০৪:৩৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ৫ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

নির্বাচিত সরকার পেলো দেশ

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৮:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 7

ছবি সংগৃহীত

 

নির্বাচিত সরকার পেলো দেশ। দেড় বছর দেশ পরিচালনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মাধ্যমে দেড় বছর পর দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

আরও পড়ুন  ৩০ জুনের পর গড়াবে না নির্বাচন, রাজনৈতিক দলগুলোর সন্তুষ্টি প্রকাশ: প্রেস সচিব

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর, মারা যান তাঁর মা ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শোকের মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয় পায় ২০৯টি আসনে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পায় ৬৮টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হন। আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট হয়নি।

একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ‘না’ ভোট দেন।

তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিষদের দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু বিএনপির দাবি, এ বিধান সংবিধানে নেই। ফলে প্রস্তুতি থাকলেও তাঁদের শপথ অনুষ্ঠান হয়নি।

বিএনপি সদস্যদের শপথ না নেওয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদুই ভূমিকায় শপথ নেন।

সবশেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে দেড় বছর পর আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পেল বাংলাদেশ।

নিউজটি শেয়ার করুন

নির্বাচিত সরকার পেলো দেশ

আপডেট সময় ০৮:৪৩:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

নির্বাচিত সরকার পেলো দেশ। দেড় বছর দেশ পরিচালনার পর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে আবারও নির্বাচিত সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর হলো। ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পতন ঘটে শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের। এর পরিপ্রেক্ষিতে ৮ আগস্ট নোবেলজয়ী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস-এর নেতৃত্বে একটি অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করে। ।

মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) প্রথমে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেন। পরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যরা। এর মাধ্যমে দেড় বছর পর দেশে নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠিত হলো।

আরও পড়ুন  ইতালির সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করে অবৈধ অভিবাসন রুখতে চায় বাংলাদেশ: প্রধান উপদেষ্টা

চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের পর রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক নানা চড়াই-উতরাই পেরিয়েছে বাংলাদেশ। ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ ১৭ বছর তিনি লন্ডনে অবস্থান করছিলেন। দেশে ফেরার পাঁচ দিনের মাথায়, ৩০ ডিসেম্বর, মারা যান তাঁর মা ও বাংলাদেশের তিনবারের প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া। শোকের মধ্যেই সক্রিয় রাজনীতিতে ফেরেন তিনি।

১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জয় পায় ২০৯টি আসনে। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী পায় ৬৮টি আসন। এ ছাড়া জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) ছয়টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা সাতটি আসনে জয়ী হন। আদালতের নির্দেশে দুটি আসনের ফল ঘোষণা স্থগিত রাখা হয়েছে এবং এক প্রার্থীর মৃত্যুর কারণে একটি আসনে ভোট হয়নি।

একই দিনে জুলাই জাতীয় সনদের আলোকে সংবিধান সংস্কার বিষয়ে গণভোট অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গণভোটে ৪ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার ৪২৯ জন ‘হ্যাঁ’ এবং ২ কোটি ২৫ লাখ ৬৫ হাজার জন ‘না’ ভোট দেন।

তবে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপির নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নেননি। জুলাই জাতীয় সনদ (সংবিধান সংস্কার) বাস্তবায়ন আদেশ-২০২৫ অনুযায়ী, গণভোটে ‘হ্যাঁ’ বিজয়ী হলে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের পরিষদের দায়িত্ব পালনের কথা। কিন্তু বিএনপির দাবি, এ বিধান সংবিধানে নেই। ফলে প্রস্তুতি থাকলেও তাঁদের শপথ অনুষ্ঠান হয়নি।

বিএনপি সদস্যদের শপথ না নেওয়ায় সাময়িক জটিলতা তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা সংসদ সদস্য ও সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদুই ভূমিকায় শপথ নেন।

সবশেষে বিকেলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভার সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেন। এর মধ্য দিয়ে দেড় বছর পর আবারও জনগণের ভোটে নির্বাচিত সরকার পেল বাংলাদেশ।