ট্রাম্পের শুল্ক সিদ্ধান্ত বাতিল, মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় পরাজয়
- আপডেট সময় ১১:১৬:৫২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 21
শুল্ক নিয়ে মার্কিন সুপ্রিম কোর্টে বড় ধাক্কা খেলেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত শুক্রবার (২০ ফেব্রুয়ারি) এক ঐতিহাসিক রায়ে মার্কিন শীর্ষ আদালত জানিয়ে দিয়েছে, ‘বিশ্বের বিভিন্ন দেশের উপরে ইচ্ছে খুশিমতো শুল্ক আরোপের কোনও এক্তিয়ার নেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট। গ্লোবাল ট্যারিফের নামে তিনি যা করছেন তা অবৈধ।’
কূটনীতিবিদ এবং আর্থিক বিশেষজ্ঞদের দাবি, এই রায়ের ফলে বাংলাদেশ-সহ কোনও দেশকেই আর ট্রাম্পের আরোপিত শুল্ক দিতে হবে না।’
গত বছরের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্টের আসনে বসেই বিভিন্ন দেশের উপরে নিজের মনমতো শুল্ক আরোপ করতে শুরু করেছেন। কার্যত বিভিন্ন দেশকে ব্ল্যাকমেলিং করে মার্কিন সংস্থাগুলোর জন্য বিশেষ সুবিধা আদায়ে ইচ্ছেমতো কর বসাতে শুরু করেছিলেন। ভারত-চীন-ব্রাজিল সহ অপছন্দের দেশগুলির উপরে ২৫ থেকে ১০০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে আমদানি বন্ধের পাঁয়তারা কষছিলেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এক নিম্ন আদালত এ বিষয়ে রায় দিতে গিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের শুল্ক চাপানোকে অবৈধ আখ্যা দিয়েছিল। ফলে মামলা গড়িয়েছিল শীর্ষ আদালতে।
দীর্ঘ শুনানির পরে এদিন শীর্ষ আদালতের প্রধান বিচারপতি জন রবার্টসের নেতৃত্বাধীন ৯ বিচারপতির বেঞ্চ ট্রাম্পের শুল্ক চাপানো নিয়ে রায় দেয়। যদিও বিচারপতিরা রায় দিতে গিয়ে দ্বিধাবিভক্ত হয়ে পড়েছেন। ৬ বিচারপতি জানিয়েছেন, ‘ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন (IEEPA) ব্যবহার করে বিশাল আমদানি কর আরোপ করে তার অধিকারের অপব্যবহার করেছেন। নিম্ন আদালত এ বিষয়ে যে রায় দিয়েছে তা সঠিক।’
উল্লেখ্য, ‘১৯৭৭ সালে প্রণীত আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে রাষ্ট্রপতিকে জাতীয় জরুরি অবস্থার সময় বাণিজ্য নিয়ন্ত্রণ করার অনুমতি দেওয়া হয়েছে। বিচারপতিরা বলেছেন, ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনে আলাদাভাবে রাষ্ট্রপতির শুল্ক নির্ধারণের অধিকারের কথা উল্লেখ নেই।’
মার্কিন সংবিধান অনুযায়ী কর ও শুল্ক আরোপের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে। কিন্তু কংগ্রেসকে পাশ কাটিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইনের (IEEPA) অপব্যবহার করে প্রায় সব দেশের উপরেই শুল্ক চাপিয়ে দিয়েছেন। এর ফলে আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাত ঘটার পাশাপাশি বিভিন্ন দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কেরও অবনতি ঘটেছে। এদিন রায় দিতে গিয়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস স্পষ্ট ভাষায় লিখেছেন, ‘শুল্ক আরোপের মতো বড় সিদ্ধান্ত নিতে হলে কংগ্রেসের অনুমোদন নিতে হয়। কিন্তু ট্রাম্প তা নেননি।’
























