‘প্রকৃত চুক্তি’ না মানলে ফের যুদ্ধের হুমকি: ইরানকে ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি
- আপডেট সময় ১২:০৯:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল ২০২৬
- / 17
ইরানের সাথে সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে এখনো যুদ্ধের মেঘ কাটেনি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তেহরান যদি প্রস্তাবিত ‘প্রকৃত চুক্তি’র প্রতিটি শর্ত অক্ষরে অক্ষরে পালন না করে, তবে ফের শুরু হবে সামরিক অভিযান। এমনকি ইরান শর্ত ভঙ্গ করলে এমন ভয়াবহ হামলার মুখোমুখি হবে, যা বিশ্ব আগে কখনো দেখেনি বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে ট্রাম্প এই কঠোর অবস্থান ব্যক্ত করেন। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ১০ এপ্রিল ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিতব্য শান্তি আলোচনার আগে তেহরানের ওপর মনস্তাত্ত্বিক ও সামরিক চাপ সৃষ্টি করতেই ট্রাম্প এই আল্টিমেটাম দিয়েছেন।
বিবৃতিতে ট্রাম্প জানান, যুদ্ধবিরতি চললেও মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, যুদ্ধবিমান ও অন্যান্য সামরিক সরঞ্জাম পিছু হটাবে না ওয়াশিংটন। বরং সেনাদের বর্তমানে ‘লোডিং ও রেস্টিং’ অবস্থায় রাখা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইরানের সামরিক শক্তি বর্তমানে অনেকটাই দুর্বল, অন্যদিকে মার্কিন বাহিনী অতিরিক্ত গোলাবারুদ নিয়ে পরবর্তী যেকোনো পরিস্থিতির জন্য পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে।
ট্রাম্পের পক্ষ থেকে আসা এই ‘প্রকৃত চুক্তি’র মূলে রয়েছে দুটি বিষয়—ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি স্থায়ীভাবে বন্ধ করা এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীকে নিরাপদ ও উন্মুক্ত রাখা। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না—এটি একটি চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত। এই শর্তগুলোতে ইরান দ্বিমত পোষণ করলে সাময়িক বিরতি শেষে পুনরায় ‘লড়াকু অভিযান’ শুরু হবে।
ট্রাম্পের এমন আক্রমণাত্মক বার্তায় মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যখন পাকিস্তান ও ইরান ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে, ঠিক তখনই ট্রাম্পের এই বার্তা মূলত একটি কড়া আল্টিমেটাম হিসেবে কাজ করছে। ওয়াশিংটন কেবল আলোচনার টেবিলে সীমাবদ্ধ না থেকে সামরিক শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে ইরানকে চুক্তিতে সই করতে বাধ্য করার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকা বিশ্বমঞ্চে দাপটের সাথে ফিরে এসেছে উল্লেখ করে ট্রাম্প তার বিবৃতিতে ঘোষণা করেন যে, যেকোনো পরিস্থিতিতে মার্কিন স্বার্থ রক্ষায় তারা বদ্ধপরিকর। এখন দেখার বিষয়, আগামীকালের শান্তি আলোচনায় ট্রাম্পের এই হুমকির কী প্রভাব পড়ে।























