ঢাকা ০১:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬, ৩০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
শ্রীপুরে ট্রান্সফর্মার বিস্ফোরণ: দগ্ধ ইয়াসিনের মৃত্যু মোস্তাফিজের বিদায়ে আইপিএলে কপাল খুলল মুজারাবানির লেবাননে ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ১২ চিকিৎসাকর্মী নিহত হিজবুল্লাহর রকেট ও ইরানের ক্লাস্টার বোমার শিকার ইসরাইল ইরানি হামলায় সৌদি আরবে মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ক্ষতিগ্রস্ত বন্দরে অগ্নিকাণ্ড: বিকল্প লাইনে বিদ্যুৎ সরবরাহ রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ সিনিয়র নেতা কামিকাজি ড্রোন হামলায় বাগদাদে মার্কিন দূতাবাসের এয়ার ডিফেন্স ক্ষতিগ্রস্ত গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে হোটেল শ্রমিক গ্রেপ্তার ঢাকার আবহাওয়ায় বৃষ্টির আভাস: কমতে পারে তাপমাত্রা

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ সিনিয়র নেতা

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬
  • / 34

ছবি সংগৃহীত

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি দলের বাইরেও বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর কতদিন দায়িত্বে থাকবেন। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন, নাকি তাকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে সরানো হবে—তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন প্রয়োজন। অতীতে এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাকে ইমপিচমেন্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। তখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে সেই ঘটনা দলটির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে অনেকের ধারণা। এ কারণেই এখনই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পথে যেতে বিএনপি আগ্রহী নয়। তবে দলটির ভেতরে এমন আলোচনা আছে যে, পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন  শ্রমিক দিবসে নয়াপল্টনে বড় সমাবেশের ঘোষণা বিএনপির

সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বিএনপি বিষয়টি নিয়ে সময় নিচ্ছে। একদিকে দলটি এখনই কোনো বিতর্ক বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে যেতে চায় না, অন্যদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবি জানালেও বিএনপি তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে চায় না।

আরেকটি বিষয় হলো সময়ের হিসাব। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তাই যদি কয়েক মাস পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়, তাহলে বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতিই সেই সময় দায়িত্বে থাকতে পারেন—এমন একটি হিসাবও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আবদুল মঈন খান। যদিও শেষ পর্যন্ত কে রাষ্ট্রপতি হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকটা চমক দেখিয়েছেন। স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল—যাদের নাম আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও শেষ মুহূর্তে ভিন্ন কোনো নাম সামনে আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার এ পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার পদত্যাগ বা দায়িত্বে থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

রাষ্ট্রপতি পদে আলোচনায় বিএনপির ৪ সিনিয়র নেতা

আপডেট সময় ১২:১৭:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে রাষ্ট্রপতি পদকে ঘিরে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। সরকারি দলের বাইরেও বিরোধী দল ও সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ নিয়ে নানা জল্পনা চলছে। ফলে প্রশ্ন উঠছে—বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন আর কতদিন দায়িত্বে থাকবেন। তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন, নাকি তাকে অভিশংসনের (ইমপিচমেন্ট) মাধ্যমে সরানো হবে—তা নিয়েও আলোচনা রয়েছে।

আইন ও সংবিধান বিশেষজ্ঞদের মতে, রাষ্ট্রপতি নিজে পদত্যাগ না করলে তাকে অপসারণের জন্য সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যদের সমর্থন প্রয়োজন। অতীতে এ. কিউ. এম. বদরুদ্দোজা চৌধুরী রাষ্ট্রপতি থাকাকালে তাকে ইমপিচমেন্ট করার উদ্যোগ নেওয়া হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছিলেন। তখন ক্ষমতায় ছিল বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তবে সেই ঘটনা দলটির জন্য কিছুটা অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি করেছিল বলে অনেকের ধারণা। এ কারণেই এখনই রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিশংসনের পথে যেতে বিএনপি আগ্রহী নয়। তবে দলটির ভেতরে এমন আলোচনা আছে যে, পরিস্থিতি তৈরি হলে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করতে পারেন।

আরও পড়ুন  শীর্ষ আলোচনায় বিএনপি ও জাতীয় ঐকমত্য কমিশন: দ্বিতীয় দিনের বৈঠক আজ

সূত্রগুলো বলছে, কয়েকটি রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণে বিএনপি বিষয়টি নিয়ে সময় নিচ্ছে। একদিকে দলটি এখনই কোনো বিতর্ক বা অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে যেতে চায় না, অন্যদিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও বিবেচনায় রাখা হচ্ছে। পাশাপাশি বিরোধী দল হিসেবে থাকা বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টি (এনসিপি) রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দাবি জানালেও বিএনপি তাদের চাপের কাছে নতি স্বীকার করতে চায় না।

আরেকটি বিষয় হলো সময়ের হিসাব। এখন নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হলে বর্তমান সরকারের মেয়াদ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তার মেয়াদও শেষ হয়ে যাবে। কিন্তু পরবর্তী নির্বাচন হওয়ার কথা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে। তাই যদি কয়েক মাস পরে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা হয়, তাহলে বিএনপির মনোনীত রাষ্ট্রপতিই সেই সময় দায়িত্বে থাকতে পারেন—এমন একটি হিসাবও রাজনৈতিক মহলে আলোচিত হচ্ছে।

রাষ্ট্রপতি পদে সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যেও কয়েকজন সিনিয়র নেতার নাম ঘুরে বেড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা ও দলের ভেতরে তার গ্রহণযোগ্যতার কারণে তাকে এ পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে শারীরিক অসুস্থতার কারণে তার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

এ ছাড়া সম্ভাব্য তালিকায় রয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, গয়েশ্বর চন্দ্র রায় এবং ড. আবদুল মঈন খান। যদিও শেষ পর্যন্ত কে রাষ্ট্রপতি হবেন, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচনের ক্ষেত্রেও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অনেকটা চমক দেখিয়েছেন। স্পিকার হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার হয়েছেন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল—যাদের নাম আগে খুব বেশি আলোচনায় ছিল না। তাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনেও শেষ মুহূর্তে ভিন্ন কোনো নাম সামনে আসতে পারে বলে অনেকেই মনে করছেন।

উল্লেখ্য, বাংলাদেশের সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মেয়াদ পাঁচ বছর এবং একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুইবার এ পদে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। বর্তমানে দায়িত্বে থাকা রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা ২০২৮ সালের এপ্রিল মাসে। তবে রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তার পদত্যাগ বা দায়িত্বে থাকার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।