১০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

শুধু ভোটের হার নয়, অন্তর্ভুক্তিই আসল: ইইউ পর্যবেক্ষক দলের মন্তব্য

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০৭:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 61

একটি নির্বাচন কতটা ‘অংশগ্রহণমূলক’—তা কেবল ভোটার উপস্থিতির শতাংশ দিয়ে বিচার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন। তাদের মতে, প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মূল বিষয় হলো সমাজের সব প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মিশন প্রধান আইভার্স আইজাবস বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের প্রধান মনোযোগ ছিল প্রক্রিয়াগত দিকগুলোতে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা কোনো নির্দিষ্ট দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কি না—সেটি তাদের সরাসরি মূল্যায়নের বিষয় নয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে এবং ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে উপস্থিতির হারকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার উপস্থিতি কমছে। তাই কেবল সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, সমাজের সব প্রতিনিধিত্বশীল গোষ্ঠী নির্বাচনে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে কি না।

আইজাবস আরও বলেন, পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচন ছিল প্রতিযোগিতামূলক। প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটারদের সামনে একাধিক বিকল্প তুলে ধরেছে। এই অর্থে এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীকও ব্যালট পেপারে ছিল না। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলেও ইইউ মিশন জানিয়েছে, তাদের কাজ ছিল নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।

পর্যবেক্ষক দলের ভাষ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অর্থ হলো—যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরতে চায়, তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ভোটের হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই চূড়ান্ত সূচক নয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

শুধু ভোটের হার নয়, অন্তর্ভুক্তিই আসল: ইইউ পর্যবেক্ষক দলের মন্তব্য

আপডেট সময় ০৭:১৬:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

একটি নির্বাচন কতটা ‘অংশগ্রহণমূলক’—তা কেবল ভোটার উপস্থিতির শতাংশ দিয়ে বিচার করা যায় না বলে মন্তব্য করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের নির্বাচন পর্যবেক্ষক মিশন। তাদের মতে, প্রকৃত অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মূল বিষয় হলো সমাজের সব প্রাসঙ্গিক রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তি।

ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে মিশন প্রধান আইভার্স আইজাবস বলেন, নির্বাচন পর্যবেক্ষণে তাদের প্রধান মনোযোগ ছিল প্রক্রিয়াগত দিকগুলোতে। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট বা কোনো নির্দিষ্ট দল নির্বাচনে অংশ নিয়েছে কি না—সেটি তাদের সরাসরি মূল্যায়নের বিষয় নয়।

তিনি জানান, বৃহস্পতিবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ২৯৭টি আসনের ফল ঘোষণা হয়েছে এবং ভোট পড়েছে ৫৯ দশমিক ৪৪ শতাংশ। তবে উপস্থিতির হারকে একমাত্র মানদণ্ড হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, অনেক গণতান্ত্রিক দেশেই ভোটার উপস্থিতি কমছে। তাই কেবল সংখ্যার ওপর ভিত্তি করে অংশগ্রহণের মাত্রা নির্ধারণ করা ঠিক নয়। বরং দেখতে হবে, সমাজের সব প্রতিনিধিত্বশীল গোষ্ঠী নির্বাচনে নিজেদের মত প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে কি না।

আইজাবস আরও বলেন, পর্যবেক্ষকদের দৃষ্টিতে এবারের নির্বাচন ছিল প্রতিযোগিতামূলক। প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর অংশগ্রহণ ভোটারদের সামনে একাধিক বিকল্প তুলে ধরেছে। এই অর্থে এটিকে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।

তবে রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিষেধাজ্ঞা থাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ নির্বাচনে অংশ নেয়নি এবং তাদের নির্বাচনী প্রতীকও ব্যালট পেপারে ছিল না। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন উঠলেও ইইউ মিশন জানিয়েছে, তাদের কাজ ছিল নির্বাচন আয়োজনের প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করা।

পর্যবেক্ষক দলের ভাষ্য, অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের অর্থ হলো—যেসব রাজনৈতিক ও সামাজিক গোষ্ঠী নিজেদের স্বার্থ তুলে ধরতে চায়, তাদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা। ভোটের হার গুরুত্বপূর্ণ হলেও সেটিই চূড়ান্ত সূচক নয়।