ঢাকা ০৯:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২৬, ২৬ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
দেশে হামের ভয়াবহ প্রাদুর্ভাব: ২৬ দিনে প্রাণ হারাল ১৬৬ শিশু ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন সংস্কারের উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার: তথ্যমন্ত্রী সাউথ এশিয়ান ইয়ুথ টেবিল টেনিসে বাংলাদেশের স্বর্ণজয় সংসদ থেকে বিরোধী দলের আবারও ওয়াকআউট: ‘গণবিরোধী’ বিল পাসের অভিযোগ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে বড় নিয়োগ, আবেদন শেষ ১০ এপ্রিল পুলিশে ২৭০৩ কনস্টেবল নিয়োগ: জেলাভিত্তিক তালিকা প্রকাশ ইরানে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৩ হাজারের বেশি পাম্পে তেল নেওয়া নিয়ে দ্বন্দ্ব, ছুরিকাঘাতে আহত ৩ সেনা কর্মকর্তা ও ডিজিএফআই পরিচয়ে প্রতারণা: দেশবাসীকে সেনাবাহিনীর সতর্কবার্তা হরমুজ প্রণালিতে ইরানের নতুন রুট ঘোষণা; অমান্য করলেই ধ্বংসের হুঁশিয়ারি

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬
  • / 480

ছবি: সংগৃহীত

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

আরও পড়ুন  নীলফামারীতে ২ কোটি টাকার মাদকদ্রব্য ধ্বংস করল বিজিবি

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

বিজিবিতে ফেলানীর ভাইয়ের নিয়োগ জীবন দিয়ে সীমান্ত রক্ষা শপথ

আপডেট সময় ০৬:৫৬:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৪ জানুয়ারী ২০২৬

 

ওয়েব হেড:
বোনের রক্তের স্মৃতি বুকে নিয়ে বিজিবিতে আরফান, সীমান্ত রক্ষার শপথ

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশে (বিজিবি) নিয়োগ পেয়েছেন ফেলানী খাতুনের ছোট ভাই আরফান হোসেন। বুধবার বিজিবির ১০৪তম রিক্রুট ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপনী অনুষ্ঠানে আনুষ্ঠানিকভাবে শপথ নেন তিনি।
চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলার বাইতুল ইজ্জতে অবস্থিত বর্ডার গার্ড ট্রেনিং সেন্টার অ্যান্ড কলেজে (বিজিটিসিএন্ডসি) ঐতিহ্যবাহী বীর উত্তম মজিবুর রহমান প্যারেড গ্রাউন্ডে নবীন সৈনিকদের শপথগ্রহণ ও কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়। সেখানেই বিজিবির একজন সদস্য হিসেবে যাত্রা শুরু করেন আরফান হোসেন।

আরও পড়ুন  সারাদেশে ৩৭ হাজারের বেশি বিজিবি সদস্য মোতায়েন

উল্লেখ্য, ২০১১ সালের ৭ জানুয়ারি কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে ফেলানী খাতুনকে গুলি করে হত্যা করা হয় এবং তাঁর মরদেহ কাঁটাতারে ঝুলিয়ে রাখা হয়। ওই ঘটনার প্রায় ১৫ বছর পর তাঁর ছোট ভাই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীতে যোগ দিলেন।

কুচকাওয়াজ শেষে আরফান হোসেন সংবাদ মাধ্যমে বলেন, ঘটনার সময় তাঁর বয়স ছিল মাত্র ৬-৭ বছর। বোনকে নির্মমভাবে হত্যার পর থেকেই তাঁর বাবা-মায়ের ইচ্ছা ছিল, তিনি যেন দেশের জন্য কাজ করতে পারেন। সেই লক্ষ্যকে সামনে রেখেই নিজেকে গড়ে তুলে বিজিবিতে যোগ দেন তিনি।

আরফান জানান, তাঁদের পরিবারে তিন ভাই ও দুই বোন। তিনি ২০২২ সালে স্থানীয় নাখারগঞ্জ হাইস্কুল থেকে এসএসসি এবং ২০২৪ সালে একটি ডিগ্রি কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। গত বছর বিজিবির নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ হলে তিনি আবেদন করেন। প্রাথমিক বাছাই শেষে টানা চার মাস কঠোর প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে আজ চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হন।

নিজের অনুভূতি প্রকাশ করে আরফান বলেন, সীমান্তে তাঁর বোনকে যেভাবে হত্যা করা হয়েছিল, তিনি চান না আর কোনো পরিবার এমন বেদনার মুখোমুখি হোক। সীমান্তরক্ষী বাহিনীর একজন সদস্য হিসেবে তিনি সর্বোচ্চ দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কাজ করতে চান।

তিনি বলেন, দেশের সীমান্ত রক্ষায় প্রয়োজনে জীবন বিপন্ন হলেও তিনি চেষ্টা করবেন যেন আর কোনো মা-বাবাকে ফেলানীর মতো সন্তান হারাতে না হয়।