নাউরু: বিশ্বের ক্ষুদ্রতম দ্বীপ রাষ্ট্রগুলোর একটি
- আপডেট সময় ০২:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 21
নাউরু হলো প্রশান্ত মহাসাগরের একটি ছোট দ্বীপ দেশ। এটি ওশেনিয়া মহাদেশের মাইক্রোনেশিয়া অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত। আয়তনের দিক থেকে নাউরু বিশ্বের অন্যতম ক্ষুদ্র রাষ্ট্র। এর কোনো আনুষ্ঠানিক রাজধানী নেই, তবে সরকারি দপ্তরগুলো ইয়ারেন জেলায় অবস্থিত।
ইতিহাসের শুরুতে, নাউরুতে মাইক্রোনেশীয় ও পলিনেশীয় জনগোষ্ঠীর বসতি ছিল। ১৯শ শতকে ইউরোপীয়দের আগমন ঘটে। পরে এটি জার্মানির উপনিবেশে পরিণত হয়। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাজ্যের যৌথ তত্ত্বাবধানে যায়। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জাপান দখল করে। অবশেষে ১৯৬৮ সালে নাউরু স্বাধীনতা লাভ করে।
স্বাধীনতার পর নাউরু ফসফেট খনিজ সম্পদের কারণে একসময় খুব ধনী দেশ হিসেবে পরিচিত হয়। কিন্তু অতিরিক্ত খননের ফলে প্রাকৃতিক সম্পদ প্রায় শেষ হয়ে যায় এবং দেশের অর্থনীতি সংকটে পড়ে। বর্তমানে দেশটি বিদেশি সহায়তা ও বিভিন্ন চুক্তির ওপর নির্ভরশীল।
রাজনৈতিকভাবে, নাউরু একটি প্রজাতন্ত্র। এখানে প্রেসিডেন্ট রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হন। ছোট দেশ হওয়ায় রাজনৈতিক কাঠামো তুলনামূলক সরল, তবে অর্থনৈতিক সীমাবদ্ধতা বড় চ্যালেঞ্জ।
নাগরিক সুবিধার ক্ষেত্রে, প্রাথমিক শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা রয়েছে। কিন্তু উন্নত চিকিৎসা ও বিশেষায়িত সেবার জন্য নাগরিকদের বিদেশে যেতে হয়। বড় সমস্যা হলো পরিবেশগত ক্ষতি। ফসফেট খননের ফলে দ্বীপের ভেতরের বড় অংশ বসবাসের অযোগ্য হয়ে গেছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তন ও সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধিও ভবিষ্যতের জন্য ঝুঁকি।
ধর্মীয় দিক থেকে, নাউরুর অধিকাংশ মানুষ খ্রিস্টান। মুসলিম জনসংখ্যা খুবই কম।
ভ্রমণ ও পর্যটনের ক্ষেত্রে, নাউরু খুব বেশি পর্যটন নির্ভর নয়। এখানে সুন্দর সমুদ্রতট, সামুদ্রিক জীবন ও শান্ত পরিবেশ রয়েছে। তবে সীমিত ফ্লাইট ও অবকাঠামোগত ঘাটতির কারণে পর্যটন এখনো ছোট পরিসরে রয়েছে।
সব মিলিয়ে, নাউরু একটি ছোট দ্বীপ দেশ, যার ইতিহাসে অর্থনৈতিক উত্থান ও পতনের গল্প রয়েছে। প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার এবং পরিবেশ রক্ষা ভবিষ্যতে এ দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।


























