০৩:১২ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :
নিউক্যাসলকে বিদায় করে লিগ কাপ ফাইনালে ম্যানচেস্টার সিটি কুমিল্লায় হাঁস চুরির সন্দেহে যুবককে পিটিয়ে হত্যা ‘আহার গ্রহণও করা যাবে না’: নির্বাচনে কর্মকর্তাদের কঠোর নিরপেক্ষতার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার কুষ্টিয়ায় জামায়াত-বিএনপির দফায় দফায় সংঘর্ষ বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ফরিদপুরকে বিভাগ করা হবে: তারেক রহমান বিশ্বের প্রথম ‘৮০০ বিলিয়ন’ ডলারের মালিক ইলন মাস্ক সোমবার বিটিভিতে ভাষণ দেবেন জামায়াত আমির ১০৫১ জন ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগ: নিরপেক্ষ নির্বাচন করতে সরকারের বড় পদক্ষেপ ড্রাফটের আগে রিশাদকে ছেড়ে দিল লাহোর শান্তি ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার জন্য জুলুম করা যাবে না: সারজিস আলম

প্রতিশোধ নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির পথে চলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১১:১২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫
  • / 132

ছবি: সংগৃহীত

 

প্রতিশোধের চক্র ভেঙে জাতীয় ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এখানে প্রতিশোধের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।”

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দেশব্যাপী চলমান সংস্কার, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন ইস্যু এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশে স্থিতিশীলতা আনতে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পর তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।

বৈঠকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি।” এসময় তিনি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বাহিনীর “অপারেশন ডেভিল হান্ট” সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেকোনো অভিযান পরিচালনার সময় মানবাধিকার সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায়, প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এই সংকটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা স্থগিতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ইউনূস বলেন, “আইসিডিডিআরবি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কলেরা ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলে জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি পুনর্গঠন ও সংস্কারের সময়। এখন কোনো কিছু বন্ধ করার উপযুক্ত সময় নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করার সময়।”

নিউজটি শেয়ার করুন

প্রতিশোধ নয়, শান্তি ও সম্প্রীতির পথে চলার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার

আপডেট সময় ১১:১২:২০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ ফেব্রুয়ারী ২০২৫

 

প্রতিশোধের চক্র ভেঙে জাতীয় ঐক্য ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, “আমরা সবাই এই দেশের সন্তান, এখানে প্রতিশোধের কোনো জায়গা থাকা উচিত নয়।”

মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ কথা বলেন। বৈঠকে দেশব্যাপী চলমান সংস্কার, রোহিঙ্গা সংকট, অভিবাসন ইস্যু এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, দেশে স্থিতিশীলতা আনতে একটি ঐকমত্য কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কমিশনের মাধ্যমে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাওয়া হবে। তিনি আরও বলেন, সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার পর তারা জুলাই সনদে স্বাক্ষর করবে।

বৈঠকে চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স ট্রেসি জ্যাকবসন জোর দিয়ে বলেন, “বাংলাদেশের আগামী নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক হওয়া জরুরি।” এসময় তিনি সাম্প্রতিক নিরাপত্তা বাহিনীর “অপারেশন ডেভিল হান্ট” সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য জানতে চান।

প্রধান উপদেষ্টা জানান, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে যেকোনো অভিযান পরিচালনার সময় মানবাধিকার সম্পূর্ণরূপে রক্ষা করার কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে আলোচনায়, প্রধান উপদেষ্টা রোহিঙ্গা শরণার্থীদের জন্য মানবিক সহায়তা অব্যাহত রাখায় যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা এই সংকটে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

এছাড়া, বিশ্বের অন্যতম স্বাস্থ্য গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবির কার্যক্রমে মার্কিন সহায়তা স্থগিতের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি। ইউনূস বলেন, “আইসিডিডিআরবি বাংলাদেশসহ বিভিন্ন দেশে কলেরা ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এই সময়ে মার্কিন সহায়তা বন্ধ হলে জনস্বাস্থ্য সংকট দেখা দিতে পারে।”

তিনি আরও বলেন, “এটি পুনর্গঠন ও সংস্কারের সময়। এখন কোনো কিছু বন্ধ করার উপযুক্ত সময় নয়, বরং একসঙ্গে কাজ করার সময়।”