১০:৪৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
ব্যাংক মার্জার: ‘শূন্য’ হওয়া শেয়ারহোল্ডারদের ক্ষতিপূরণের আশ্বাস দিলেন অর্থ উপদেষ্টা গৃহকর্মী নির্যাতন : বিমানের সাবেক এমডিসহ ৪ জনের রিমান্ড স্বচ্ছতার নজির: সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করলেন অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টারা সারাদেশে ৫ দিন ড্রোন ওড়ানো নিষিদ্ধ বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান লড়াই, আফ্রিদির মতে ‘ক্রিকেটের জয়’ পঞ্চগড়ে সারজিসকে সমর্থন দিলো ইসলামী আন্দোলন নির্বাচনের দিন সহিংসতা হলে, ওই দিন বুঝবেন প্রশাসনের কী প্রস্তুতি আছে: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা রোনালদো বিদায় নিলেই সৌদি লিগ দর্শকশূন্য হয়ে পড়বে-ক্রুস শহীদ ওসমান হাদির পরিবারকে ফ্ল্যাটের দলিল–চাবি হস্তান্তর করলেন প্রধান উপদেষ্টা জামায়াত সেক্রেটারীর পা ভেঙে দিলেন বিএনপি কর্মী

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা! উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইজিপি

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৩:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 23

ছবি সংগৃহীত

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তবে এ মুহূর্তে তীব্র কোনো আশঙ্কা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আইজিপি। 

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচারপর্বে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে প্রচার অভিযানের সময় হামলার ঝুঁকি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। তবে প্রচার শেষ হওয়ায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

আইজিপি বলেন, “এ মুহূর্তে তীব্র আশঙ্কা বোধ করছি না, তবে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ”কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ধরনের ঘটনা না ঘটলে আশঙ্কা আরও কম হতো। তবে নির্বাচনবিরোধী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এবার নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা, প্রার্থীদের অবস্থান, ভোটারদের মনোভাব এবং স্থানীয় আধিপত্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়েছে।

অস্ত্রসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এবং থানায় জমা থাকা প্রায় এক হাজার ব্যক্তিগত লাইসেন্সধারী অস্ত্র লুট হয়। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের কিছু অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি, তবে সেই সংখ্যা খুব কম।

আইজিপি জানান, ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়, সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্থায়ী ফোর্স, পাশাপাশি মোবাইল টিম ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার পর ৩১৭টি নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত ও ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য, এক লাখ সেনা সদস্য, বিজিবি ও র‍্যাব নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত অপরাধী ও ‘শুটার’ তালিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংখ্যাটি বেশি বা কম হতে পারে, তবে এত সংখ্যক অপরাধী পুরো নির্বাচন বানচাল করতে পারবে—এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন অপরাধ ঘটতে পারে, তবে তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো শক্তি এখন নেই।”

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচনে জঙ্গি হামলার শঙ্কা! উড়িয়ে দিচ্ছেন না আইজিপি

আপডেট সময় ০৩:৫৬:০৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা একেবারে উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বাহারুল আলম। তবে এ মুহূর্তে তীব্র কোনো আশঙ্কা নেই বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।

মঙ্গলবার পুলিশ সদর দপ্তরের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা বলেন আইজিপি। 

তিনি বলেন, নির্বাচনের প্রচারপর্বে জঙ্গি হামলার আশঙ্কা ছিল। বিশেষ করে প্রচার অভিযানের সময় হামলার ঝুঁকি নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সতর্ক ছিল। তবে প্রচার শেষ হওয়ায় এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বস্তিদায়ক।

আইজিপি বলেন, “এ মুহূর্তে তীব্র আশঙ্কা বোধ করছি না, তবে একেবারে উড়িয়ে দিচ্ছি না। হামলার সম্ভাবনা মাথায় রেখেই আমরা ব্যবস্থা নিয়েছি। ”কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসায় বিস্ফোরণের ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ওই ধরনের ঘটনা না ঘটলে আশঙ্কা আরও কম হতো। তবে নির্বাচনবিরোধী ও চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোর অবস্থান বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে।

নির্বাচনী নিরাপত্তা প্রসঙ্গে আইজিপি জানান, ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। এবার নির্বাচনে প্রায় ১ লাখ ৮৭ হাজার পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। তিনি বলেন, দুর্গম এলাকা, প্রার্থীদের অবস্থান, ভোটারদের মনোভাব এবং স্থানীয় আধিপত্যের বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে ৮ হাজার ৭৭০টি কেন্দ্রকে ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এ ছাড়া ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ‘মাঝারি ঝুঁকিপূর্ণ’ ধরা হয়েছে।

অস্ত্রসংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে আইজিপি জানান, জুলাই আন্দোলনের সময় পুলিশের ১ হাজার ৩৩০টি অস্ত্র এবং থানায় জমা থাকা প্রায় এক হাজার ব্যক্তিগত লাইসেন্সধারী অস্ত্র লুট হয়। এসব অস্ত্র উদ্ধার ও অবৈধ অস্ত্র নিয়ন্ত্রণে সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। নির্বাচনের আগে বৈধ অস্ত্র জমা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার পর ২৭ হাজার ৯৯৫টি বৈধ অস্ত্র জমা পড়েছে। যারা বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের কিছু অস্ত্র এখনো জমা পড়েনি, তবে সেই সংখ্যা খুব কম।

আইজিপি জানান, ভোট যেন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর হয়, সেজন্য তিন স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। প্রতিটি কেন্দ্রে থাকবে স্থায়ী ফোর্স, পাশাপাশি মোবাইল টিম ও জরুরি পরিস্থিতিতে স্ট্রাইকিং ফোর্স প্রস্তুত থাকবে।তিনি আরও জানান, তফসিল ঘোষণার পর ৩১৭টি নির্বাচনি সহিংসতায় পাঁচজন নিহত ও ৬১৩ জন আহত হয়েছেন। এসব ঘটনায় তদন্ত চলছে। নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন প্রসঙ্গে আইজিপি বলেন, পুলিশের পাশাপাশি প্রায় ছয় লাখ আনসার সদস্য, এক লাখ সেনা সদস্য, বিজিবি ও র‍্যাব নির্বাচনী দায়িত্বে থাকবে। সাম্প্রতিক সময়ে প্রকাশিত অপরাধী ও ‘শুটার’ তালিকা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সংখ্যাটি বেশি বা কম হতে পারে, তবে এত সংখ্যক অপরাধী পুরো নির্বাচন বানচাল করতে পারবে—এমন কোনো আশঙ্কা নেই।

তিনি বলেন, “বিচ্ছিন্ন অপরাধ ঘটতে পারে, তবে তা পুরো নির্বাচনকে ব্যাহত করার মতো শক্তি এখন নেই।”