বছরের প্রতিরক্ষা চুক্তি, পারস্য উপসাগরে ইউক্রেনীয় প্রযুক্তিতে ঠেকানো হবে ইরানি ড্রোন
- আপডেট সময় ১১:৫৮:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৯ মার্চ ২০২৬
- / 44
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হুমকির মুখে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা জোরদারে একমত হয়েছে ইউক্রেন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কাতার। শনিবার (২৮ মার্চ) আবুধাবি ও দোহায় পৃথক দুটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠক শেষে এই কৌশলগত জোটের ঘোষণা দেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। এই চুক্তির ফলে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় ইউক্রেনের যুদ্ধকালীন অভিজ্ঞতা যুক্ত হতে যাচ্ছে।
সফরের শুরুতে ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট আবুধাবিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ানের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠক পরবর্তী এক বিবৃতিতে জেলেনস্কি জানান, দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত কারিগরি বিষয়গুলো চূড়ান্ত করতে দ্রুতই বিশেষজ্ঞরা কাজ শুরু করবেন। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংকটে জানমাল রক্ষায় ইউক্রেনের অর্জিত বিশেষ অভিজ্ঞতা আমিরাতের সুরক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহৃত ইরানি তৈরি ‘শাহেদ’ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনীয় সামরিক বাহিনীর অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে উপসাগরীয় দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও নিশ্ছিদ্র করতে ইউক্রেন কারিগরি সহায়তা দেবে। ইতোমধ্যে একদল ইউক্রেনীয় বিশেষজ্ঞ সংযুক্ত আরব আমিরাতে অবস্থান করছেন বলে খবর পাওয়া গেছে, যারা মূলত ড্রোন বিধ্বংসী প্রযুক্তির আধুনিকায়ন নিয়ে কাজ করছেন।
আমিরাত সফর শেষে জেলেনস্কি কাতারের রাজধানী দোহায় দেশটির শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে কাতার ও ইউক্রেনের মধ্যে একটি নতুন প্রতিরক্ষা সহযোগিতা চুক্তি সই হয়। কাতার সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এই চুক্তির আওতায় প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, যৌথ সামরিক প্রকল্প এবং ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা উন্নত করতে বিনিয়োগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে। জেলেনস্কির ভাষ্যমতে, দুই দেশ অন্তত আগামী ১০ বছরের জন্য একটি শক্তিশালী প্রতিরক্ষা অংশীদারিত্বে উপনীত হয়েছে।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কাতার ও আমিরাতের মতো দেশগুলো এখন বিকল্প প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। অন্যদিকে, ইউক্রেন যুদ্ধের ময়দানে পরীক্ষিত প্রযুক্তি ও কৌশল বিনিময় করে মধ্যপ্রাচ্যের প্রভাবশালী দেশগুলোর সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি কূটনৈতিক ও সামরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চাইছে।
























