পরকীয়া সম্পর্কের জেরে নৃশংসতা প্রেমিকাকে হত্যার পর, দেহ ফ্রিজে রাখলেন নৌবাহিনীর কর্মী
- আপডেট সময় ১২:৪৭:২৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩১ মার্চ ২০২৬
- / 38
ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের বিশাখাপত্তনমে দিল্লির ‘শ্রদ্ধা ওয়াকার’ হত্যাকাণ্ডের ছায়ায় এক নৃশংস খুনের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। স্ত্রী বাপের বাড়িতে থাকার সুযোগে প্রেমিকাকে নিজের বাসায় ডেকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর দেহ টুকরো করে ফ্রিজে লুকিয়ে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নৌবাহিনী কর্মীর বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত রবীন্দ্র (৩০) ইন্ডিয়ান নেভাল শিপ (আইএনএস) ডেগায় কর্মরত। এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডের পর অভিযুক্ত নিজেই থানায় গিয়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করেছেন।
পুলিশের প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২১ সালে একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে ৩১ বছর বয়সী মৌনিকার সঙ্গে রবীন্দ্রর পরিচয় হয়। মৌনিকা বিবাহিত হওয়া সত্ত্বেও তাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তারা নিয়মিত বিশাখাপত্তনমের বিভিন্ন পার্ক ও সিনেমা হলে দেখা করতেন। তবে ২০২৪ সালে রবীন্দ্র অন্য একজনকে বিয়ে করার পর থেকেই এই সম্পর্কে টানাপোড়েন শুরু হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
তদন্তে জানা গেছে, গত রোববার দুপুরে রবীন্দ্রর স্ত্রী বাবার বাড়িতে থাকার সুযোগে তিনি মৌনিকাকে নিজের বাসায় ডাকেন। সেখানে তাদের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হলে রবীন্দ্র তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এরপর অনলাইন থেকে ছুরি আনিয়ে দেহ কয়েক খণ্ডে বিভক্ত করা হয়। পুলিশ জানায়, মরদেহের হাত-পা ও কোমরের অংশ একটি ট্রলি ব্যাগে ভরা ছিল এবং শরীরের মূল অংশটি ফ্রিজ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
অভিযুক্ত রবীন্দ্র স্বীকারোক্তিতে জানিয়েছেন, মৌনিকার মাথা ও হাত শরীরের অন্যান্য অংশ থেকে আলাদা করে তিনি অন্য একটি স্থানে নিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফ্রিজ ও ব্যাগ থেকে দেহের বিভিন্ন অংশ উদ্ধার করলেও নিখোঁজ মস্তক উদ্ধারে বিশেষ দল গঠন করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, প্রমাণের চিহ্ন মুছে ফেলতেই দেহাংশগুলো বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল তার।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে রবীন্দ্র দাবি করেছেন, সম্পর্কের চলাকালীন মৌনিকা তার কাছ থেকে প্রায় সাড়ে তিন লাখ রুপি নিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তাদের সম্পর্কের কথা রবীন্দ্রর স্ত্রীকে জানিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়ে মৌনিকা প্রায়ই তাকে চাপ দিতেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এই ধারাবাহিক বিবাদ ও মানসিক চাপের কারণেই তিনি এই হত্যার পরিকল্পনা করেন বলে দাবি অভিযুক্তের।
বিশাখাপত্তনম পুলিশ এই ঘটনায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছে। ফরেনসিক দল ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করেছে। নিখোঁজ দেহাংশ উদ্ধারে তল্লাশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনাটি ২০২২ সালে দিল্লিতে ঘটে যাওয়া আলোচিত শ্রদ্ধা ওয়াকার হত্যাকাণ্ডের কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে, যেখানে আফতাব আমিন পুনাওয়ালা একই কায়দায় তার সঙ্গীকে হত্যা করে দেহ ফ্রিজে রেখেছিলেন।
























