লাফিয়ে পড়ে ৩ বোনের মৃত্যু, ৬ দিন পর খুলল রহস্যের জট
- আপডেট সময় ১০:৫৭:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
- / 123
ভারতের উত্তর প্রদেশের গাজিয়াবাদে তিন বেডরুমের ফ্ল্যাট থেকে তিন কিশোরীর একসঙ্গে আত্মহত্যার ঘটনার তদন্তে বেরিয়ে আসছে একের পর এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। গত বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) ভারত সিটির একটি আবাসিক ভবনের নবম তলা থেকে লাফিয়ে প্রাণ হারায় পাখি (১২), প্রাচী (১৪) ও নিশিকা (১৬)। প্রাথমিকভাবে বলা হয়েছিল, গেমিং আসক্তির কারণে বাবা-মা মোবাইল ফোন কেড়ে নেওয়ায় তারা আত্মহত্যা করেছিল। খবর এনডিটিভির।
তবে হৃদয়বিদারক ঘটনার ছয়দিন পর তদন্তে জানা গেছে, বিষয়টি শুধু গেমিং আসক্তিতে সীমাবদ্ধ নয়। নিহতদের বাবা চেতন কুমারের পারিবারিক জীবন ছিল অত্যন্ত জটিল। তিনি তিনজন নারীকে বিয়ে করেছেন এবং পাঁচ সন্তানসহ নয়জন মানুষ একটি মাত্র ঘরে থাকতেন। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, চেতন কুমারের বিয়ের সময়কাল ও কারণ নিয়ে তার বক্তব্যে একাধিক অসঙ্গতি রয়েছে।
পুলিশ জানায়, প্রথম স্ত্রী সুজাতার সঙ্গে তার এক মেয়ে ও মানসিক প্রতিবন্ধী এক ছেলে রয়েছে। পরে সুজাতার বোন হিনাকে বিয়ে করেন এবং সেই সংসারে জন্ম নেয় দুই মেয়ে-যারা এই ঘটনায় প্রাণ হারায়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে টিনা নামের রহস্যময়ী আরেক নারীকে বিয়ে করেন চেতন কুমার। সেই সংসারে তিন বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। পুলিশ বলছে, সব বিয়েতেই সংশ্লিষ্ট নারীদের ‘সম্মতি’ ছিল বলে দাবি করা হয়েছে।
ময়নাতদন্তে নিশ্চিত করা হয়েছে, তিন কিশোরীর মৃত্যু হয়েছে মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে এবং যৌন নির্যাতনের কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। পুলিশ তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন উদ্ধার করে ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়েছে। এছাড়া একটি ৩০ পাতার ডায়েরি পাওয়া গেছে, যেখানে মোবাইল ও কোরিয়ান গেম, কেপপ ও নাটক দেখার সুযোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় হতাশার কথা লেখা ছিল।
পুলিশ আরও জানায়, চেতন কুমারের প্রায় দুই কোটি রুপির ঋণ ছিল। আর্থিক সংকটের কারণে তিনি মেয়েদের স্কুলেও পাঠাননি এবং বিদ্যুৎ বিল পরিশোধের জন্য তাদের একটি মোবাইল ফোন বিক্রি করেছিলেন। এই ঘটনায় তদন্ত চলমান রয়েছে।
























