যে প্রত্যাশা প্রকাশ করেছে, আসন্ন নির্বাচন তার বাস্তব প্রতিফলন। গণভোটে জনগণ ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রব্যবস্থা সম্পর্কে মতামত দেবে এবং সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই মতামত বাস্তবায়নের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে।

তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে বিপুলসংখ্যক তরুণ প্রথমবার ভোট দিতে যাচ্ছে। পাশাপাশি এমন অনেক ভোটার রয়েছেন, যারা দীর্ঘ সময় ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেননি। এই বাস্তবতায় ভোটারদের জন্য ভয়মুক্ত ও উৎসবমুখর পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব।

নির্বাচনকালীন দায়িত্ব পালনে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনসম্মত, সংযত ও দায়িত্বশীল থাকার নির্দেশ দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, মাঠপর্যায়ে সামান্য বিচ্যুতিও যেন জনগণের আস্থাকে ক্ষুণ্ন না করে, সে বিষয়ে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি আরও বলেন, একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনই গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের ভিত্তি। কোনো প্রকার চাপ বা প্রভাব ছাড়াই প্রতিটি নাগরিক যেন ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে, সে লক্ষ্যে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বোচ্চ সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির প্রসঙ্গে ড. ইউনূস বলেন, দীর্ঘ সময় এই সক্ষমতা অবহেলিত ছিল। দায়িত্ব গ্রহণের পর বর্তমান সরকার অল্প সময়ের মধ্যেই এর উন্নয়নে কাজ শুরু করেছে। সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে স্বনির্ভরতা অর্জনের লক্ষ্যে কারখানা স্থাপনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।

তিনি জানান, নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক সই হয়েছে এবং ইতালি, জাপান ও থাইল্যান্ডসহ আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে সমঝোতার প্রক্রিয়া চলছে। এসব উদ্যোগ সশস্ত্র বাহিনীর দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

সেনাসদরের হেলমেট অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত এ সভায় সেনা, নৌ ও বিমান বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভাস্থলে পৌঁছালে প্রধান উপদেষ্টাকে তিন বাহিনীর প্রধানরা স্বাগত জানান।