ঢাকা ০২:৫৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬, ২ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
শিরোনাম :
র‍্যাব, এসবি ও সিআইডির প্রধান পদে পরিবর্তন ওড়িশার সরকারি হাসপাতালে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড: আইসিইউতে ১০ রোগীর মৃত্যু পুরো বাড়ি নয়, ভাগে ভাগে পরিষ্কার করুন—ঈদের প্রস্তুতিতে নতুন কৌশল সেভিয়াকে উড়িয়ে দিলো বার্সেলোনা রাফিনিয়ার হ্যাটট্রিকে টঙ্গীর মাজার বস্তিতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিশাল অভিযান: আটক ৫৪ খাল খনন কর্মসূচি: সৈয়দপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সিলেটে মাছ ধরতে গিয়ে বজ্রপাতে ৫৫ বছর বয়সী জেলের মৃত্যু ইরানের শত্রুদের তথ্য দেওয়ার অভিযোগে ৫০০ জন গ্রেপ্তার অ্যান্টিগুয়া ও বার্বুডা: ক্যারিবীয় সাগরের ছোট দ্বীপরাষ্ট্র আপিল বিভাগের রায়,অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতিই হবেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান

পুরো বাড়ি নয়, ভাগে ভাগে পরিষ্কার করুন—ঈদের প্রস্তুতিতে নতুন কৌশল

খবরের কথা ডেস্ক
  • আপডেট সময় ১২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬
  • / 21

ছবি সংগৃহীত

 

ঈদ ঘনিয়ে এলে অনেকেরই ঘর পরিষ্কারের চিন্তা শুরু হয়। রোজার সময়েই আলমারি গোছানো, রান্নাঘর পরিষ্কার করা, পর্দা ধোয়া কিংবা ড্রইংরুম ঝাড়পোঁছ—সব মিলিয়ে কাজের চাপ বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন পুরো বাড়ি একসঙ্গে গুছিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার বদলে যদি কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে করা যায়, তাহলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘জোন পদ্ধতি’—যেখানে পুরো ঘরকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করে প্রতিদিন একটি অংশ পরিষ্কার করা হয়।

একসঙ্গে সব কাজ করলে কেন চাপ বাড়ে : 

ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক সময় চারপাশে তাকালেই মনে হয় কাজের শেষ নেই। রান্নাঘরে জমে থাকা থালা-বাসন, বসার ঘরের ধুলা, অগোছালো আলমারি কিংবা অপরিষ্কার বাথরুম—সব মিলিয়ে কাজ শুরু করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ ঘর অগোছালো হওয়া নয়, বরং সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা। তিনি বলেন, কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলে মানসিক চাপ কমে এবং কাজ শুরু করাও সহজ হয়।

তার ভাষায়, “পুরো রান্নাঘর একসঙ্গে গোছানোর কথা ভাবলে সেটি বড় কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু শুধু একটি ড্রয়ার গুছানোর কথা ভাবলে কাজটি অনেক সহজ লাগে।”

যেভাবে ঘরকে ভাগ করবেন :

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়িকে সাধারণত কয়েকটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়।

যেমন—

রান্নাঘর ও খাবার ঘর

বসার ঘর

শোবার ঘর

বাথরুম

প্রবেশপথ বা করিডোর

প্রতিটি অংশের মধ্যেও আবার ছোট ছোট জায়গা আলাদা ‘জোন’ হিসেবে ধরা যেতে পারে। যেমন রান্নাঘরের আলমারি, ফ্রিজ, রান্নার টেবিল কিংবা থালা রাখার তাক।

ছোট বাসায় এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর:

ছোট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে অনেক সময় একটি ঘরেই একাধিক কাজ করা হয়। ফলে দ্রুত অগোছালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে একটি টেবিল, একটি তাক বা একটি ক্যাবিনেটকেও আলাদা জোন হিসেবে ধরে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
প্রতিদিন একটি করে ছোট জায়গা পরিষ্কার করলে অল্প সময়েই পুরো ঘর গুছিয়ে ফেলা সম্ভব।

কোথা থেকে শুরু করবেন:

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার করার সময় এমন জায়গা থেকে শুরু করা ভালো যা চোখে সবচেয়ে বেশি পড়ে। অনেক সময় মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্রই ঘরকে সবচেয়ে বেশি অগোছালো দেখায়।

তাই প্রথমে মেঝে পরিষ্কার করা বা ছড়িয়ে থাকা জিনিস সরিয়ে ফেললে ঘর দ্রুত গুছানো মনে হয়। এরপর টেবিল, খাবার টেবিল বা প্রতিদিন ব্যবহৃত জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে ঘরের চেহারাও দ্রুত বদলে যায়।

পরিকল্পনা করলে কাজ হবে সহজ:

ঈদের আগে যদি সপ্তাহভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়, তাহলে কাজ আরও সহজ হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন একটি করে অংশ পরিষ্কার করা যেতে পারে—একদিন রান্নাঘর, আরেকদিন বসার ঘর, অন্যদিন শোবার ঘর।

এভাবে ধাপে ধাপে কাজ করলে ক্লান্তি কমে এবং খুব অল্প সময়েই পুরো ঘর হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও গোছানো।

নিউজটি শেয়ার করুন

পুরো বাড়ি নয়, ভাগে ভাগে পরিষ্কার করুন—ঈদের প্রস্তুতিতে নতুন কৌশল

আপডেট সময় ১২:৫৯:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ মার্চ ২০২৬

 

ঈদ ঘনিয়ে এলে অনেকেরই ঘর পরিষ্কারের চিন্তা শুরু হয়। রোজার সময়েই আলমারি গোছানো, রান্নাঘর পরিষ্কার করা, পর্দা ধোয়া কিংবা ড্রইংরুম ঝাড়পোঁছ—সব মিলিয়ে কাজের চাপ বেড়ে যায়। ফলে অনেকেই মনে করেন পুরো বাড়ি একসঙ্গে গুছিয়ে ফেলা প্রায় অসম্ভব।

তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পুরো বাড়ি একসঙ্গে পরিষ্কার করার বদলে যদি কাজগুলো ছোট ছোট অংশে ভাগ করে করা যায়, তাহলে কাজ অনেক সহজ হয়ে যায়। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘জোন পদ্ধতি’—যেখানে পুরো ঘরকে কয়েকটি নির্দিষ্ট ভাগে ভাগ করে প্রতিদিন একটি অংশ পরিষ্কার করা হয়।

একসঙ্গে সব কাজ করলে কেন চাপ বাড়ে : 

ঘর পরিষ্কার করতে গিয়ে অনেক সময় চারপাশে তাকালেই মনে হয় কাজের শেষ নেই। রান্নাঘরে জমে থাকা থালা-বাসন, বসার ঘরের ধুলা, অগোছালো আলমারি কিংবা অপরিষ্কার বাথরুম—সব মিলিয়ে কাজ শুরু করাই কঠিন হয়ে পড়ে।

অন্দরসজ্জাবিদ গুলশান নাসরিন মনে করেন, সমস্যার মূল কারণ ঘর অগোছালো হওয়া নয়, বরং সব কাজ একসঙ্গে করার চেষ্টা। তিনি বলেন, কাজকে ছোট ছোট অংশে ভাগ করলে মানসিক চাপ কমে এবং কাজ শুরু করাও সহজ হয়।

তার ভাষায়, “পুরো রান্নাঘর একসঙ্গে গোছানোর কথা ভাবলে সেটি বড় কাজ মনে হতে পারে। কিন্তু শুধু একটি ড্রয়ার গুছানোর কথা ভাবলে কাজটি অনেক সহজ লাগে।”

যেভাবে ঘরকে ভাগ করবেন :

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বাড়িকে সাধারণত কয়েকটি প্রধান অংশে ভাগ করা যায়।

যেমন—

রান্নাঘর ও খাবার ঘর

বসার ঘর

শোবার ঘর

বাথরুম

প্রবেশপথ বা করিডোর

প্রতিটি অংশের মধ্যেও আবার ছোট ছোট জায়গা আলাদা ‘জোন’ হিসেবে ধরা যেতে পারে। যেমন রান্নাঘরের আলমারি, ফ্রিজ, রান্নার টেবিল কিংবা থালা রাখার তাক।

ছোট বাসায় এই পদ্ধতি বেশি কার্যকর:

ছোট ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টে অনেক সময় একটি ঘরেই একাধিক কাজ করা হয়। ফলে দ্রুত অগোছালো হয়ে যায়। এ ক্ষেত্রে একটি টেবিল, একটি তাক বা একটি ক্যাবিনেটকেও আলাদা জোন হিসেবে ধরে পরিষ্কার করা যেতে পারে।
প্রতিদিন একটি করে ছোট জায়গা পরিষ্কার করলে অল্প সময়েই পুরো ঘর গুছিয়ে ফেলা সম্ভব।

কোথা থেকে শুরু করবেন:

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিষ্কার করার সময় এমন জায়গা থেকে শুরু করা ভালো যা চোখে সবচেয়ে বেশি পড়ে। অনেক সময় মেঝেতে ছড়িয়ে থাকা জিনিসপত্রই ঘরকে সবচেয়ে বেশি অগোছালো দেখায়।

তাই প্রথমে মেঝে পরিষ্কার করা বা ছড়িয়ে থাকা জিনিস সরিয়ে ফেললে ঘর দ্রুত গুছানো মনে হয়। এরপর টেবিল, খাবার টেবিল বা প্রতিদিন ব্যবহৃত জায়গাগুলো পরিষ্কার করলে ঘরের চেহারাও দ্রুত বদলে যায়।

পরিকল্পনা করলে কাজ হবে সহজ:

ঈদের আগে যদি সপ্তাহভিত্তিক পরিকল্পনা করা যায়, তাহলে কাজ আরও সহজ হয়। সপ্তাহের প্রতিদিন একটি করে অংশ পরিষ্কার করা যেতে পারে—একদিন রান্নাঘর, আরেকদিন বসার ঘর, অন্যদিন শোবার ঘর।

এভাবে ধাপে ধাপে কাজ করলে ক্লান্তি কমে এবং খুব অল্প সময়েই পুরো ঘর হয়ে ওঠে পরিষ্কার ও গোছানো।