০৪:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
শিরোনাম :

“র‍্যাবের নাম হবে এসআইএফ, শিগগিরই সরকারি আদেশ”

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ০২:৩৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • / 51

ছবি সংগৃহীত

 

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন নামে বাহিনীটির নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাহিনীটির কাঠামো, কার্যক্রম ও ভূমিকা পর্যালোচনা করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, র‍্যাব গঠনের শুরুতে বাহিনীটির নাম ছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট)। পরে ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এটি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর আলাদাভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই তালিকায় র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও র‍্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংস্কারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনীর ক্ষেত্রেও বিলুপ্তি ছাড়া বিকল্প নেই।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে—
* আদেশ জারি: খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ
* সংস্কারের লক্ষ্য: মানবাধিকার সুরক্ষা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও আধুনিকায়ন
* দৃশ্যমান পরিবর্তন: পোশাক, লোগো ও পরিচয়পত্রে

সর্বশেষ কোর কমিটির বৈঠকে র‍্যাবের গত দুই দশকের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর অভিযোগের কারণে বাহিনীটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের এলিট ফোর্সগুলোর কার্যপ্রণালি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের মনোবল ও সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী জানান, নির্বাচন উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন হয়েছেন। চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।

 

নিউজটি শেয়ার করুন

“র‍্যাবের নাম হবে এসআইএফ, শিগগিরই সরকারি আদেশ”

আপডেট সময় ০২:৩৭:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

 

র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-এর নাম পরিবর্তনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। নতুন নামে বাহিনীটির নাম হবে স্পেশাল ইন্টারভেনশন ফোর্স (এসআইএফ)। এ বিষয়ে খুব শিগগিরই স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে আইনশৃঙ্খলা–সংক্রান্ত কোর কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী। তিনি বলেন, বাহিনীটির কাঠামো, কার্যক্রম ও ভূমিকা পর্যালোচনা করে নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন পরিচয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে পোশাকও প্রস্তুত করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, র‍্যাব গঠনের শুরুতে বাহিনীটির নাম ছিল র‍্যাপিড অ্যাকশন টিম (র‍্যাট)। পরে ২০০৪ সালে বিএনপি সরকারের আমলে এটি র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন নামে প্রতিষ্ঠিত হয়।

তবে দীর্ঘদিন ধরেই র‍্যাবের বিরুদ্ধে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠে আসছে। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে ২০২১ সালের ১০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক মানবাধিকার দিবসে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাব এবং বাহিনীটির সাত কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে।

যুক্তরাষ্ট্রের ট্রেজারি ডিপার্টমেন্ট ও পররাষ্ট্র দপ্তর আলাদাভাবে এ নিষেধাজ্ঞা দেয়। ওই তালিকায় র‍্যাবের সাবেক মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদের নামও ছিল।

জাতিসংঘ ও মানবাধিকার সংস্থার অবস্থান
২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত দেশের ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তর যে তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদন প্রকাশ করে, সেখানে র‍্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করা হয়। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) দীর্ঘদিন ধরে র‍্যাব বিলুপ্তির দাবি জানিয়ে আসছে।

এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশেও র‍্যাবের অতীত কার্যক্রম ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পর্যালোচনা করে বাহিনীটির প্রয়োজনীয়তা পুনর্মূল্যায়নের কথা বলা হয়েছে।

এ বিষয়ে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য হাফিজ উদ্দিন আহমদ চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, র‍্যাবের অতীত কর্মকাণ্ড এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে সংস্কারের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, “চিকিৎসাবিজ্ঞানে যেমন গ্যাংগ্রিন হলে কেটে ফেলতে হয়, তেমনি এই বাহিনীর ক্ষেত্রেও বিলুপ্তি ছাড়া বিকল্প নেই।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে—
* আদেশ জারি: খুব শিগগিরই প্রজ্ঞাপন প্রকাশ
* সংস্কারের লক্ষ্য: মানবাধিকার সুরক্ষা, জবাবদিহি নিশ্চিত করা ও আধুনিকায়ন
* দৃশ্যমান পরিবর্তন: পোশাক, লোগো ও পরিচয়পত্রে

সর্বশেষ কোর কমিটির বৈঠকে র‍্যাবের গত দুই দশকের কার্যক্রম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে অংশগ্রহণকারীরা বলেন, অতীতে ক্ষমতার অপব্যবহার ও গুরুতর অভিযোগের কারণে বাহিনীটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে। ভবিষ্যতে যেন এ ধরনের পরিস্থিতি তৈরি না হয়, সে লক্ষ্যে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, যুক্তরাজ্য ও তুরস্কের এলিট ফোর্সগুলোর কার্যপ্রণালি পর্যালোচনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে আসন্ন নির্বাচন ঘিরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা। তার ভাষ্য অনুযায়ী, পুলিশের মনোবল ও সক্ষমতা আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় উন্নত এবং নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বড় ধরনের কোনো সংকটের আশঙ্কা নেই।

সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের মহাপরিচালক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যান) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলী হাইদার সিদ্দিকী জানান, নির্বাচন উপলক্ষে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর সদস্যরা মোতায়েন হয়েছেন। চলমান অভিযানে এখন পর্যন্ত ৭ হাজার ৭৩১টি অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।